


নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে সোমবার কলকাতার রাজপথে মহামিছিল করল বিজেপি। কলেজ স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এই পদযাত্রায় ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকরাও অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ দলের একাধিক নেতৃত্ব।
ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার পক্ষ থেকে মিছিলে নেতৃত্ব দেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা বিভাগের কনভেনর তথা ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা সভানেত্রী সোমা ঘোষ, সাতগাছিয়ার বিধায়ক অগ্নিশ্বর নস্কর-সহ অন্যান্য নেতারা। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের অংশগ্রহণে মিছিলে ডায়মন্ড হারবারের সাংগঠনিক উপস্থিতি নজরে আসে।বিজেপির পক্ষ থেকে এই কর্মসূচিকে গণতান্ত্রিক অধিকার, নির্বাচনী স্বচ্ছতা এবং মানুষের অধিকার রক্ষার প্রতিবাদী পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-কে ঘিরে চলা রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়। ‘ডায়মন্ড হারবার দিচ্ছে ডাক, অরাজকতা নিপাত যাক’ স্লোগান তুলে কলকাতার এই কর্মসূচিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন জেলার বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মীরা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান: রাস্তা পার হওয়া সাপকে বাঁচাতে আচমকা ব্রেক কষে লরি। পিছনে থাকা সরকারি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে লরিতে। রবিবার ভাতার থানার আলিনগর বাসস্ট্যান্ডের কাছে বাদশাহী রোডে দুর্ঘটনায় আহত হন অন্তত ৮ জন বাসযাত্রী। মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতাগামী এসবিএসটিসি বাসটি আলিনগর থেকে ছাড়ার কিছুক্ষণ পরেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে ভাতার ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে সাতজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল: আসানসোলে বিজেপির রাজ্য সহ-প্রভারী রাজেন্দ্র সিংকে স্বাগত জানালেন আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য। তাঁর উপস্থিতিতে জেলা বিজেপি কার্যালয়ে সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন উদ্যমে কাজ করার বার্তাও দেন জেলা সভাপতি।
দুর্গাপুর: দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে দুর্গাপুরের মেন গেট এলাকায় প্রাক্তন তৃণমূল নেতা গোলাম রসূলকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। রবিবার রাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের শাসনকালে মেন গেট এলাকায় যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিলেন গোলাম রসূল। সেই সময় বিজেপি কর্মীদের মারধর এবং ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার মতো ঘটনাও ঘটেছিল। তারই প্রতিবাদে এদিন তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন ক্ষুব্ধ কর্মীরা তাঁর ওপর চড়াও হন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুর্গাপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কালীপুজো ও দীপাবলির আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার চাম্পাহাটি-হারাল বাজি বাজারে এবার বিশেষ আকর্ষণ শিবকাশীর ‘লোটাস’ বা পদ্ম বাজি। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে পদ্মফুলের প্রতীক ঘিরে ক্রেতাদের মধ্যে এই বাজি নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। রবিবার বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন দোকানেই সাজানো রয়েছে এই বিশেষ আতশবাজি।তামিলনাড়ুর শিবকাশীর ভনিথা কোম্পানির তৈরি এই বাজির নাম ‘লোটাস’। পদ্মফুলের মতো আলোর আকৃতি তৈরি হওয়ায় বাংলার বাজারে এটি ‘পদ্ম’ বাজি নামে পরিচিতি পেয়েছে। আগুন জ্বালালে বিভিন্ন রঙের আলো ছড়িয়ে ধীরে ধীরে পদ্মফুলের মতো দৃশ্য তৈরি হয়। অভিনব এই আলোর খেলাই ক্রেতাদের আকর্ষণের মূল কারণ।তবে এই বাজির দাম সাধারণের নাগালের বাইরে। একটি বাজির দাম ১ হাজার টাকারও বেশি। ব্যবসায়ী অর্জুন মণ্ডলের দাবি, দাম বেশি হওয়ায় মূলত বিত্তশালী ক্রেতারাই এটি কিনছেন। অবাঙালি ক্রেতাদের মধ্যেও আগ্রহ রয়েছে বলে জানান তিনি। চাম্পাহাটি-হারাল বাজি বাজার সমিতির তরফেও এই বাজি নিয়ে ক্রেতাদের সাড়ার কথা জানানো হয়েছে।