


বারুইপুর: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের নিউ ইন্ডিয়ান মাঠে জনসভা থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক স্বাধীনতা, ভোট-পরবর্তী হিংসা, জমি দখল ও দুর্গাপুজো নিয়ে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করার ঘোষণা করেন তিনি। সভায় শুভেন্দু বলেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা আজ প্রকৃত রাজনৈতিক স্বাধীনতা পালন করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে তাঁর আর কিছু করার নেই। ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্তদের এফআইআর করার আহ্বান জানিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। জমি দখলের অভিযোগ তুলে শওকত ও জাহাঙ্গিরের নাম উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রতিশ্রুতি, বেআইনিভাবে দখল হওয়া জমি উদ্ধার করে তফসিলি জাতি ও জনজাতির মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচনে হারানোর চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন তিনি। পাশাপাশি দুর্গাপুজোয় বাধা দেওয়া হলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন। দলের সংগঠন মজবুত করার বিষয়েও কর্মীদের বার্তা দেন শুভেন্দু। এদিনের সভা থেকে তাঁর বড় ঘোষণা, এবারের গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: কালীপুজোর মেলায় দুর্ঘটনা এড়াতে বড় ফেরিস হুইল ও নৌকার মতো নাগরদোলা বসানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। ইস্পাতনগরী, সিটি সেন্টার ও বিধাননগরের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপ পরিদর্শন করেন ডিসি সেন্ট্রাল ধ্রুব দাস ও ডিসি (পূর্ব) রাসপ্রীত সিং। পুজো কমিটিগুলিকে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং যাতায়াতের পথ সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, সালানপুর: শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপুজো সম্পন্ন করায় ৮৩টি পুজো কমিটিকে সংবর্ধনা দিল সালানপুর থানা। শুক্রবার থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় বিজয়া সম্মেলন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বারাবনির বিধায়ক অরিজিৎ রায়, বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস, যুগ্ম বিডিও সৌরভ কুমার এবং থানার ওসি বিশ্বজিৎ মণ্ডল-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। পুজোর দিনগুলিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন বিধায়ক। অন্যদিকে, দুর্গাপুজো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুজো কমিটিগুলির সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান থানার ওসি। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুজো উদ্যোক্তাদের সম্মানিত করার পাশাপাশি পুলিশ ও পুজো কমিটিগুলির পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তাও তুলে ধরা হয়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, সালানপুর: পরকীয়া সন্দেহে অশোক কুমার সিং ওরফে বিকি নামে এক যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল। ঘটনাটি হিন্দুস্তান কেবলসের ওল্ড কলোনির। অভিযোগ, পাশের বাড়ির এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহে কয়েকজন মিলে তাঁকে মারধর করে। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনায় সুরেন্দ্র যাদব ও দীপক যাদবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মন্টু যাদবের স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তদন্ত চলছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাবাকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি মজদুর মঞ্চ। দুর্গাপুরের গ্যামন ব্রিজে তাঁর কুশপুতুল দাহ করে বিক্ষোভকারীরা। পাশাপাশি কোক ওভেন থানায় এফআইআর দায়ের করে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। বিক্ষোভের জেরে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় মজদুর সংঘের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কল্যাণ দুবে-সহ অন্যান্যরা।
