



কলকাতা: কলকাতা পুরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত কাশীপুর এলাকার পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পরিদর্শনের সময় রাস্তা পরিষ্কার রাখা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের ব্যবস্থা এবং নিয়মিত আবর্জনা অপসারণের মতো বিষয়গুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা নাগরিক পরিষেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাস্তার পাশে আবর্জনা জমে থাকলে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ এবং নিকাশি ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর বর্জ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত তা সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা কার্যকর রাখা প্রয়োজন। পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যাতে দীর্ঘ সময় ধরে কোথাও আবর্জনা জমে না থাকে এবং বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় অসুবিধা না হয়, সেই বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে একটি এলাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ব্যবহার করা এবং যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও নাগরিকদের সহযোগিতা বজায় থাকলে কাশীপুরের পরিবেশ আরও পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে।
মালদা:ফের পুলিশের উপর হামলার ঘটনা। মালদা জেলার পুকুরিয়া থানা এলাকার ঘটনা। হেলমেট ছাড়া বাইক চালানোয় বাইক আটকানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাফিক পুলিশের এক এএসআই-এর উপর হামলা চালাল দুই যুবক। হামলায় গুরুতর জখম হন ওই এএসআই। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুকুরিয়া থানার ট্রাফিক বিভাগের এএসআই ডিউটিতে ছিলেন। সেই সময় হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো দুই যুবককে তিনি আটকান এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জন্য বাইকটি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেন। এই নিয়ে যুবকদের সঙ্গে পুলিশ আধিকারিকের বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, বচসা চলাকালীন দুই যুবক হঠাৎ ওই এএসআই-এর উপর হামলা চালায়। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়, রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনার পর পুকুরিয়া থানার পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের নাম মাসিদুর রহমান ও সফিকুল। দুজনেই পুকুরিয়া থানা এলাকার বাসিন্দা।
আসানসোল: আসানসোলের ধধকায় ফ্লিপকার্ট অফিসে বড় চুরির ঘটনা। চোরেরা শাটার খুলে নগদ টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে চম্পট দেয়। অফিসের এইচআই রূপেশ কুমার রাওয়াত জানান, সকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ সিনিয়র টিএল ফোন করে জানান শাটার খোলা। সকাল ৬টায় পৌঁছে দেখেন পুরো শাটার খোলা। থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে অফিস খুললে দেখা যায় লকার ও আলমারি খোলা। লকারে রাখা প্রায় ২ লক্ষ টাকা উধাও। সিসিটিভির হার্ডডিস্কও খুলে নিয়ে গেছে চোরেরা। মোবাইল ও অন্যান্য স্টক কতটা খোয়া গেছে, তা স্টক মেলানোর পর জানা যাবে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
পশ্চিম বর্ধমান: ভোট চুরির অভিযোগে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলায় সাংবাদিক বৈঠক করল কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতা বলেন, এই কর্মসূচি শুধু জেলায় নয়, সারা দেশে চলছে। এর উদ্দেশ্য মানুষকে সচেতন করা। রাহুল গান্ধী আগেই 'চৌকিদার চোর হ্যায়' বলেছিলেন, এখন ভোট চুরির বিষয়টি সামনে এনেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ মহারাষ্ট্রে রাহুল গান্ধী ভোট চুরির বিষয়টি তোলেন। প্রথমে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন তা অস্বীকার করলেও পরে সত্য সামনে আসে। নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, "আমরা অভিযোগ করছি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে, কিন্তু জবাব দিচ্ছে সরকার। এতেই স্পষ্ট কী চলছে।"
ফলতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: নতুন রঙে সেজে উঠেছে ফলতা বিডিও অফিস। পরিচিত নীল-সাদা রঙের পরিবর্তে ভবনটিকে গেরুয়া রঙে সাজানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফলতাকে আদর্শ বিধানসভা কেন্দ্র বা ‘মডেল ফলতা’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেছেন বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা। বিধায়কের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ফলতা বিধানসভা এলাকায় উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল। নতুন সরকারের আমলে এলাকার পরিকাঠামো ও সরকারি পরিষেবা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিডিও অফিসের নতুন রূপকে সেই পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। বিডিও অফিস গ্রামীণ এলাকার বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প, প্রশাসনিক কাজ এবং উন্নয়নমূলক পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত। তাই ভবনের বাহ্যিক পরিবর্তনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ কতটা সহজে পরিষেবা পাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। একটি এলাকাকে মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে শুধু সরকারি ভবনের রং পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। উন্নত রাস্তা, পানীয় জল, নিকাশি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ। বিধায়কের উন্নয়নের দাবি কতটা বাস্তবায়িত হয়, তা আগামী দিনে পরিষেবা ও পরিকাঠামোর অগ্রগতির মাধ্যমেই বোঝা যাবে।
দুর্গাপুজো ও কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ছটপুজো ও কালীপুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বাংলা। শহর থেকে গ্রাম, কলকাতা থেকে জেলার মফস্সল—সর্বত্র উৎসবের আমেজ, কেনাকাটা ও আয়োজন ঘিরে বাড়ছে ব্যস্ততা। একের পর এক উৎসব বাংলার সামাজিক জীবন, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে নতুন প্রাণসঞ্চার করছে। বাঙালির আবেগের সঙ্গে দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর সম্পর্ক গভীর। অন্যদিকে, ছটপুজোও বাংলার বহু মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সূর্যদেবের আরাধনায় ছটপুজো এবং অমাবস্যার রাতে দেবী কালীর পুজো—দুই উৎসবের রীতিনীতি আলাদা হলেও উভয়ের মধ্যেই রয়েছে নিষ্ঠা, পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা। উৎসবের মরশুমে মৃৎশিল্পী, আলোকশিল্পী, ফুল বিক্রেতা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পরিবহণকর্মীদের কাজের সুযোগ বাড়ে। ফলে ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই উৎসবগুলি। তবে আনন্দের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষাও জরুরি। ছটপুজোয় জলাশয়ের নিরাপত্তা, কালীপুজোয় অগ্নিনিরাপত্তা, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং বাজি ব্যবহারে বিধি মেনে চলার দিকে নজর দিতে হবে প্রশাসন ও নাগরিকদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যা-ই হোক, উৎসব কোনও নির্দিষ্ট দল বা সম্প্রদায়ের একার নয়। ধর্মীয় বৈচিত্র্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতিই বাংলার আসল পরিচয়। উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক, নিরাপদ থাকুক মানুষ, অটুট থাকুক সামাজিক ঐক্য—এটাই হোক উৎসবের মরশুমে বাংলার প্রত্যাশা।
নিজস্ব সংবাদদাতা: চাকরি পাইয়ে দেওয়া কিংবা সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নাম করে আর্থিক প্রতারণার ফাঁদে পা না দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। ক্ষমতাসীন মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে, এমন দাবি শুনেই কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি চাকরি, সরকারি প্রকল্প কিংবা বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বিশেষ করে বেকার যুবক-যুবতীরা চাকরির আশায় এ ধরনের প্রতারণার শিকার হতে পারেন। কেউ টাকা দিলেই চাকরি নিশ্চিত কিংবা বিশেষ সুপারিশে সরকারি সুবিধা পাওয়া যাবে বলে দাবি করলে সতর্ক থাকা জরুরি। সরকারি চাকরির নির্দিষ্ট নিয়োগবিধি ও আবেদনপদ্ধতি রয়েছে। তাই কোনও প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন। প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় কিংবা ছবি থাকলেই যে কেউ চাকরি বা সরকারি সুবিধা পাইয়ে দিতে পারবেন, এমন ধারণা ঠিক নয়। আর্থিক লেনদেনের আগে সমস্ত তথ্য যাচাই করা উচিত। প্রতারণার শিকার হলে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ জানাতে হবে। অনলাইনে টাকা খোয়ালে দ্রুত ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত সরকারি ব্যবস্থায় অভিযোগ জানানো জরুরি। সাধারণ মানুষের প্রতি বার্তা, ক্ষমতার ঘনিষ্ঠতার প্রলোভনে না পড়ে সচেতন থাকুন এবং যাচাই না করে কাউকে টাকা দেবেন না।

নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: পুরুলিয়ার বরাবাজারের রানসি গ্রামের মেয়ে বাসন্তী মাহাত রাঁচির খেলগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় পুলিশ তিরন্দাজি প্রতিযোগিতায় একাধিক পদক জিতে জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন। ২২ থেকে ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় CISF-এর হয়ে অংশ নিয়ে ব্যক্তিগত ও দলগত বিভাগে সাফল্য অর্জন করেন তিনি। তাঁর এই কৃতিত্বে গর্বিত পুরুলিয়া তথা পশ্চিমবঙ্গ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাসন্তী ৭০ মিটারের দুটি পর্বে সোনা, সামগ্রিক বিভাগে স্বর্ণপদক এবং মিশ্র দলগত বিভাগে সোনা জিতেছেন। পাশাপাশি দলগত বিভাগে ব্রোঞ্জ পদকও অর্জন করেছেন। ৫০ মিটার বিভাগেও তাঁর পদক জয়ের উল্লেখ রয়েছে। বাসন্তীর তিরন্দাজি প্রশিক্ষণ শুরু হয় ২০১৮ সালে বরাবাজারের ‘লক্ষ্য’ অ্যাকাডেমিতে। পরের বছর কলকাতার সল্টলেকে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার কেন্দ্রে উন্নত প্রশিক্ষণ শুরু করেন তিনি। কঠোর অনুশীলন ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। এর আগেও একাধিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেয়েছেন বাসন্তী। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এশিয়া কাপে সিনিয়র রিকার্ভ বিভাগে ব্যক্তিগত সোনা ও মিশ্র দলগত বিভাগে রুপো জেতেন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ায় এশিয়া কাপে দলগত ব্রোঞ্জ এবং চিনে এশিয়ান ইয়ুথ আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে দুটি রুপোর পদকও জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর। প্রত্যন্ত গ্রামের মাটি থেকে উঠে এসে বাসন্তীর এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা জোগাবে। তাঁর ধারাবাহিক পদকজয় পুরুলিয়ার ক্রীড়াক্ষেত্রের সম্ভাবনাকেও নতুন করে তুলে ধরেছে।


নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে সৃষ্ট নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। রাতভর দফায় দফায় ভারী বৃষ্টিতে ভিজেছে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। সুন্দরবন-সহ উপকূলবর্তী অঞ্চলে বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা হাওয়া বইছে। আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উদ্বেগ বেড়েছে কৃষকদেরও। নদী ও সমুদ্র উত্তাল থাকায় গঙ্গাসাগর, বকখালি ও মৌসুনিতে সমুদ্রস্নানে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগের সময় সমুদ্রে নামা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত বিপজ্জনক হতে পারে। অন্যদিকে, মাঠে পাকা আমন ধান থাকায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় চিন্তিত চাষিরা। টানা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ধানগাছ মাটিতে হেলে পড়তে পারে। জমিতে জল জমলে শীতকালীন সবজি চাষেও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই আবহাওয়ার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন কৃষকরা। বৃষ্টি কতদিন স্থায়ী হবে এবং কৃষিজমিতে কতটা ক্ষতি হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সব মিলিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জনজীবন, পর্যটন ও কৃষিক্ষেত্র—তিনটি ক্ষেত্রেই উদ্বেগ বাড়ছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা: হুগলি জেলার কামারপুকুরে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মহকুমা শাসকের নেতৃত্বে চালানো এই অভিযানে বিরিয়ানিতে অননুমোদিত বা ক্ষতিকর রং ব্যবহারের সন্দেহ সামনে আসে। জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে সন্দেহজনক বিরিয়ানি ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে খাবারের গুণমান ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। খাবারকে আকর্ষণীয় করে তুলতে অনেক সময় বিভিন্ন রং ব্যবহার করা হয়। তবে সেই রং অনুমোদিত কি না এবং নির্ধারিত মাত্রায় ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। অননুমোদিত রং ব্যবহার করা হলে তা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। যদিও খাবারের রং অস্বাভাবিক দেখালেই সেটিকে নিশ্চিতভাবে ভেজাল বলা যায় না। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযানের উদ্দেশ্য হল খাবারের গুণমান বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা। খাবারের উপাদান, প্রস্তুতপ্রণালী ও সংরক্ষণের নিয়ম খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়। কামারপুকুরের ঘটনায় ঠিক কী ধরনের রং ব্যবহার করা হয়েছিল এবং পরীক্ষায় কোনও অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। খাবারের স্বাদের পাশাপাশি তার নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই ক্রেতাদের সচেতন থাকার পাশাপাশি খাবার বিক্রেতাদেরও খাদ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলা জরুরি।
