ArchiveIssue Home100%

7

2026-10-22 · Issue No. 7
জেলার বার্তা
চোরবাগান দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের পাশে শুভেন্দু অধিকারী, শোকাহত পরিজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা: চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানালেন শুভেন্দু অধিকারী। আগরাপাড়ায় মৃত প্রাঞ্জল সরকার, বরানগরে দিলীপ ঘোষ ও দীপালী ঘোষ এবং নিউ ব্যারাকপুরে প্রিয়া সমাদ্দারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। শোকস্তব্ধ পরিবারগুলির পাশে থাকার বার্তাও দেন। এই দুর্ঘটনায় প্রিয়জনকে হারিয়ে গভীর শোকের মধ্যে রয়েছেন পরিজনেরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উৎসবের সময় নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিজয়ার শুভেচ্ছায় নতুন বাংলা গড়ার ডাক দিলীপ ঘোষের, শান্তি-শৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বার্তা
নিজস্ব সংবাদদাতা: দুর্গাপুজো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে নতুন বাংলা গড়ার আহ্বান জানালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সাহিত্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে রাজ্যে শান্তি, শৃঙ্খলা, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনার বার্তা দিয়েছেন তিনি। দুর্গাপুজো বাংলার মানুষের কাছে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, সামাজিক মিলন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। পুজোকে কেন্দ্র করে শিল্পী, কারিগর, ব্যবসায়ীসহ বহু মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক
Issue No. 7
কলকাতার বাজে কদমতলা ঘাট পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, ঘাটের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখলেন
কলকাতা: কলকাতার বাজে কদমতলা ঘাট পরিদর্শন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘাটের সামগ্রিক পরিস্থিতি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধা খতিয়ে দেখার বিষয়টি এই পরিদর্শনকে ঘিরে গুরুত্ব পেয়েছে। গঙ্গার তীরবর্তী এই ঘাট ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পুণ্যস্নান এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য বহু মানুষের কাছে পরিচিত।
মুখ্যমন্ত্রীর এই পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে ঘাটের পরিকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবার বিষয়গুলি আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে পরিদর্শনের সময় ঠিক কোন কোন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সরকারি তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। কলকাতার গঙ্গার ঘাটগুলি শহরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক
দিল্লি হাইকোর্টে CJP-র দুই নেতাকে ‘You are not Gen Z’ মন্তব্য বিচারপতির, হেফাজত মামলায় চর্চা
নয়াদিল্লি: CJP-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার হেফাজত সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে ‘You are not Gen Z’ মন্তব্য করলেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি সুব্রামোনিয়াম প্রসাদ। দুই নেতার বয়স প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেন তিনি বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে। জন্তর-মন্তরে বিক্ষোভের ঘটনায় আটক হওয়ার পর তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা। শুনানিতে নিম্ন আদালতে যাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন সরাসরি হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রথমে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইনি প্রতিকারের সুযোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রয়োজনে পরবর্তী পর্যায়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পথও খোলা থাকবে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জন্তর-মন্তরে প্রবেশ এবং শান্তি বজায় রাখার বন্ডের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই নেতাকে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারীরা। তবে অভিযোগগুলিকে এখনও প্রমাণিত সত্য হিসেবে দেখা যায় না। শুনানিতে বিচারপতির ‘You are not Gen Z’ মন্তব্যটি ঘিরে বিশেষ চর্চা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, নিম্ন আদালতে আইনি প্রতিকারের সুযোগ ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। শুনানির শেষ পর্যায়ে দুই নেতার আইনজীবীরা হাইকোর্টে দায়ের করা আবেদন প্রত্যাহার করেন বলে জানা গিয়েছে। বিকল্প আইনি পথ অনুসরণের সুযোগ রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ এখন সংশ্লিষ্ট আদালতের কার্যক্রমের উপর নির্ভর করছে।