নিজস্ব সংবাদদাতা: ভারতের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর বেনারস বা বারাণসী। গঙ্গার ঘাট, বিশ্বনাথ মন্দির, সরু গলি এবং গঙ্গা আরতির পাশাপাশি এই শহরের আরও একটি বিশেষ পরিচয় হল বেনারসি পান। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের কাছেও এই পান বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র। কাশীর অলিগলিতে ঘুরলেই দেখা যায় পান দোকানের সামনে ক্রেতাদের ভিড়। বেনারসের পান শুধুমাত্র মুখশুদ্ধি নয়, বরং শহরের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এখানকার মানুষের দৈনন্দিন জীবন, অতিথি আপ্যায়ন এবং আড্ডার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পানের সম্পর্ক। এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ বিশেষ স্বাদ ও সুগন্ধ। পানপাতার সঙ্গে চুন, খয়ের, মৌরি, এলাচ, সুপারি এবং বিভিন্ন মশলার সঠিক মিশ্রণে তৈরি হয় এই পান। দোকানভেদে উপকরণ ও তৈরির পদ্ধতিতেও থাকে ভিন্নতা। মিষ্টি পান পর্যটকদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। গোলাপের পাপড়ি, গুলকন্দ, নারকেল, মৌরি ও এলাচের মিশ্রণে তৈরি এই পান স্বাদে ও সুগন্ধে আলাদা। এছাড়াও সাধারণ পান, মশলাদার পান এবং রুপোর তবক দিয়ে সাজানো বিশেষ পানও পাওয়া যায়। অনেক দোকানে ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী উপকরণ মিশিয়ে পান তৈরি করে দেন বিক্রেতারা। পান তৈরি করাও এখানে এক ধরনের শিল্প। পানপাতা পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে উপকরণ সাজানো, সুন্দরভাবে ভাঁজ করা এবং পরিবেশন—প্রতিটি ধাপেই থাকে দক্ষতার ছাপ। বহু বিক্রেতা বংশপরম্পরায় এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের নিজস্ব রেসিপি ও তৈরির কৌশলই প্রতিটি দোকানের পানের স্বাদে আলাদা বৈশিষ্ট্য এনে দেয়। কাশী ভ্রমণে এসে বিশ্বনাথ মন্দির দর্শন, গঙ্গার ঘাটে নৌকাবিহার কিংবা সন্ধ্যার গঙ্গা আরতি উপভোগের পর অনেক পর্যটকই স্থানীয় পান খেতে পছন্দ করেন। বিশেষ করে পুরনো সরু গলির ঐতিহ্যবাহী পান দোকানে দাঁড়িয়ে পান খাওয়ার অভিজ্ঞতা পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও পরিবর্তন হবে, এমনটাই প্রত্যাশা করেছিলেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসকে শেষ করা এবং বিরোধী নেতাদের জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তবে সেই পদক্ষেপ হতে হবে সম্পূর্ণ আইন মেনে, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে। অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি হোক, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার ভাষা গণতন্ত্রের পক্ষে কতটা গ্রহণযোগ্য? বিরোধী দল মানেই অপরাধী নয়। গণতন্ত্রে বিরোধীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা কর্মসংস্থান, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন। অথচ রাজনৈতিক সংঘাত ও প্রতিশোধের আশঙ্কা যদি প্রাধান্য পায়, তাহলে সুশাসনের প্রতিশ্রুতি প্রশ্নের মুখে পড়বেই। বিশেষত দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো জেলায় তৃণমূলের দীর্ঘদিনের বুথভিত্তিক সংগঠন রয়েছে। সেখানে শুধু রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি দিয়ে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ক্ষমতার আসল পরীক্ষা বিরোধীদের জেলে পাঠানো নয়, মানুষের আস্থা অর্জন। প্রতিহিংসা নয়, আইনের শাসন ও উন্নয়নই হওয়া উচিত নতুন সরকারের প্রধান পরিচয়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে জনতার দরবারে উপস্থিত হয়ে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ ও বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে পাশে থাকার বার্তা দেন তিনি। সরকারি পরিষেবা পেতে অসুবিধা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন উপস্থিত মানুষজন। তাঁদের বক্তব্য মন দিয়ে শোনার পাশাপাশি কোথায় কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে, তা জানার চেষ্টা করেন শুভেন্দু অধিকারী। জনতার দরবারের মূল উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করা এবং তাঁদের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট স্তরে পৌঁছে দেওয়া। তবে শুধু অভিযোগ শোনাই নয়, সেই সমস্যাগুলির কত দ্রুত সমাধান হয়, সেদিকেও নজর থাকবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। এবার জনতার দরবারে উঠে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে কী ধরনের পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