প্রতি বছরই উৎসবের মরশুমে নতুন ধরনের বাজি বাজারে আসে। এবার সেই তালিকায় বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে শিবকাশীর ‘লোটাস’। রাজনৈতিক প্রতীকের পরিচিতি এবং অভিনব আলোর আকর্ষণ—দুইয়ের মেলবন্ধনে চাম্পাহাটির বাজি বাজারে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে এই ‘পদ্ম’।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে কলকাতায় মহামিছিল করল বিজেপি। কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত আয়োজিত এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও অসংখ্য কর্মী-সমর্থক।মিছিল থেকে গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং দেশের ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও নেপালের মতো প্রতিবেশী দেশগুলির রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে নেতৃত্বের বক্তব্য, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অস্থিরতার প্রভাব যেন ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় না পড়ে।
বক্তাদের দাবি, ১৪০ কোটি মানুষের ঐক্য, সংহতি ও সংবিধানের শক্তির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে ভারতের গণতন্ত্র। দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার যে কোনও প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হবে বলেও বার্তা দেন তাঁরা। মিছিল থেকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল করার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হয়।
কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মিছিলের মাধ্যমে গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রশ্নে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে চেয়েছে গেরুয়া শিবির।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল: আসানসোলের রবীন্দ্র ভবনে অনুষ্ঠিত হল ১৪তম Sikh Education & Excellence Awards ২০২৬। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য এবং আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি-সহ বিশিষ্টজনেরা। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও নাটকের মাধ্যমে গুরু নানক দেবজি এবং গুরু গোবিন্দ সিংজির জীবনাদর্শ, আত্মত্যাগ ও মানবতার বার্তা তুলে ধরা হয়। এই ধরনের অনুষ্ঠান নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও দেশপ্রেমের আদর্শে অনুপ্রাণিত করে বলে জানান দেবতনু ভট্টাচার্য।
নিজস্ব সংবাদদাতা: উৎসবের মরশুমে আলোকসজ্জায় সেজে উঠছে বাংলা। ঘরে ঘরে প্রস্তুতির পাশাপাশি আতশবাজির আলোয় উৎসবকে বর্ণময় করে তোলার পরিকল্পনা চলছে। তবে অতীতের দুর্ঘটনার কথা মাথায় রেখে বাজি উৎপাদন, মজুত ও বিক্রিতে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। শব্দবাজির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ও তুলনামূলক নিরাপদ আতশবাজি ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটি, হারাল, বজবজ ও লুঙ্গির মতো বাজি উৎপাদন ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারির দাবি উঠছে। কারখানায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, নিরাপদ মজুত এবং সরকারি বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এই শিল্পের সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা জড়িয়ে থাকায় শ্রমিকদের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নিষিদ্ধ শব্দবাজি এড়ানো, শিশুদের বাজি থেকে দূরে রাখা এবং দাহ্য পদার্থের কাছে বাজি না ফাটানোর মতো সতর্কতা মেনে চলা প্রয়োজন। উৎসবের আনন্দ যেন কোনও দুর্ঘটনায় বিষাদে পরিণত না হয়, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের কাছে সেটাই প্রত্যাশা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা: বামনগোলা উত্তর এরিয়া কমিটির উদ্যোগে মালদার পাকুয়াহাট বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত হল সিপিআইএমের জনসভা। সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড মীনাক্ষী মুখার্জি-সহ মালদা জেলা নেতৃত্বের একাধিক সদস্য।
এই জনসভাকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে সভার আয়োজন করে সাধারণ মানুষের কাছে দলের রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মসূচি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন নেতৃত্ব। পাশাপাশি এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার বিষয়গুলি তুলে ধরার উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মীনাক্ষী মুখার্জির উপস্থিতি সভায় বিশেষ তাৎপর্য যোগ করে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও জেলা নেতৃত্বকে একই মঞ্চে হাজির করে দলের সাংগঠনিক শক্তি ও ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বামনগোলা উত্তর এরিয়া কমিটির এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য এলাকায় সংগঠনকে আরও সক্রিয় করা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দলের যোগাযোগ বাড়ানো।