দৈনিক সংবাদপত্র
Vol: 4
Thursday, 22 October 2026
WB-18-0064025
zillarbarta@gmail.com
www.zillarbarta.com
টুকরো খবর
এরপর ৩-র পাতায়
মূল্যঃ ৫ টাকা
এর পর ৩-র পাতায়
আধুনিক প্রযুক্তিতে মাছ চাষে নতুন দিশা! কম জায়গায় বেশি উৎপাদন, বাড়ছে লাভের সম্ভাবনা
নিজস্ব সংবাদদাতা: বাংলার অর্থনীতি ও গ্রামীণ জীবিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র মৎস্যচাষ। মাছের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে মাছ চাষের প্রতি আগ্রহও বাড়ছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, উন্নত জল ব্যবস্থাপনা এবং

ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে কম জায়গায় পরিকল্পিতভাবে মাছ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে বায়োফ্লক ও RAS-এর মতো আধুনিক পদ্ধতি মৎস্যচাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে উপকারী অণুজীবের সাহায্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হয়। অন্যদিকে, RAS পদ্ধতিতে পরিশোধিত জল পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব। তবে এই প্রযুক্তিগুলির জন্য প্রশিক্ষণ, নিয়মিত নজরদারি এবং উপযুক্ত পরিকাঠামো প্রয়োজন। মাছের সুস্থ বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে জলে পর্যাপ্ত অক্সিজেন বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এয়ারেটর, স্বয়ংক্রিয় ফিডার এবং সেন্সরের সাহায্যে জলের গুণমান ও খাদ্য সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ফলে খাদ্যের অপচয় কমানো এবং মাছের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সহজ হয়। পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ এলাকায় আধুনিক মৎস্যচাষ কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে বেশি উৎপাদন মানেই নিশ্চিত লাভ নয়। পোনার দাম, খাবারের খরচ, বিদ্যুৎ, বাজারদর এবং রোগের ঝুঁকি বিবেচনা করেই প্রকল্প শুরু করা উচিত। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নিয়ে ছোট পরিসরে চাষ শুরু করা তুলনামূলক নিরাপদ। সঠিক পরিকল্পনা, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলতে পারলে আধুনিক মাছ চাষ বাংলার মৎস্যশিল্পে নতুন দিশা দেখাতে পারে।
খুঁজে বেড়াই মানুষ
কলকাতার দুর্গাপুজোর জাঁকজমকে মুগ্ধ অস্ট্রেলিয়ার হাই কমিশনার ফিলিপ গ্রিন, বললেন ‘পৃথিবীর অন্যতম সেরা উৎসব
কলকাতা: বাংলার দুর্গাপুজোর আকর্ষণ যে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, তা আরও একবার উঠে এল অস্ট্রেলিয়ার হাই কমিশনার ফিলিপ গ্রিনের পুজো পরিক্রমাকে ঘিরে। কলকাতার শারদোৎসবের জাঁকজমক, চোখধাঁধানো মণ্ডপসজ্জা, প্রতিমার শিল্পকলা এবং আলোর রোশনাই তাঁকে মুগ্ধ করেছে বলে জানা গিয়েছে। দুর্গাপুজোকে ‘পৃথিবীর অন্যতম সেরা উৎসব’ বলে প্রশংসা করার কথা তাঁর নামে প্রচারিত হয়েছে।
কলকাতার দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি শিল্প, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলা। অভিনব থিমের মণ্ডপ, শিল্পীদের সৃজনশীলতা, পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার এবং ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন এই উৎসবকে আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে। পুজোর সময় কলকাতার রাস্তায় দেশ-বিদেশের অসংখ্য দর্শনার্থীর ভিড় জমে। ঢাকের আওয়াজ, ধুনুচি নাচ, প্রতিমার সৌন্দর্য এবং মানুষের উচ্ছ্বাস মিলিয়ে শহর হয়ে ওঠে এক বিশাল সাংস্কৃতিক উৎসবের কেন্দ্র। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অংশগ্রহণ দুর্গাপুজোকে আরও সর্বজনীন করে তুলেছে। ফিলিপ গ্রিনের প্রতি আরোপিত এই প্রশংসা বাঙালির কাছে গর্বের বিষয়। বিদেশি কূটনীতিকদের পুজো পরিক্রমা বাংলার ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতাকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে।
