


নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: দুর্গাপুজোর সময় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বামপন্থীদের বইয়ের স্টলে হামলা, ভাঙচুর ও বইয়ের অবমাননার অভিযোগের প্রতিবাদে শনিবার শিলিগুড়িতে বিশাল মিছিল করল দার্জিলিং জেলা বামপন্থী দলসমূহ। ‘বই পড়ুন, বই বাঁচান—পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে রক্ষা করুন’ স্লোগানকে সামনে রেখে মিছিলে অংশ নেন বাম নেতা-কর্মী, ছাত্র-যুব, মহিলা, শিক্ষক, লেখক ও সাংস্কৃতিক জগতের প্রতিনিধিরা। বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, বইয়ের স্টলে হামলা মুক্তচিন্তা, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপর আঘাত। শনিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ বাঘাযতীন পার্ক থেকে মিছিল শুরু হয়ে কোর্ট মোড়, হাসপাতাল মোড়, হাসমিচক ও হিলকার্ট রোড ধরে সেবক মোড় পেরিয়ে এয়ার ভিউ মোড়ে শেষ হয়। মিছিলে ছিলেন সিপিআইএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য, জীবেশ সরকার, নুরুল ইসলাম, দিলীপ সিং, জয় চক্রবর্তী-সহ বিভিন্ন বাম দলের প্রতিনিধিরা। জীবেশ সরকারের অভিযোগ, বইয়ের স্টল ঘিরে অশান্তি গণতান্ত্রিক চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর আক্রমণ। তাঁর বক্তব্য, কোনও বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি থাকলে আলোচনা, যুক্তি কিংবা আইনসম্মত পদ্ধতিতে প্রতিবাদ জানানো উচিত, স্টল ভাঙচুর বা বই বিক্রিতে বাধা দিয়ে নয়। এই বিতর্কের সূত্রপাত হিলকার্ট রোডে সিপিআইএমের জেলা কার্যালয় অনিল বিশ্বাস ভবনের সামনে বইয়ের স্টলকে ঘিরে। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর নবমীর রাতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে লেখা একটি বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি জানিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি উত্তেজনা সৃষ্টি করেন এবং স্টল ভাঙার চেষ্টা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ পৌঁছয়। অন্যদিকে, আপত্তিকারীদের দাবি, বইটিতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার মতো বক্তব্য রয়েছে। পর্যটনমন্ত্রী তথা বিধায়ক শঙ্কর ঘোষও এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বইয়ের উপর অন্যায় আচরণ সমর্থন করেননি, পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রচার নিয়েও মন্তব্য করেছেন। বামপন্থীদের দাবি, শিলিগুড়ি মহকুমায় এ বছর তাদের বই বিক্রি প্রায় তিন লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে, গত বছর যা ছিল প্রায় এক লক্ষ টাকা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কুলটি: রবিবার সকালে নিয়ামতপুর ফাঁড়ির অন্তর্গত মেলিয়াকোলা রোডে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল একটি দ্রুতগতির গাড়ি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি রেলের বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা মেরে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় গাড়িতে থাকা পাঁচ যুবক আহত হন। স্থানীয় দুই ব্যক্তি তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। খবর পেয়ে নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্রেনের সাহায্যে গাড়িটি পুকুর থেকে তোলে। কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমতা, হাওড়া: ঐতিহ্য ও ধর্মীয় আবহে আমতা-২ ব্লকের ‘লক্ষ্মীগ্রাম’ খালনায় উদ্বোধন হল ঐতিহ্যবাহী কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, বিধায়ক অমিত সামন্ত ও চিরন বেরা, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়, হাওড়া গ্রামীণ জেলা বিজেপির সভাপতি দেবাশিস সামন্ত এবং বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের উপস্থিতিতে পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে এলাকায় উৎসবের আব
নিজস্ব সংবাদদাতা: উৎসবের আবহে সপরিবারে বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় মেতে উঠলেন দেবদৃতা। বাড়ির পুজোয় অঞ্জলি দিয়ে ভক্তিভরে দেবী লক্ষ্মীর কাছে প্রার্থনা জানালেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুজোর বিশেষ মুহূর্ত ভাগ করে নেন দেবদৃতা। উৎসবের আনন্দ, পারিবার