নিজস্ব সংবাদদাতা: চোখের পাতা কাঁপা, পেশিতে টান ধরা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি কিংবা হাত-পায়ে ঝিনঝিন করার মতো উপসর্গ দেখা দিলে শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতির কথা মনে আসতে পারে। শরীরের শক্তি উৎপাদন, স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কার্যকলাপ এবং হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এই খনিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খাদ্যাভ্যাসে ঘাটতি, কিছু অসুস্থতা কিংবা নির্দিষ্ট ওষুধের প্রভাবে শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা কমতে পারে। ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব এবং পেশিতে খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা ও স্নায়ুর সমস্যাও হতে পারে। তবে চোখের পাতা কাঁপলেই যে ম্যাগনেসিয়ামের অভাব হয়েছে, তা নয়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, অতিরিক্ত চা-কফি পান এবং দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারের কারণেও এমন সমস্যা হতে পারে। একইভাবে পেশিতে টান ধরার পিছনে পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত ব্যায়াম কিংবা ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্যহীনতাও দায়ী হতে পারে। শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের জোগান বজায় রাখতে প্রতিদিনের খাবারে রাখতে পারেন কুমড়োর বীজ, কাঠবাদাম, কাজু, ডাল, পালং শাক, গোটা শস্য এবং অন্যান্য বীজজাতীয় খাবার। সুষম খাদ্যাভ্যাস শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল পান, নিয়মিত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। তবে উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বারবার পেশিতে খিঁচুনি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজের সিদ্ধান্তে ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট খাবেন না, কারণ অতিরিক্ত মাত্রা ক্ষতিকর হতে পারে। বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দনের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
কলকাতা: ২০২৬ সালকে আন্তর্জাতিক মহিলা কৃষক বর্ষ হিসেবে সামনে রেখে মহিলা কৃষকদের অবদান এবং মৎস্যজীবীদের অধিকার নিয়ে আলোচনা নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কলকাতার রানী রাসমণি রোডে ভারতীয় কিষাণ সংঘের সমাবেশের কথা উঠে এসেছে। কৃষি ও মৎস্যক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষের শ্রমের স্বীকৃতি, জীবিকার সুরক্ষা এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের দাবি এই কর্মসূচির মূল বিষয়। বীজ বপন, চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, ফসল সংগ্রহ এবং কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণের মতো কাজে মহিলারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবুও অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের শ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি, জমির অধিকার, কৃষিঋণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সুযোগ নিয়ে সমস্যা রয়েছে। অন্যদিকে, মৎস্যজীবীদের জীবিকা নির্ভর করে মাছ ধরার সুযোগ, জলাশয়ের ব্যবহার, মাছের ন্যায্য দাম, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের উপর। আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগও তাঁদের আয়ের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। কৃষক ও মৎস্যজীবীদের সমস্যা এক নয়। তাই তাঁদের নির্দিষ্ট প্রয়োজন বুঝে সহায়তা ও নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট মানুষের বক্তব্য শোনা, সরকারি সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং পেশাগত নিরাপত্তা বাড়ানো গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে।