উৎসবের আনন্দে নিরাপত্তার দায়িত্ব সবার
দুর্গাপুজোর আনন্দ শেষে এসেছে বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী বিদায় নিলেও, উৎসবের সময় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা ও চোরাবাগান-কাণ্ড জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। উৎসবের আয়োজন যত বড় হচ্ছে, নিরাপত্তার প্রস্তুতিও কি সেই অনুপাতে বাড়ছে? বিসর্জনের সময় নদী, পুকুর ও ঘাটে বিপুল ভিড় হয়। সামান্য অসতর্কতা কিংবা ব্যবস্থাপনার ত্রুটি বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। দুর্ঘটনার পর রাজনৈতিক দোষারোপ নয়, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণ জরুরি। আয়োজক, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের ভূমিকা খতিয়ে দেখেই ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি নজরদারি, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী, লাইফ জ্যাকেট, পর্যাপ্ত আলো ও জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। স্পিডবোট ও উদ্ধারকারী নৌকার পাশাপাশি বিসর্জনের পথ এবং ঘাটে মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ নজর দিতে হবে। প্রশাসন, পুজো উদ্যোক্তা ও স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, দুর্ঘটনার পরে তৎপর হওয়ার বদলে আগে থেকেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও মানুষের জীবনের প্রশ্নে সকলকে দায়িত্বশীল হতে হবে। কারণ উৎসবের সার্থকতা শুধু আনন্দে নয়, প্রতিটি মানুষের নিরাপদে বাড়ি ফেরার মধ্যেও।
সম্পাদকীয়
বিচার কোথায়?’ নির্যাতিতার পরিবারের পাশে অধীর, অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন
নিজস্ব সংবাদদাতা: নির্যাতিতার পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবি নিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। নির্বাচনের আগে পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হলেও ভোট মিটতেই পরিবারটির সমস্যার সমাধানে প্রত্যাশিত উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁর। এই পরিস্থিতিতে তাঁর প্রশ্ন, নির্যাতিতার পরিবার কবে ন্যায়বিচার পাবে?


অধীরের দাবি, নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেও দেখা করার সুযোগ পাননি। এই ঘটনা তুলে ধরে তিনি সরকারের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে ব্যবধান রয়েছে বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবাদ জানালে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে, অথচ নির্যাতিতার পরিবারের বিচার পাওয়ার অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে ‘সরকারি প্রহসন’ এবং ‘ডবল ইঞ্জিন সরকারের বাস্তব চিত্র’ বলেও আক্রমণ করেছেন তিনি। অধীর রঞ্জন চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্যাতিতার পরিবারের পাশে তাঁরা ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তাঁর বক্তব্য, ন্যায়বিচারের দাবি কোনও সাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নয়। পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের দাবি তুলে ধরা জরুরি। তবে অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়ার অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট মামলার বর্তমান অবস্থা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গেলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে। সব মিলিয়ে, নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে অধীর সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এখন দেখার, পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।
চোরবাগান-কাণ্ডে চিকিৎসকদের ডিউটি নিয়ে রিপোর্ট তলব মুখ্যমন্ত্রীর