সব মিলিয়ে পাকুয়াহাটের এই জনসভার মধ্য দিয়ে মালদার গ্রামীণ এলাকায় নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচিকে আরও জোরদার করার বার্তা দিল সিপিআইএম।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: SIR-কে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবর্তে বাংলার শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের উপর গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক চাপানউতোরের আড়ালে রাজ্যের মানুষের আসল সমস্যাগুলি যেন হারিয়ে না যায়। বাংলার ভবিষ্যতের জন্য শিল্পায়ন ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই সবচেয়ে জরুরি।অগ্নিমিত্রা পালের মতে, রাজ্যে নতুন শিল্প স্থাপন, বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি এবং পরিকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের জন্য কাজের সুযোগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান রাজ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তাই রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।পাশাপাশি স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থা ও মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার উপরেও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে ভুয়ো তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে সতর্ক থাকার বার্তাও দেন মন্ত্রী।সব মিলিয়ে অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্যে উঠে এসেছে, SIR নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চললেও বাংলার শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক বিষয়গুলিকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। রাজ্যের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়তে এই ক্ষেত্রগুলিতেই বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

নিজস্ব সংবাদদাতা, খড়গপুর: নতুন প্রজন্মের মধ্যে দাবা খেলার প্রসার এবং মেধা ও মননশীলতার বিকাশের লক্ষ্যে খড়গপুরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত হল আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতা। ‘বালাজি মন্দির পল্লি উন্নয়ন সমিতি ক্লাব’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন মোট ২৬৩ জন দাবাড়ু। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভিনরাজ্য থেকে প্রতিযোগীরা যোগ দেন। অনুষ্ঠানে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ নতুন প্রজন্মকে দাবায় উৎসাহিত করতে ক্লাবের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দাবা শুধু একটি খেলা নয়, বরং শিশু-কিশোরদের মনোযোগ, ধৈর্য, পরিকল্পনা ও চিন্তাশক্তি বাড়ানোর অন্যতম মাধ্যম। এই ধরনের প্রতিযোগিতা নতুন প্রতিভা তুলে আনার পাশাপাশি সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। গত কয়েক বছর ধরেই ক্লাবটি এলাকায় দাবার প্রসারে কাজ করছে। ২৬৩ জনের অংশগ্রহণে এবারের আয়োজন সেই উদ্যোগকে আরও বড় পরিসর দিল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ মহামিছিলের মঞ্চ থেকে কংগ্রেস ও বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র প্রথম, দল দ্বিতীয়, ব্যক্তি স্বার্থ সবার শেষে।” তাঁর দাবি, বিজেপির কর্মীদের আদর্শই হল ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া।ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী ফলাফল প্রসঙ্গে বিরোধীদের সমালোচনা করে ১৩ কোটি ভোটারের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, এর মধ্যে ৬ কোটি মানুষের নাম স্থানান্তরিত হয়েছে, ৩ কোটি মৃত এবং বাকি ৩ কোটি অনুপ্রবেশকারী। যদিও এই পরিসংখ্যানের স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনও তথ্য মঞ্চের বক্তব্যে তুলে ধরা হয়নি।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে নীতিন নবীন বলেন, ১৪০ কোটি দেশবাসীর বিশ্বাস ও ঐক্যই ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি।