নিজস্ব সংবাদদাতা: নাগরিক পরিষেবার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানই প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কোনও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনেই মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তাঁর বক্তব্যে পানীয় জল সরবরাহ, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তা মেরামত, নিকাশি ব্যবস্থা এবং পথবাতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার উন্নয়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। শহরাঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় এই পরিষেবাগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও পানীয় জলের সমস্যা, কোথাও রাস্তার বেহাল দশা, আবার কোথাও নিকাশি ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়। অগ্নিমিত্রা পলের মতে, মানুষের প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করে প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই তার বাস্তবসম্মত সমাধান করতে হবে। শুধু ঘোষণা নয়, সংশ্লিষ্ট দফতর ও পুরসভার মধ্যে সমন্বয় রেখে পরিষেবার বাস্তবায়ন জরুরি।
নিজস্ব সংবাদদাতা: কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কম খরচে ভালো ফলন এবং জল সাশ্রয়ের লক্ষ্যে পলি মালচিং পদ্ধতির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। বিশেষ করে বেগুন চাষে এই প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। এই পদ্ধতিতে জমির মাটির উপর বিশেষ ধরনের কালো বা রূপালি-কালো প্লাস্টিকের আবরণ বিছিয়ে চাষ করা হয়। এতে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে রাখা সম্ভব হয় এবং আগাছার বৃদ্ধি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে। প্রথমে জমি ভালোভাবে চাষ করে জৈব সার ও প্রয়োজনীয় অনুমোদিত সার মিশিয়ে উঁচু বেড তৈরি করতে হয়। এরপর বেডের উপর ড্রিপ সেচের পাইপ বসিয়ে মালচিং ফিল্ম বিছিয়ে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিদ্র করে বেগুনের চারা রোপণ করা হয়। এই পদ্ধতিতে গাছের গোড়ায় নিয়ন্ত্রিতভাবে জল ও পুষ্টি পৌঁছে দেওয়া যায়। ফলে সেচের জলের ব্যবহার কমতে পারে এবং জমিতে বারবার আগাছা পরিষ্কারের প্রয়োজন হয় না। পাশাপাশি বেগুনের ফল সরাসরি মাটির সংস্পর্শে না আসায় ফল তুলনামূলক পরিষ্কার থাকে এবং মাটিবাহিত কিছু রোগের ঝুঁকিও কমতে পারে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নতমানের রোগমুক্ত চারা, সুষম সার প্রয়োগ, নিয়ন্ত্রিত সেচ এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে এই পদ্ধতিতে ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শুধুমাত্র মালচিং ব্যবহার করলেই ফলন দ্বিগুণ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। মাটির গুণমান, আবহাওয়া, বেগুনের জাত এবং রোগ-পোকার আক্রমণের উপর ফলন নির্ভর করে। বিশেষ করে বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। জমিতে যাতে জল না জমে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। অন্যদিকে, মালচিং ফিল্ম ও ড্রিপ সেচ ব্যবস্থা বসানোর জন্য প্রাথমিক খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে। চাষের মরশুম শেষে ব্যবহৃত প্লাস্টিক জমি থেকে তুলে যথাযথভাবে পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থাও করতে হবে। বর্তমানে কৃষিক্ষেত্রে শ্রমিকের অভাব, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং সেচের জলের সংকটের কারণে পলি মালচিং পদ্ধতি কৃষকদের কাছে কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠছে। তবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে স্থানীয় কৃষি দফতর বা কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক পরিকল্পনা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করতে পারলে পলি মালচিং বেগুন উৎপাদন বাড়াতে এবং কৃষকদের পরিশ্রম কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।



নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুর: ‘বড় চোর যাবে, চিন্তার কারণ নেই!’ বারুইপুরে বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ জনসভা থেকে এমনই মন্তব্য করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা বাড়ালেন শুভেন্দু অধিকারী। দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বড় চোরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় আসবে। যদিও নির্দিষ্ট কারও নাম করেননি তিনি। সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএমকে একযোগে নিশানা করে দুই দলের মধ্যে গোপন রাজনৈতিক সমঝোতার অভিযোগ তোলেন বিজেপি নেতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর এবং বাম নেত্রী বেবি বেগমের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করে ‘এঁচোড়ের পাকা ভাইপো’ বলে আক্রমণ করেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিরোধীদের রাজনৈতিক অধিকার, পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং সাংসদদের জনসংযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের প্রসঙ্গ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ জানানোর পাশাপাশি বিজেপি কর্মীদের সংগঠন শক্তিশালী করার বার্তাও দেন। তবে তৃণমূল ও সিপিএমের মধ্যে আঁতাত এবং শাসকদলের বিরুদ্ধে তাঁর তোলা অভিযোগের পক্ষে সভায় নির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি। সব মিলিয়ে ‘বড় চোর যাবে’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বারুইপুরের সভা ঘিরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে আয়োজিত রাজনৈতিক সভা থেকে বিরোধীদের আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা বিভাগের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভাগীয় কনভেনার দেবাংশু পাণ্ডের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় জনসমাগমের প্রশংসা করেন তিনি। বক্তব্যে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা, সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণ এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। রেজিনগরের ৭০-৩০ সমীকরণের প্রসঙ্গ তুলে ধর্মীয় জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্বাচনী ফলাফল ব্যাখ্যা করার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি সিপিএম নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠার সময়কার রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন। কলকাতা কর্পোরেশন ও হাওড়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচির ইঙ্গিতও দেন তিনি। সভায় দেবাংশু পাণ্ডের সাংগঠনিক উদ্যোগের প্রশংসার পাশাপাশি বিরোধীদের বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক বার্তা উঠে আসে। সব মিলিয়ে বারুইপুরের এই সভাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দার্জিলিং: পাহাড়ের মনোরম পরিবেশে পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ‘সরস মেলা’। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে গত ২৮ অক্টোবর দার্জিলিংয়ের চৌরাস্তায় এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা নিজেদের হাতে তৈরি হস্তশিল্প, বাহারি পোশাক, ঘরোয়া খাদ্যসামগ্রী এবং বিভিন্ন আকর্ষণীয় পণ্য নিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। মেলার প্রতিটি স্টলে ফুটে উঠেছে তাঁদের সৃজনশীলতা ও শিল্পকুশলতার পরিচয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকরাও মেলার বিভিন্ন স্টলে ভিড় জমাচ্ছেন এবং পছন্দের সামগ্রী কিনছেন। এই মেলার মূল উদ্দেশ্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের উৎপাদিত পণ্যের বিপণন এবং তাঁদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। এর ফলে তাঁরা সরাসরি ক্রেতাদের কাছে নিজেদের পণ্য তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। দার্জিলিংয়ের পর খুব শীঘ্রই কলকাতাতেও সরস মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে পর্যটন, গ্রামীণ শিল্প এবং মহিলাদের স্বনির্ভরতার মেলবন্ধনে দার্জিলিংয়ের সরস মেলা বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গবাদি পশুর গোবর থেকে তৈরি হবে রান্নার গ্যাস। গ্রামীণ পরিবারগুলির জ্বালানি খরচ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প শক্তির প্রসারে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে জয়নগর-১ ব্লক প্রশাসন। কেন্দ্রীয় সরকারের VB-G RAM G প্রকল্পের অধীনে এই উদ্যোগ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ব্লকের ৭৩ জন খামারিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। জাঙ্গালিয়া গ্রামে তৈরি হয়েছে প্রথম দুটি গোবর গ্যাস প্ল্যান্ট এবং আরও সাতটি প্ল্যান্ট তৈরির কাজ চলছে। এই প্রকল্পে গোবর ও জল নির্দিষ্ট চেম্বারে রেখে জৈব প্রক্রিয়ায় বায়োগ্যাস উৎপাদন করা হবে। উৎপন্ন গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন, যা উপযুক্ত পরিকাঠামোর মাধ্যমে রান্নার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। পাশাপাশি গ্যাস তৈরির পর অবশিষ্ট জৈব পদার্থ কৃষিকাজে সার হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। ফলে একদিকে যেমন গোবরের সঠিক ব্যবহার হবে, অন্যদিকে বিকল্প জ্বালানি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে একাধিক গবাদি পশু রয়েছে এমন পরিবারগুলিকে এই প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, পর্যায়ক্রমে চিহ্নিত খামারিদের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। তবে প্রকল্পের সাফল্যের জন্য নিয়মিত গোবরের জোগান, প্ল্যান্টের রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপদ গ্যাস ব্যবহারের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। জাঙ্গালিয়ার প্রথম দুটি প্ল্যান্টের পর আগামী দিনে এই উদ্যোগ কতটা সম্প্রসারিত হয়, এখন সেদিকেই নজর।