বিশেষ প্রতিবেদন: ১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবর, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সময় অবিভক্ত বাংলার নোয়াখালী ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে শুরু হয় সাম্প্রদায়িক হিংসা, যা ইতিহাসে নোয়াখালী দাঙ্গা নামে পরিচিত। এই হিংসায় বহু মানুষ প্রাণ হারান, ঘরবাড়ি লুট ও ধ্বংস হয় এবং অসংখ্য পরিবার নিরাপত্তার অভাবে বাস্তুচ্যুত হয়। বিশেষত হিন্দু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ আক্রমণ ও নির্যাতনের শিকার হন। ১৯৪৬ সালের আগস্টে কলকাতার ভয়াবহ দাঙ্গার পর বাংলায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল। পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে ওই বছরের নভেম্বর মাসে মহাত্মা গান্ধী নোয়াখালীতে পৌঁছে বিভিন্ন গ্রামে পদযাত্রা করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল হিংসা থামানো এবং হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। নোয়াখালীর এই বেদনাদায়ক অধ্যায় আজও মনে করিয়ে দেয়, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের সবচেয়ে বড় শিকার হন সাধারণ মানুষ। ইতিহাস স্মরণের উদ্দেশ্য কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো নয়, বরং ভুক্তভোগীদের যন্ত্রণা উপলব্ধি করা এবং অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া। নোয়াখালীর স্মৃতি তাই মানবতা, ন্যায়বিচার, মানুষের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করার বার্তা দেয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা: অবিভক্ত ভারতের নোয়াখালীর ইতিহাস, জনজীবন ও অতীতের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে দীপ প্রকাশনের উদ্যোগে প্রকাশিত হলো ‘নোয়াখালির সন্তান রুস্তম খান’ বইটি। অবিভক্ত ভারতের ইতিহাস শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন বা দেশভাগের ঘটনায় সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য মানুষের জীবনসংগ্রাম, পরিচয় ও জন্মভূমির স্মৃতি। নোয়াখালী ছিল তৎকালীন পূর্ববঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। এই অঞ্চলের গ্রামীণ জীবন, কৃষিনির্ভর সমাজ, নদী-প্রকৃতি এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের নানা স্মৃতি আজও মানুষের মনে জায়গা করে রয়েছে। সময়ের সঙ্গে ভূখণ্ডের মানচিত্র বদলালেও নোয়াখালী বহু মানুষের কাছে শিকড় ও জন্মভূমির প্রতীক। বইটির নামেও ফুটে উঠেছে সেই পরিচয় ও অতীতের প্রতি টান। ‘নোয়াখালির সন্তান’ কথাটি আঞ্চলিক পরিচয়ের ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে রুস্তম খান নামটি পাঠকের মনে ব্যক্তিকেন্দ্রিক কাহিনি সম্পর্কে কৌতূহল তৈরি করে। দেশভাগ-পূর্ব সময়ের জনজীবন ও আঞ্চলিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এমন সাহিত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সব মিলিয়ে, বইটির প্রকাশ ইতিহাস ও সাহিত্যপ্রেমীদের সামনে নোয়াখালীর অতীত, মানুষের স্মৃতি এবং শিকড়ের গল্প জানার নতুন সুযোগ এনে দিল।
সুন্দরবনের মানুষের কাছে নদী জীবন ও জীবিকার অন্যতম ভরসা। কিন্তু মুড়িগঙ্গা ও গোসাবায় নদীর চরে ধাক্কা লেগে নৌদুর্ঘটনার ঘটনা নদীপথের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিদিন স্কুল, হাসপাতাল ও কর্মস্থলে যেতে বহু মানুষকে নদী পার হতে হয়। তাই বিপজ্জনক চর চিহ্নিত করা, নৌপথে নিয়মিত নজরদারি, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও দ্রুত উদ্ধারব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি মুড়িগঙ্গায় বালি উত্তোলন ও পরিবহণ নিয়ে ওঠা অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অনুমোদিত পরিমাণ, সরকারি রাজস্ব ও পরিবহণের নথি খতিয়ে দেখা দরকার। প্রমাণ ছাড়া কোনও অভিযোগকে সত্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। নদীর চর প্রাকৃতিক পরিবর্তনের অংশ, কিন্তু মানুষের নিরাপত্তা উপেক্ষা করা চলে না। সুন্দরবনবাসীর প্রত্যাশা, নদী যেন বিপদের কারণ নয়, নিরাপদ যোগাযোগ ও জীবিকার পথ হয়ে ওঠে।

নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল: দুর্গাপুজো শেষ হতেই আসানসোলে শুরু হয়েছে ছটপুজোর প্রস্তুতি। তাপসীবাবা ছট ঘাট পরিদর্শন করে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি। ঘাটগুলিতে সাফাই, মাটি কাটা, আলো ও অন্যান্য পরিকাঠামোর কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। পুণ্যার্থীদের সুবিধায় অস্থায়ী সেতুর সংখ্যা ৮ থেকে বাড়িয়ে ১৫-১৬টি করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ছট ব্রতী মহিলাদের জন্য পোশাক বদলের ঘর বাড়ানো এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। পুরনিগমের ইঞ্জিনিয়ার, কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় চলছে প্রস্তুতি। ছটপুজো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও পুণ্যার্থীদের সুবিধার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নিয়ামতপুর: খাবারের গুণমান ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শনিবার নিয়ামতপুর বাজারে যৌথ অভিযান চালাল ফুড সেফটি দফতর ও পুলিশ। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ এবং নিয়ামতপুর ফাঁড়ির সহযোগিতায় মিষ্টি, বিরিয়ানি ও ফুচকার দোকান-সহ বিভিন্ন খাবারের দোকানে পরিদর্শন করা হয়। আধিকারিকরা খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত নথিপত্র ও ফুড সেফটি লাইসেন্স পরীক্ষা করেন। পাশাপাশি খাবারে ব্যবহৃত মশলা, রং এবং অন্যান্য উপকরণের গুণমান খতিয়ে দেখা হয়। অভিযানে বিভিন্ন দোকান থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা ও খাদ্যদ্রব্য ফেলে দেওয়া হয়। রং মেশানো ঘুগনি ও বিরিয়ানিও সরিয়ে ফেলা হয় বলে জানা গিয়েছে। খাবার তৈরিতে অনুপযুক্ত উপকরণ ব্যবহার স্বাস্থ্যের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ব্যবসায়ীদের খাদ্য সুরক্ষা বিধি ও পরিচ্ছন্নতা মেনে চলার উপর জোর দেন আধিকারিকরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা: সুস্থ থাকা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে অনেকেই নিয়মিত ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মাত্রায় এগুলি খেলে উপকারের বদলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ভিটামিন গ্রহণ করলে বিষক্রিয়া, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, কিডনির ক্ষতি এবং ওষুধের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে চর্বিতে দ্রবণীয় হওয়ায় শরীরে জমা হতে পারে। অতিরিক্ত ভিটামিন এ মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব ও যকৃতের ক্ষতি করতে পারে। অন্যদিকে, বেশি ভিটামিন ডি গ্রহণে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে বমি, দুর্বলতা এবং কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে। জলে দ্রবণীয় ভিটামিনও অতিরিক্ত গ্রহণে নিরাপদ নয়। বেশি ভিটামিন সি পেটব্যথা, ডায়রিয়া ও কিছু ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ভিটামিন বি৬ গ্রহণে স্নায়ুর ক্ষতি এবং হাত-পায়ে ঝিনঝিন ভাব হতে পারে। আবার আয়রন বা ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ সাপ্লিমেন্ট বেশি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটের অস্বস্তি কিংবা ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। একাধিক সাপ্লিমেন্ট একসঙ্গে গ্রহণ করলে একই উপাদান অজান্তেই শরীরে বেশি পরিমাণে প্রবেশ করতে পারে। কিছু ভিটামিন ও খনিজ নির্দিষ্ট ওষুধের কার্যকারিতাও প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে কিডনির রোগী, গর্ভবতী মহিলা এবং নিয়মিত ওষুধ গ্রহণকারীদের সতর্ক থাকা জরুরি। শিশুদের নাগালের বাইরে সাপ্লিমেন্ট রাখা উচিত। সুস্থ থাকতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি পুষ্টির ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে সঠিক মাত্রায় সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত। তীব্র বমি, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। মনে রাখতে হবে, বেশি ভিটামিন মানেই বেশি উপকার নয়; সঠিক প্রয়োজন ও মাত্রা মেনে চলাই স্বাস্থ্য সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিন ২৪ পরগনাঃ সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দিতে বিশেষ হেল্পলাইন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সুন্দরবন উন্নয়ন দফতর। হেল্পলাইন নম্বরটি হল ১৮০০-৩৩৩-২০২৬। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন এলাকার ১৯টি ব্লকের বাসিন্দারা এই নম্বরে ফোন করে বিভিন্ন সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। অভিযোগ নথিভুক্ত করার পর প্রয়োজন অনুযায়ী তা সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হবে। হেল্পলাইন পরিচালনার জন্য কাকদ্বীপে ইতিমধ্যেই কন্ট্রোল রুমের আদলে পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে এবং দফতরের ক্যাম্প অফিসও চালু হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকার বহু মানুষের পক্ষে সরকারি দফতরে গিয়ে অভিযোগ জানানো কঠিন। তাই ফোনের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর এই ব্যবস্থা তাঁদের সুবিধা দেবে বলে মনে করছে প্রশাসন। তবে নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে পরিষেবাটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে সোমবার ভোরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার এটি অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঝড়টি। সেই সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বুধবার থেকে শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। মঙ্গলবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপকে কেন্দ্র করে আবহাওয়ার পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আবহাওয়ার অবনতি হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে সরাসরি ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব না পড়লেও পরোক্ষ প্রভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর বিকেল থেকে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ২৮ ও ২৯ অক্টোবর কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রাম-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। ৩০ অক্টোবর থেকে দার্জিলিং, কালিম্পং ও সিকিমের পাহাড়ি এলাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, তার গতিপথ ও বৃষ্টির তীব্রতা এখনও পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল। তাই আতঙ্কিত না হয়ে ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (IMD) সর্বশেষ বুলেটিন ও সতর্কবার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল: পুজো শেষ হতেই জমি পুনরুদ্ধারে সক্রিয় হয়ে উঠল ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)। আসানসোলের ধেমোমেন এলাকায় তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর রোহিত ননিয়ার ও সঞ্জয় ননিয়ারদের অফিস উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইসিএল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দুটি বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন ছিল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিশাল বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (সিআইএসএফ)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই জমি পুনরুদ্ধারের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছিল ইসিএল। তবে বিভিন্ন কারণে আগের উদ্যোগগুলি সফল হয়নি। জমি সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এর আগে আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় উচ্ছেদ প্রক্রিয়া আটকে গিয়েছিল বলে জানা যায়। এবার আইনি বাধা কাটার পর ফের অভিযান শুরু করে কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তার ঘেরাটোপে দুটি বুলডোজার দিয়ে অফিস উচ্ছেদের কাজ চলে। তবে জমির মালিকানা, আদালতের নির্দেশের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু এবং কোন নথির ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। অভিযানে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও জানা যায়নি। ঘটনা ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সামনে এলে বিষয়টির আইনি দিক আরও স্পষ্ট হবে।