কলকাতা:চোরবাগান পদপিষ্ট-কাণ্ডের পর কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের কয়েকজন চিকিৎসকের সাংবাদিক বৈঠককে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই চিকিৎসকেরা সাংবাদিক বৈঠকের সময় কর্তব্যরত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য দফতরের কাছে রিপোর্ট চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা। ঘটনার দিন সাংবাদিকদের সামনে যাঁরা বক্তব্য রেখেছিলেন, তাঁদের ছবি দেখে চিহ্নিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ডিউটির সময়সূচি যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকের সময় তাঁরা সরকারি দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন কি না, রিপোর্টে তা স্পষ্ট করার কথা। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা নির্ধারিত ডিউটির সময় সাংবাদিক বৈঠকে অংশ নিয়ে থাকলে তা সার্ভিস রুলের পরিপন্থী কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট বিধি, পরিস্থিতি এবং চিকিৎসকদের দায়িত্বের প্রকৃতি বিবেচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। এখন স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্টের দিকেই নজর। রিপোর্টে কী তথ্য উঠে আসে এবং তার ভিত্তিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, তা আগামী দিনে স্পষ্ট হবে। রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার আগে কোনও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতি বা নিয়মভঙ্গের অভিযোগকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যায় না।
সুগন্ধে মাতোয়ারা বাংলার কৃষিক্ষেত্র! ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধী ধান ‘রাধুনিপাগল’ চাষে বাড়ছে আগ্রহ
নিজস্ব সংবাদদাতা: বাংলার কৃষি ঐতিহ্যের অন্যতম আকর্ষণ সুগন্ধী ধান ‘রাধুনিপাগল’। রান্নার সময় ছড়িয়ে পড়া মনমাতানো সুবাস ও বিশেষ স্বাদের জন্য এই ধানের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। দেশীয় সুগন্ধী চালের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ায় ঐতিহ্যবাহী এই ধানের সংরক্ষণ ও চাষ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে মাটি, আবহাওয়া ও কৃষকদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে নানা দেশীয় ধানের চাষ হয়ে আসছে। রাধুনিপাগল সেই কৃষি বৈচিত্র্যেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিক কৃষিতে উচ্চফলনশীল ধানের পাশাপাশি এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী জাত সংরক্ষণ করাও জরুরি।
সুগন্ধী চালের বাজারে নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করতে পারলে কৃষকদের সামনে নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে চাষের লাভ নির্ভর করবে জমির উপযোগিতা, ফলন, উৎপাদন খরচ, চালের গুণমান ও বাজারদরের উপর। তাই চাষের আগে কৃষি দপ্তর বা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বীজের বিশুদ্ধতা, জমির প্রস্তুতি, সার ও জল ব্যবস্থাপনা, রোগপোকা নিয়ন্ত্রণ এবং ফসল কাটার পর সঠিকভাবে শুকানো ও সংরক্ষণ—সব ক্ষেত্রেই বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন প্যাকেজিং, নির্ভরযোগ্য বাজার এবং সমবায়ের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা কৃষকদের সুবিধা বাড়াতে পারে। রাধুনিপাগলের মতো দেশীয় সুগন্ধী ধানের সংরক্ষণ মানে শুধু একটি ফসলকে বাঁচিয়ে রাখা নয়, বাংলার কৃষি ঐতিহ্য ও খাদ্যসংস্কৃতিকেও ধরে রাখা। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী চাষপদ্ধতির সমন্বয় এবং উপযুক্ত বাজারের সংযোগ গড়ে উঠলে এই ধান বাংলার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার পথ খুলতে পারে।
২।
Thursday, 22 October 2026
কলকাতার বাজে কদমতলা ঘাট পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, ঘাটের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখলেন
জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন বহু মানুষ গঙ্গাস্নান, পুজো-অর্চনা এবং অন্যান্য ধর্মীয় কাজের জন্য ঘাটে আসেন। বিশেষ বিশেষ তিথি ও উৎসবের সময় দর্শনার্থীদের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। ফলে ঘাটের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সিঁড়ি ও চলাচলের পথ নিরাপদ রাখা এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজে কদমতলা ঘাটের মতো জনবহুল স্থানে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি গঙ্গার জল ও নদীতীর পরিষ্কার রাখার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। ঘাটে আসা মানুষের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গার