নিজস্ব সংবাদদাতা: আসন্ন কালীপুজো, ছট পুজো ও জগদ্ধাত্রী পুজোকে সামনে রেখে নিরাপত্তা এবং নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ প্রস্তুতির উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা, পানীয় জল সরবরাহ, রাস্তার আলো এবং জরুরি পরিষেবা সচল রাখাই প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের নেতৃত্বে উৎসবকালীন পরিষেবা ও পরিকাঠামো আরও সক্রিয় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কালীপুজোয় বিভিন্ন মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে জনবহুল এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় নজরদারি, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, নিরাপদ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং জরুরি বহির্গমন পথের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ছট পুজো উপলক্ষে নদী, পুকুর ও জলাশয়ের ঘাটগুলিতে বিপুল মানুষের সমাগম হয়। তাই ঘাট পরিষ্কার রাখা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নিরাপদ যাতায়াত এবং জরুরি উদ্ধার পরিষেবা প্রস্তুত রাখার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করে চন্দননগর-সহ বিভিন্ন এলাকায় দর্শনার্থীদের ভিড় ও শোভাযাত্রার কারণে যান চলাচলে চাপ তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতিতে পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য অপসারণ, পানীয় জল সরবরাহ এবং যান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি নিকাশি ব্যবস্থা ও রাস্তার আলো সচল রাখতেও সংশ্লিষ্ট পুরসভাগুলিকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে পুলিশ, দমকল, স্বাস্থ্য দফতর, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং পুরসভার মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। কোথাও পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যা বা দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তার জন্য আগাম পরিকল্পনার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উৎসবের মরশুমে শুধু নিরাপত্তা নয়, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা দর্শনার্থীদের জন্য নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে কালীপুজো, ছট পুজো ও জগদ্ধাত্রী পুজো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উৎসবের আনন্দ যাতে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা বা নাগরিক দুর্ভোগের কারণে বিঘ্নিত না হয়, সেটাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

নিজস্ব সংবাদদাতা: শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ, সুশৃঙ্খল পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকাঠামো তৈরিতে একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং বন্ধ করার পাশাপাশি কলকাতা, বিধাননগর, হাওড়া ও শিলিগুড়ির মতো শহরে মাল্টি-লেভেল কার পার্কিং তৈরির উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকায় নির্দিষ্ট পার্কিং জোন তৈরি এবং গাড়ি রাখার জায়গা চিহ্নিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সীমিত জমিতে একাধিক তলায় গাড়ি রাখার ব্যবস্থা হলে পার্কিংয়ের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধু রাস্তা তৈরি নয়, যান চলাচল, পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিক পরিষেবার উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকাঠামো উন্নয়নে Skymax-এর পক্ষ থেকে ৩,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাবের কথা সামনে এসেছে। পাশাপাশি NITCON-এর সঙ্গে একটি সমঝোতাপত্র বা MOU স্বাক্ষরও এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ, পরিবহণ ও প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বিনিয়োগের প্রস্তাব বাস্তবে কার্যকর হওয়া, প্রকল্পের সময়সীমা এবং অর্থের ব্যবহারই শেষ পর্যন্ত সাফল্য নির্ধারণ করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের যানজট কমাতে শুধু পার্কিং নিষিদ্ধ করলেই হবে না, বিকল্প পার্কিং পরিকাঠামোও গড়ে তুলতে হবে। একইভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত নজরদারি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি। সব মিলিয়ে মাল্টি-লেভেল পার্কিং এবং ৩,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে রাজ্যের নগরোন্নয়নে নতুন পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে। এখন নজর, এই উদ্যোগগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং সাধারণ মানুষ কতটা পরিষেবা পান।
