বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের বড় সাফল্য! ২০২৬ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারে আমেরিকাকে পিছনে ফেলার দাবি
নয়াদিল্লি: বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান উত্থান নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালে বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতিগুলির মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারে ভারত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এবং এই ক্ষেত্রে আমেরিকাকে পিছনে ফেলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। দ্রুত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ, অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নকে ভারতের এই অগ্রগতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিষেবা ক্ষেত্রের সম্প্রসারণ, ডিজিটাল পরিকাঠামোর উন্নতি, সরকারি বিনিয়োগ এবং উৎপাদন শিল্পের বিকাশ দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি, বিপুল অভ্যন্তরীণ বাজার, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। আগামী দিনে শিল্প, প্রযুক্তি, উৎপাদন ও রপ্তানি ক্ষেত্রে আরও উন্নতি হলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ২০২৬ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারে ভারতের দ্বিতীয় স্থানে থাকা এবং আমেরিকাকে পিছনে ফেলার দাবিটি যাচাই করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির প্রকাশিত পরিসংখ্যান ও পূর্বাভাস খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ, কোনও দেশের অর্থনীতির মোট আকার এবং জিডিপি বৃদ্ধির হার এক বিষয় নয়। অর্থনীতির আকার বলতে মোট উৎপাদনের পরিমাণ বোঝায়, আর প্রবৃদ্ধির হার নির্দিষ্ট সময়ে সেই উৎপাদন কতটা বেড়েছে, তা নির্দেশ করে। একইভাবে, কোন কোন দেশকে তুলনার আওতায় রাখা হচ্ছে, তার উপরও ক্রমতালিকা নির্ভর করে। ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি দেশের জন্য ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি করলেও প্রকৃত সাফল্য বিচার করতে মাথাপিছু আয়, কর্মসংস্থান, মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার উন্নতিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাই শুধু জিডিপি বৃদ্ধির হার নয়, সেই বৃদ্ধির সুফল কতটা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।