ঘাটে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সের মানুষ যাতায়াত করেন। তাঁদের মধ্যে প্রবীণ নাগরিক, শিশু এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরাও থাকেন। তাই ঘাটের সিঁড়ি, প্রবেশপথ, পানীয় জল, আলোকসজ্জা এবং পরিচ্ছন্নতার মতো বিষয়গুলি সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। প্রশাসনিক পরিদর্শনের ক্ষেত্রে এই পরিষেবাগুলির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়নের সুযোগ চিহ্নিত করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ঘাটের আশপাশে যান চলাচল, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিষেবার প্রবেশপথ সচল রাখার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। গঙ্গার তীরবর্তী এলাকাগুলির উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে একাধিক প্রশাসনিক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা থাকতে পারে। পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য অপসারণ, নদীতীরের সুরক্ষা এবং জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী পরিকাঠামো বজায় রাখতে নিয়মিত সমন্বয় প্রয়োজন।
৩।
IRCTC-তে ৪৪টি অ্যাপ্রেন্টিস পদে নিয়োগ, আবেদন ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর। ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC)-এর ইস্ট জোনে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ৪৪টি অ্যাপ্রেন্টিস পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। স্নাতক এবং আইটিআই উত্তীর্ণ প্রার্থীরা এই প্রশিক্ষণমূলক নিয়োগে আবেদন করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী,


মোট শূন্যপদের মধ্যে ৩৪টি গ্র্যাজুয়েট অ্যাপ্রেন্টিস এবং ১০টি কম্পিউটার অপারেটর অ্যান্ড প্রোগ্রামিং অ্যাসিস্ট্যান্ট (COPA) পদ রয়েছে। গ্র্যাজুয়েট অ্যাপ্রেন্টিস পদে নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক ১২,৩০০ টাকা এবং COPA পদে নির্বাচিতরা ৯,৬০০ টাকা করে স্টাইপেন্ড পাবেন। উভয় ক্ষেত্রেই প্রশিক্ষণের মেয়াদ ১২ মাস। গ্র্যাজুয়েট পদে আবেদনের জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বরসহ স্নাতক হতে হবে। অন্যদিকে, COPA পদের ক্ষেত্রে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ট্রেডে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে ITI শংসাপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সাধারণ প্রার্থীদের বয়স ১৫ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। সংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থীরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বয়সের ছাড় পাবেন। আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীদের ৯ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। সেই তালিকা অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে প্রার্থী বাছাইয়ের পর নথিপত্র যাচাই করে চূড়ান্ত নির্বাচন করা হবে। আবেদন করার আগে যোগ্যতার শর্ত, বয়সের সীমা, প্রয়োজনীয় নথি এবং অন্যান্য নিয়মাবলি IRCTC-র সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া জরুরি। উল্লেখ্য, এটি অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রশিক্ষণ, তাই প্রশিক্ষণ শেষে স্থায়ী চাকরি পাওয়ার কোনও নিশ্চয়তা নেই।
কর্মক্ষেত্র
Thursday, 22 October 2026
প্রতিদিন একটি আপেল ডাক্তারকে দূরে রাখে! জেনে নিন আপেল খাওয়ার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা
স্বাস্থ্য ডেস্ক: “প্রতিদিন একটি আপেল খেলে ডাক্তারকে দূরে রাখা যায়”—প্রচলিত এই প্রবাদটির আক্ষরিক অর্থ পুরোপুরি সত্য না হলেও আপেলের পুষ্টিগুণ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যআঁশ, ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ আপেল সুষম খাদ্যতালিকার একটি উপকারী ফল।
আপেল খাওয়ার অন্যতম সুবিধা হল হজমে সহায়তা করা। এতে থাকা পেকটিনজাতীয় খাদ্যআঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দ্রবণীয় আঁশ রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে, যা হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। ওজন নিয়ন্ত্রণেও আপেল উপকারী জলখাবার হতে পারে। একটি মাঝারি আপেলে প্রায় ৯৫ ক্যালোরি থাকে। জল ও আঁশ থাকার কারণে এটি খাওয়ার পর কিছুক্ষণ পেট ভরা অনুভূত হয়। আপেলের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরের কোষকে


অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। এতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া আপেলের আঁশ অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করতে পারে। আপেলে থাকা জল শরীরের জল গ্রহণে অবদান রাখে। এর উদ্ভিজ্জ উপাদান নিয়ে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য সম্পর্কেও গবেষণা চলছে, যদিও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি বা ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে এর সরাসরি উপকার এখনও নিশ্চিত নয়। আপেল চিবিয়ে খেলে লালারস নিঃসরণ বাড়তে পারে, তবে এটি দাঁত পরিষ্কারের বিকল্প নয়। কর্মব্যস্ত জীবনে বিস্কুট, মিষ্টি বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে আপেল খাওয়া স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপেল ভালোভাবে ধুয়ে খোসাসহ খাওয়া যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা বা আপেলে অ্যালার্জি থাকলে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা জরুরি। মনে রাখতে হবে, শুধু আপেল খেলেই সব রোগ দূরে থাকে না। সুস্থ থাকতে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত শরীরচর্চাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিজয়ার শুভেচ্ছায় নতুন বাংলা গড়ার ডাক দিলীপ ঘোষের, শান্তি-শৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বার্তা
কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হয়। উৎসবের আনন্দকে সঙ্গী করেই রাজ্যের উন্নয়নে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্যে বাংলার ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানো জরুরি বলে তাঁর বার্তার তাৎপর্য থেকে উঠে এসেছে। দিলীপ ঘোষের মতে, রাজ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, আইনের শাসন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। বাংলাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে সমস্ত বাধা কাটিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তাঁর শুভেচ্ছাবার্তায় উঠে এসেছে। বিজয়া দশমী বিদায়ের বেদনার পাশাপাশি নতুন আশার বার্তা নিয়ে আসে। সেই আবহেই মা দুর্গার আশীর্বাদ নিয়ে সুস্থ, সবল ও সমৃদ্ধ বাংলা গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর এই বার্তায় উৎসবের শুভেচ্ছার পাশাপাশি রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির ভাবনাও গুরুত্ব পেয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বনেদি বাড়িতে নির্বিঘ্নে সিঁদুর খেলা, মনোরম আবহে উৎসবমুখর বিজয়া দশমী
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মনোরম আবহাওয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন বনেদি বাড়িতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হল বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলা ও দেবীবরণ। বারুইপুর, জয়নগর, মথুরাপুর ও ডায়মন্ড হারবারের বিভিন্ন প্রাচীন বাড়িতে ঢাকের শব্দ, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুজো প্রাঙ্গণ। প্রথা মেনে দেবী দুর্গাকে সিঁদুর ও মিষ্টি নিবেদন করে বিদায় জানান মহিলারা। এরপর একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। চার দিনের উৎসব শেষে মাকে বিদায় জানানোর মুহূর্তে আনন্দের পাশাপাশি দেখা যায় বিষাদের আবহ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্য বনেদি বাড়িগুলিতে আজও অমলিন। সিঁদুর খেলা ও দেবীবরণের মধ্য দিয়ে আরও একটি দুর্গোৎসবের সমাপ্তির পথে এগিয়ে চলেছে জেলা। সকলের মনে এখন একটাই প্রার্থনা, আগামী বছর আবার ফিরে আসুন উমা।
বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্তের চোখরাঙানি! অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে নিম্নচাপের আশঙ্কা, নজরে বাংলার উপকূল
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সম্ভাবনা ঘিরে সতর্ক নজর রাখছেন আবহবিদরা। ২১ অক্টোবরের আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর নাগাদ দক্ষিণ-পূর্ব ও সংলগ্ন মধ্য-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। পরবর্তী সময়ে সেটি শক্তি বাড়াবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।