নিজস্ব সংবাদদাতা: দক্ষিণবঙ্গজুড়ে অব্যাহত আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা। কখনও আকাশজুড়ে মেঘের আনাগোনা, আবার কিছুক্ষণ পরেই দেখা মিলছে ঝলমলে রোদের। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। কোথাও বৃষ্টিতে ভিজেছে রাস্তাঘাট, আবার কোনও কোনও এলাকায় রোদ ঝলমলে আকাশের নিচে স্বাভাবিক রয়েছে জনজীবন। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে জেলার এক প্রান্তে বৃষ্টি হলেও অন্য প্রান্তে দেখা যাচ্ছে রোদের উপস্থিতি। শহর ও গ্রামীণ এলাকাতেও আবহাওয়ার পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোথাও মেঘলা আকাশ, আবার কোথাও মেঘ সরতেই বেরিয়ে আসছে সূর্য। তবে আপাতত দক্ষিণবঙ্গে একটানা ভারী বৃষ্টির উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা নেই বলেই প্রাথমিক পূর্বাভাসে ইঙ্গিত মিলছে। যদিও বৃষ্টি সম্পূর্ণ বন্ধ হচ্ছে না। স্থানবিশেষে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে বাইরে বেরোনোর আগে আবহাওয়ার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল থেকে দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। কমতে পারে বৃষ্টির প্রবণতা। তবে সব জেলায় একসঙ্গে রোদ ঝলমলে আবহাওয়া ফিরবে, এমন নিশ্চয়তা এখনই দেওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও মেঘলা আকাশ এবং বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাইরে বেরোলে সঙ্গে ছাতা বা রেইনকোট রাখা ভালো। পাশাপাশি কৃষকদেরও জমিতে জল জমছে কি না, সেদিকে নজর রাখতে হবে। সব মিলিয়ে আপাতত দক্ষিণবঙ্গে চলছে রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি। তবে আগামীকাল থেকে আবহাওয়ার উন্নতির সম্ভাবনা থাকায় কিছুটা স্বস্তির আশায় দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দারা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির অন্দরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ক্যানিং পূর্বে বড় ব্যবধানে পরাজিত বিজেপি প্রার্থী অসীম সাপুইকে বাসন্তী বিধানসভার ইনচার্জের দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে নিচুতলার কর্মীদের একাংশের মধ্যে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী মহম্মদ বাহারুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ৬৮৭ ভোট। তাঁর জয়ের ব্যবধান ৯১ হাজার ৯৫৫। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইএসএফ প্রার্থী আরাবুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৭৩৩ ভোট। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী অসীম সাপুই পেয়েছেন মাত্র ২৮ হাজার ৫৯৩ ভোট। ভোটের শতাংশের নিরিখে বিজেপির ঝুলিতে এসেছে ১১.৮৩ শতাংশ ভোট। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর এবার অসীম সাপুইকে বাসন্তী বিধানসভার ইনচার্জ করার সিদ্ধান্ত ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ, জয়নগর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি উৎপল নস্কর নিজের প্যাডে তাঁকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। আর এই সিদ্ধান্তেই অসন্তুষ্ট দলের একাংশের কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের প্রশ্ন, ক্যানিং পূর্বে এত বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পরেও কীসের ভিত্তিতে অসীম সাপুইকে অন্য বিধানসভা কেন্দ্রের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হল? কর্মীদের একাংশের দাবি, বাসন্তীতে বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার নির্বাচনে অসীম সাপুইয়ের তুলনায় বেশি ভোট পেয়েছেন। তাহলে স্থানীয় নেতৃত্বের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হল না কেন? বুথস্তরের কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা সংগঠনের জন্য পরিশ্রম করছেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না করেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