কলকাতা: ছটপুজোর আগে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা এবং ঘাটের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে কলকাতার বিভিন্ন ঘাট পরিদর্শন করলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইএএস আধিকারিক স্মিতা পাণ্ডে, পুলিশ আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ। পরিদর্শনে পরিচ্ছন্নতা, আলোকসজ্জা, নিরাপদ যাতায়াত এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ছটপুজোর সময় সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ে অর্ঘ্য দিতে বহু মানুষ জলাশয় ও নদীর ঘাটে সমবেত হন। ফলে প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ নিরাপদ রাখা, পর্যাপ্ত আলো এবং ঘাটের সিঁড়ি চলাচলের উপযোগী রাখা জরুরি। অন্ধকার, পিচ্ছিল সিঁড়ি কিংবা অতিরিক্ত ভিড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াতে পারে। চোরবাগানে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি না রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি এবং পুলিশ-প্রশাসনের সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ। পুজোর আগে ঘাট পরিষ্কার রাখা, আবর্জনা সরানো এবং বিপজ্জনক স্থান চিহ্নিত করার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি পুণ্যার্থীদেরও প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা উচিত। আগাম প্রস্তুতি ও নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে ছটপুজোর সময় নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখাই এই পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য।

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদীয়া ও পূর্ব বর্ধমানের কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির খবর মিলছে। তবে সব জায়গায় বৃষ্টি হচ্ছে না। কোথাও আকাশ মেঘলা, আবার কোথাও আবহাওয়া তুলনামূলক শুষ্ক। আগামী কয়েক ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের আরও কিছু অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সারাদিন একটানা বৃষ্টি হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এলাকাভেদে বৃষ্টির তীব্রতা ও স্থায়িত্বে পার্থক্য থাকতে পারে। উত্তরবঙ্গেরও বেশ কিছু অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির জেরে যাতায়াতে অসুবিধা হতে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর আগে আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস দেখে নেওয়া এবং সঙ্গে ছাতা রাখা ভালো। কোন জেলায় কতটা বৃষ্টি হবে, তা জানতে আবহাওয়া দফতরের আপডেটে নজর রাখুন।
ক্রিকেট: নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দাপট অব্যাহত রেখেছে ভারতীয় দল। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর ওয়েলিংটনে তৃতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ছয় উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত। ফলে সিরিজ জয় নিশ্চিত হলেও এখন লক্ষ্য বাকি দুই ম্যাচ জিতে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করা। ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুরন্ত ব্যাটিং করেন অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩৫ বলে শতরান পূর্ণ করার পাশাপাশি তাঁর আক্রমণাত্মক ইনিংস ভারতকে জয়ের পথে এগিয়ে দেয়। বৈভব সূর্যবংশীও ১৯ বলে ৪৫ রান করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। তাঁদের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লের প্রথম ছয় ওভারেই ভারত ১১৮ রান তোলে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এর আগে নিউজিল্যান্ড তিন উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান করেছিল। ড্যারিল মিচেল ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন। ফিন অ্যালেন করেন ৪০ রান এবং বেভন জ্যাকবস অপরাজিত ৩৯ রান করেন। ভারত ১৩.২ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচ ৩০ অক্টোবর অকল্যান্ডে এবং শেষ ম্যাচ ১ নভেম্বর হ্যামিল্টনে হওয়ার কথা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ভারতের সামনে এখন টানা পাঁচটি ম্যাচ জিতে সিরিজ শেষ করার সুযোগ, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য ঘরের মাঠে অন্তত একটি জয় তুলে নেওয়া।