সম্ভাব্য নিম্নচাপের প্রভাবে বাংলার উপকূলবর্তী এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। তবে ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়বে, এমন কোনও নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই। নিম্নচাপ তৈরি হওয়া মানেই ঘূর্ণিঝড় নয়।মৎস্যজীবী ও উপকূলের বাসিন্দাদের আবহাওয়া দফতরের পরবর্তী বুলেটিনের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণ করাই জরুরি।
Thursday, 22 October 2026
৪
জেলার বার্তা,ডায়মন্ড হারবার, দক্ষিন ২৪ পরগণা, পিন ৭৪৩৩৩১, জেলার বার্তা নেটওয়ার্ক প্রিন্ট হাউস, ফোনঃ 7478809472, Email: zillarbarta@gmail.com
মন্দিরবাজারের বটতলায় অটো-টোটোর দৌরাত্ম্যে নিত্য যানজট, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মন্দিরবাজার থানার কাছে বটতলা মোড়ে অটো ও টোটোর জটে নিত্যদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বটতলা থেকে সংগ্রামপুর স্টেশনগামী রাস্তার মুখে যানবাহন দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলার অভিযোগ উঠেছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যান


চলাচল। স্থানীয় সূত্রে খবর, বটতলা থেকে সংগ্রামপুর স্টেশন ও চাকদা পর্যন্ত শতাধিক অটো-টোটো চলাচল করে। পাশাপাশি কয়েকশো মিটারের মধ্যে বাজার থাকায় সকাল থেকেই বাড়ে যানবাহন ও পথচারীদের ভিড়। রাস্তার মুখে অটো-টোটো দাঁড়িয়ে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বড় গাড়ি চলাচল এবং রাস্তা পারাপারেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে মানুষকে। যানজটের জেরে অসুস্থ ব্যক্তি ও প্রবীণদের যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, সময়মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এলাকাবাসীর দাবি, অটো-টোটো পরিষেবা বন্ধ না করে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডে যানবাহন দাঁড় করানোর ব্যবস্থা করা হোক। ব্যস্ত সময়ে নজরদারি বাড়িয়ে রাস্তার মুখ যানজটমুক্ত রাখারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এখন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।
জেলার যন্ত্রণা
বিজয়া দশমীতে জলপাইগুড়িতে ঐতিহ্যবাহী অস্ত্রপুজো, দেবী দুর্গার চরণে অস্ত্র অর্পণ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের
জলপাইগুড়ি: বিজয়া দশমীর পবিত্র তিথিতে ধর্মীয় উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জলপাইগুড়িতে পালিত হল ঐতিহ্যবাহী অস্ত্রপুজো। সনাতন ধর্মীয় সংস্কৃতি ও দীর্ঘদিনের প্রথাকে সামনে রেখে দেবী দুর্গার চরণে অস্ত্র অর্পণ করে বিশেষ পূজার্চনার আয়োজন করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দল। দশমীর সকালে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংগঠনের সদস্য ও সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিজয়া দশমী শুধু দেবী দুর্গার বিসর্জনের দিন নয়, শক্তি, সাহস ও ন্যায়ের আদর্শ স্মরণ করারও বিশেষ তিথি। সেই বিশ্বাসকে সামনে রেখেই বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রপুজোর আয়োজন করা হয়। জলপাইগুড়িতেও প্রাচীন ঐতিহ্য বজায় রেখে নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতি মেনে অস্ত্রপুজো সম্পন্ন করেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের স্থানীয় সদস্যরা। সনাতন ধর্মীয় সংস্কৃতিতে অস্ত্রপুজোর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই শক্তির আরাধনা, আত্মরক্ষা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে অস্ত্রকে সম্মান জানানোর প্রথা প্রচলিত। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তাঁদের মতে, এই কর্মসূচি শুধু ধর্মীয় আচার পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আগামী প্রজন্মের কাছে সনাতন সংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরারও একটি উদ্যোগ। দুর্গাপুজোর শেষ পর্বে বিজয়া দশমী বাঙালির আবেগ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। একদিকে দেবীর বিদায়ে বিষাদের আবহ, অন্যদিকে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তৈরি হয় নতুন উদ্দীপনা। অস্ত্রপুজোর মাধ্যমে শক্তির আরাধনা এবং ন্যায়ের পথে এগিয়ে চলার বার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জলপাইগুড়িতে এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সব মিলিয়ে, বিজয়া দশমীতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের এই অস্ত্রপুজো ধর্মীয় বিশ্বাস, শক্তি, সাহস এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের বার্তা তুলে ধরেছে।