পর্দায় তিনি কখনও রোম্যান্টিক নায়ক, কখনও অ্যাকশন হিরো, আবার কখনও অভিনয়ের জাদুতে দর্শকদের আবেগপ্রবণ করে তোলেন। টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবনের নানা মুহূর্তও মাঝেমধ্যেই উঠে আসে সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায়। এবার কোনও সিনেমার প্রচার কিংবা নতুন কাজের খবর নয়, বরং পরিবারের এক বিশেষ মানুষকে ঘিরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় অভিনেতা। বোনের জন্মদিন উপলক্ষে ভালোবাসা ও আন্তরিক শুভেচ্ছাবার্তায় ভরিয়ে দিলেন তিনি। বোনের জন্মদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আদুরে পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রসেনজিৎ। তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে বোনের প্রতি গভীর স্নেহ, ভালোবাসা এবং আন্তরিকতা। অভিনেতা লিখেছেন, "তোমার জীবন ভরে উঠুক অফুরন্ত আনন্দ, সুস্বাস্থ্য আর অসংখ্য সুন্দর স্মৃতিতে। পৃথিবীর সব ভালোবাসা আর খুশি তোমার প্রাপ্য।"
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: কেপ টাউনে চলমান আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫-২৭ (WTC27)-এর টেস্ট ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং পারফরম্যান্স নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরলেন সাইমন হার্মার। প্রোটিয়াদের ব্যাটিংয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে অকপটে মত প্রকাশ করেছেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা, পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার ধরন এবং চাপের মুখে উইকেটে টিকে থাকার ক্ষমতা—এই বিষয়গুলি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আবারও সামনে এসেছে তাঁর বক্তব্যে। টেস্ট ক্রিকেটে শুধু রান করাই শেষ কথা নয়। দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিজে থাকা, প্রতিপক্ষের বোলারদের পরিকল্পনা বুঝে নেওয়া এবং দলের প্রয়োজন অনুযায়ী ইনিংস গড়ে তোলাই একজন ব্যাটারের আসল পরীক্ষা। বিশেষ করে কেপ টাউনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুতে প্রতিটি সেশনই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। তাই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং নিয়ে হার্মারের বিশ্লেষণ ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রোটিয়াদের ব্যাটিং নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স। টেস্ট ম্যাচে একটি বড় জুটি যেমন দলকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাতে পারে, তেমনই অল্প সময়ের ব্যবধানে কয়েকটি উইকেট হারালে চাপে পড়তে হয় গোটা দলকে। ব্যাটারদের মধ্যে বোঝাপড়া, উইকেটের চরিত্র অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নেওয়া এবং প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে পরিকল্পনামাফিক খেলা—সবকিছুই এই ফরম্যাটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাইমন হার্মারের বক্তব্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ের সেই দিকগুলিই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তাঁর মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের বিশ্লেষণ দলের পারফরম্যান্সকে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে বুঝতে সাহায্য করতে পারে।

নিজস্ব সংবাদদাতা, থিম্পু: ভুটানে শিনটাফু হ্রদ থেকে হিমবাহের জল উপচে নেমে আসায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা তৈরি হয়েছে। ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যার পর এই বিপর্যয়ের জেরে গাসা জেলার জনপ্রিয় উষ্ণ প্রস্রবণ কেন্দ্র গাসা ছাচুর পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মচু নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়ায় একাধিক এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, আগাম সতর্কতায় বিপজ্জনক এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ায় ৩০ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি বা আহত হওয়ার খবর নেই। ভেসে গিয়েছে দুটি অস্থায়ী বেইলি সেতু এবং লায়া গ্রামের রাস্তার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনাকে গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা GLOF বলে মনে করা হচ্ছে। হিমবাহের জল জমে তৈরি হওয়া হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বিপুল জলরাশি নেমে এলে এমন বিপর্যয় ঘটে। ভুটানের এই বন্যার প্রভাব ভারতের নদী ব্যবস্থাতেও পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংকোশ নদীর জলস্তর বাড়তে পারে বলে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার এবং অসমের ধুবড়ি জেলায় সতর্কতা জারি হয়েছে।