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: মিষ্টি ও ডেজার্টপ্রেমীদের জন্য সুখবর! মুম্বইয়ের জনপ্রিয় প্যাটিসেরি ব্র্যান্ড Theobroma এবার কলকাতায় যাত্রা শুরু করতে চলেছে। ব্র্যান্ডটির প্রি-লঞ্চ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী সৌরসেনী মৈত্র। তাঁর উপস্থিতি ঘিরে অনুষ্ঠানে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি হয়। তবে কলকাতায় ব্র্যান্ডটির আগমন নিয়ে অভিনেত্রী ঠিক কী বলেছেন, সে সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। সংস্থার ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেক ও নিউ আলিপুরে দুটি নতুন আউটলেট চালু হওয়ার কথা। ব্রাউনি, কেক, পেস্ট্রি, কুকিজ, স্যান্ডউইচ ও বিভিন্ন ধরনের বেকারি সামগ্রী নিয়ে হাজির হচ্ছে ব্র্যান্ডটি। পাশাপাশি ক্রেতাদের জন্য ডাইন-ইন, টেকঅ্যাওয়ে এবং ডেলিভারির ব্যবস্থাও রাখার কথা জানানো হয়েছে। Theobroma-র জনপ্রিয় পণ্যের মধ্যে রয়েছে Overload Brownie, Millionaire Brownie, Dutch Truffle Cake এবং Tiramisu। উৎসব কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠানে উপহার দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের গিফট বক্স ও হ্যাম্পারের ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানা গিয়েছে। কলকাতার সল্টলেকের BF 21, A.E. Block, Sector 1 এবং নিউ আলিপুরের Block E, 64-B ঠিকানায় নতুন আউটলেট খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির পাশাপাশি শহরে ব্রাউনি, চিজকেক ও পেস্ট্রির চাহিদাও বাড়ছে। সেই বাজারে Theobroma-র নতুন প্রবেশ কতটা সাড়া ফেলে, এখন সেটাই দেখার। সৌরসেনী মৈত্রের উপস্থিতি ঘিরে প্রি-লঞ্চ অনুষ্ঠানও বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে।
লখনউ: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন তিন বিধায়ক। মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি আবাসে এই সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা এলাকাগুলির উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সাক্ষাৎকারী তিন বিধায়ক হলেন আমেঠি জেলার গৌরীগঞ্জের রাকেশ প্রতাপ সিং, অযোধ্যা জেলার গোঁসাইগঞ্জের অভয় সিং এবং জালৌন জেলার কালপীর বিনোদ চতুর্বেদী। নিজেদের এলাকার উন্নয়ন এবং জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয় তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন বলে প্রকাশিত বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। আলোচনায় স্থানীয় পরিকাঠামো, নাগরিক পরিষেবা এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনও প্রকল্পের অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ কিংবা নতুন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। বিধায়কদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎকে প্রশাসনিক যোগাযোগের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এলাকার রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যাগুলি সরকারের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে যোগী আদিত্যনাথ বিধায়কদের বক্তব্য শুনেছেন এবং রাজ্যের উন্নয়ন ও জনকল্যাণের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। বৈঠক শেষে তিন বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে এই সাক্ষাতের পর সংশ্লিষ্ট বিধানসভা এলাকাগুলিতে কোনও নির্দিষ্ট উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তার উপরই এই সাক্ষাতের ভবিষ্যৎ তাৎপর্য নির্ভর করবে।
কলকাতা: কলকাতা পুরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে বাসিন্দাদের একাধিক সমস্যার কথা শুনলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। স্থানীয়দের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মাদক সেবন ও মদ্যপান, বেহাল ফুটপাত, শৌচাগারের সমস্যা এবং নিয়মিত আবর্জনা পরিষ্কার না হওয়া। বাসিন্দাদের বক্তব্য, এই সমস্যাগুলি তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় অসুবিধা তৈরি করছে। বিশেষ করে মাদক সেবন ও মদ্যপান নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পরিদর্শনের সময় ফুটপাতের বেহাল অবস্থার বিষয়টিও উঠে আসে। ফুটপাত চলাচলের উপযোগী না হলে প্রবীণ নাগরিক, শিশু এবং অন্যান্য পথচারীদের সমস্যা হতে পারে। তাই ফুটপাত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এলাকায় ব্যবহারযোগ্য শৌচাগারের ব্যবস্থা এবং নিয়মিত আবর্জনা অপসারণের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক নির্দেশ বাস্তবে কার্যকর হবে এবং সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান হবে। এখন সংশ্লিষ্ট দফতর ও পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।