কুলটির নিয়ামতপুর সরকার পুকুর ঘাটে নবপত্রিকা নিরঞ্জন, ঐতিহ্য মেনে সম্পন্ন কলাবউ বিসর্জন
কুলটি: দুর্গাপুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার নবপত্রিকা নিরঞ্জন। সেই প্রাচীন রীতি মেনেই কুলটির নিয়ামতপুর সরকার পুকুর ঘাটে সম্পন্ন হল দেবীর নবপত্রিকা বা কলাবউ বিসর্জন। পুজোর আনুষ্ঠানিকতা শেষে এই ধর্মীয় আচারকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে দেখা যায় আবেগ ও উৎসাহ। বাংলার দুর্গোৎসবে নবপত্রিকা স্নান ও নিরঞ্জনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কলাগাছ-সহ নয়টি উদ্ভিদকে একত্রে নবপত্রিকা হিসেবে পুজো করা হয়। প্রচলিতভাবে একে কলাবউ বলা হলেও, এটি দেবী দুর্গার আরাধনার সঙ্গে যুক্ত একটি বিশেষ ধর্মীয় প্রতীক। নিয়ামতপুর সরকার পুকুর ঘাটে নবপত্রিকা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপুজোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব সম্পন্ন হয়। এই আচার বাংলার প্রাচীন লোকাচার, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং দুর্গোৎসবের ঐতিহ্যকে আরও একবার সামনে তুলে ধরল। স্থানীয় এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে ধরা পড়ল বাঙালির চিরাচরিত ধর্মীয় সংস্কৃতি ও দুর্গাপুজোর আবেগ।
বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের বড় সাফল্য! ২০২৬ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারে আমেরিকাকে পিছনে ফেলার দাবি
নয়াদিল্লি: বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান উত্থান নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালে বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতিগুলির মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারে ভারত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এবং এই ক্ষেত্রে আমেরিকাকে পিছনে ফেলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। দ্রুত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ, অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নকে ভারতের এই অগ্রগতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিষেবা ক্ষেত্রের সম্প্রসারণ, ডিজিটাল পরিকাঠামোর উন্নতি, সরকারি বিনিয়োগ এবং উৎপাদন শিল্পের বিকাশ দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি, বিপুল অভ্যন্তরীণ বাজার, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। আগামী দিনে শিল্প, প্রযুক্তি, উৎপাদন ও রপ্তানি ক্ষেত্রে আরও উন্নতি হলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ২০২৬ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারে ভারতের দ্বিতীয় স্থানে থাকা এবং আমেরিকাকে পিছনে ফেলার দাবিটি যাচাই করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির প্রকাশিত পরিসংখ্যান ও পূর্বাভাস খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ, কোনও দেশের অর্থনীতির মোট আকার এবং জিডিপি বৃদ্ধির হার এক বিষয় নয়। অর্থনীতির আকার বলতে মোট উৎপাদনের পরিমাণ বোঝায়, আর প্রবৃদ্ধির হার নির্দিষ্ট সময়ে সেই উৎপাদন কতটা বেড়েছে, তা নির্দেশ করে। একইভাবে, কোন কোন দেশকে তুলনার আওতায় রাখা হচ্ছে, তার উপরও ক্রমতালিকা নির্ভর করে। ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি দেশের জন্য ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি করলেও প্রকৃত সাফল্য বিচার করতে মাথাপিছু আয়, কর্মসংস্থান, মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার উন্নতিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাই শুধু জিডিপি বৃদ্ধির হার নয়, সেই বৃদ্ধির সুফল কতটা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
আবহাওয়ার আপডেট