নিজস্ব সংবাদদাতা: দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় ও নির্ণায়ক টেস্টে খেলার জন্য প্রস্তুত বলে জানালেন অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন। পেটের পেশিতে চোটের কারণে প্রথম দুই টেস্টে খেলতে পারেননি তিনি। তবে চোট কাটিয়ে কেপ টাউনের নিউল্যান্ডসে অনুশীলনে ফিরে এক ঘণ্টারও বেশি সময় নেটে ব্যাটিং করেছেন গ্রিন। ফলে ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা বেড়েছে। তিন ম্যাচের সিরিজ বর্তমানে ১-১ ব্যবধানে সমতায়। প্রথম টেস্টে জিতলেও দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে এক ইনিংস ও ৩১ রানে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। সেই ম্যাচে মাত্র ৯৯ রানে অলআউট হয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বিভাগ। এই পরিস্থিতিতে গ্রিনের প্রত্যাবর্তন দলকে বাড়তি শক্তি জোগাতে পারে। তবে চোট থেকে ফেরায় তাঁকে বোলিং করতে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। প্রয়োজনে ব্যাটার হিসেবেই খেলতে পারেন তিনি। চার ও পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে স্বচ্ছন্দ গ্রিন, যদিও দলের প্রয়োজনে অন্য পজিশনেও খেলতে রাজি। তাঁর প্রত্যাবর্তনে প্রথম একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ম্যাচের আগে তাঁর ফিটনেস এবং টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনার উপর। সিরিজ জয়ের পাশাপাশি দ্বিতীয় টেস্টের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠাই এখন অস্ট্রেলিয়ার প্রধান লক্ষ্য।
নিজস্ব সংবাদদাতা: রিলায়েন্স জিওর আইপিও ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ দেখা গিয়েছে। মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড পরিষেবার পাশাপাশি জিওর ব্যবসা বিস্তৃত হয়েছে ডিজিটাল বিনোদন, ক্লাউড, এআই এবং এন্টারপ্রাইজ সলিউশনেও। ২০২৬ সালের ২১ থেকে ২৩ অক্টোবর আইপিওতে আবেদন গ্রহণ করা হয়। শেয়ারের মূল্যসীমা ছিল ১,০৬৫ থেকে ১,১১৯ টাকা। সর্বোচ্চ মূল্য ধরে ইস্যুর আকার প্রায় ৩০,২১৩ কোটি টাকা। বাজার-সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইপিওটি মোট ২২.১৯ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়। ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত জিওর মোবাইল গ্রাহক ছিল প্রায় ৫২.৪৪ কোটি। তবে সংস্থার মূল্যায়নে গ্রাহকসংখ্যার পাশাপাশি আয়, ব্যয়, প্রতিযোগিতা ও ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, শেয়ার বরাদ্দের সম্ভাব্য তারিখ ২৬ অক্টোবর এবং বাজারে তালিকাভুক্তির তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০২৬। চূড়ান্ত তথ্যের জন্য স্টক এক্সচেঞ্জের ঘোষণা দেখা জরুরি।
জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১২১ রানে জয় ছিনিয়ে নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের দখলে নিল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। রবিবার ভদোদরায় প্রথমে ব্যাট করে ভারত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩২৮ রান তোলে। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ১২১ বলে ১২৬ রান করেন। অন্যদিকে, দীপ্তি শর্মা ৮৬ বলে অপরাজিত ১০৬ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন। প্রতীকা রাওয়াল করেন ৬১ রান। হরমনপ্রীত ও দীপ্তির ১৫৩ রানের জুটি ভারতের বড় রান গড়ার ভিত তৈরি করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবোয়ে ৪৮.৫ ওভারে ২০৭ রানে অলআউট হয়ে যায়। ভারতের বৈষ্ণবী শর্মা ৩৯ রানে ৪ উইকেট নেন। দীপ্তি বল হাতেও ৩টি উইকেট তুলে নিয়ে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের নজির গড়েন। তবে জয়ের দিনেও অধিনায়ক স্মৃতি মন্ধানার ব্যাটিং ফর্ম ভারতীয় শিবিরের চিন্তা বাড়িয়েছে।