নিজস্ব সংবাদদাতা: খরিফ মরশুমে কৃষকদের আর্থিক সুরাহা দিতে বড় উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। ২০২৬-২৭ মরশুমে রাজ্যে ২৪ লক্ষ ৬৬ হাজার টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (MSP) উপরে কুইন্টাল প্রতি অতিরিক্ত ২০০ টাকা দেওয়ার ঘোষণাও রয়েছে। ফলে সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি করে বাড়তি অর্থ পাওয়ার সুযোগ পাবেন কৃষকরা।
কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ খরিফ মরশুমে সাধারণ মানের ধানের MSP কুইন্টাল প্রতি ২,৪৪১ টাকা এবং গ্রেড-এ ধানের ক্ষেত্রে ২,৪৬১ টাকা। গত মরশুমে সাধারণ ধানের MSP ছিল ২,৩৬৯ টাকা। অর্থাৎ এবার কুইন্টাল প্রতি ৭২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে রাজ্যের অতিরিক্ত ২০০ টাকা যুক্ত হলে সাধারণ ধানের ক্ষেত্রে কৃষকদের প্রাপ্ত অর্থ আরও বাড়বে।
রাজ্যের খাদ্য দফতরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ছয় কোটি রেশন গ্রাহকের খাদ্যের চাহিদা মেটাতেই এই বিপুল পরিমাণ ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁদের জন্য বছরে প্রায় ১৫ লক্ষ ৮৪ হাজার টন চালের প্রয়োজন। সেই চাহিদা পূরণে বিভিন্ন জেলা থেকে ধান সংগ্রহ করে চাল উৎপাদন ও সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
ধান বিক্রির জন্য রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্রীয় ধান ক্রয়কেন্দ্র (CPC), মোবাইল ক্রয়কেন্দ্র (mCPC), সমবায় সংস্থা এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে ব্যবস্থা করা হয়েছে। কৃষকদের সরকারি পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করে নির্দিষ্ট সময়ে ধান বিক্রির স্লট বুক করতে হয়। প্রয়োজনে বাংলা সহায়তা কেন্দ্র এবং খাদ্য দফতরের অফিস থেকেও সাহায্য পাওয়া যাবে। সরকারি এই উদ্যোগে কৃষকদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজ্যের রেশন ব্যবস্থায় চালের জোগান বজায় রাখাও অন্যতম লক্ষ্য।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মহামিছিল করল বিজেপি। উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ শীর্ষ নেতৃত্ব ও অসংখ্য কর্মী-সমর্থক।মিছিলের মঞ্চ থেকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ২ কোটি ৯২ লক্ষ ভোট পেয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করেছে দল। এই জনসমর্থনকে রাজ্যের মানুষের আস্থা ও পরিবর্তনের প্রত্যাশার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়।মিছিলের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR। বিজেপি নেতৃত্বের স্লোগান, ‘SIR মানে অনুপ্রবেশকারী হটাও, ভারত বাঁচাও’। ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা, প্রকৃত নাগরিকদের ভোটাধিকার রক্ষা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের দাবিও তোলা হয়।নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে সুশাসন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়গুলি তুলে ধরেন নেতৃত্ব। সব মিলিয়ে নির্বাচনী সাফল্য, ভোটার তালিকা সংশোধন ও সীমান্ত নিরাপত্তার বার্তা ঘিরেই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠল বিজেপির এই মহামিছিল।
নিজস্ব প্রতিবেদন: পেঁয়াজ ও রসুন চাষিদের জন্য বড় সুযোগ নিয়ে এল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যানপালন দফতর। ফসল সংরক্ষণের পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে মিশন ফর ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অফ হর্টিকালচার (MIDH) প্রকল্পে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পে ২৫ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার পেঁয়াজ-রসুন সংরক্ষণাগার তৈরিতে মোট খরচ ধরা হয়েছে ২ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেবে রাজ্য সরকার। বাকি ১ লক্ষ টাকা দিতে হবে উপভোক্তাকে।ব্যক্তিগত কৃষক ছাড়াও FIG, FPO, FPC, CIG, স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করতে হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যানপালন দফতরের পোর্টাল wbfpih.wb.gov.in-এ। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর তার প্রিন্ট কপি ও প্রয়োজনীয় নথি ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা বা মহকুমা উদ্যানপালন দফতরে জমা দিতে হবে।আবেদনের জন্য আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, জমির দলিল বা ROR, ব্যাঙ্কের পাসবই, মোবাইল নম্বর, ছবি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কৃষক বন্ধু আইডি প্রয়োজন হতে পারে।তবে আবেদন করলেই ভর্তুকি নিশ্চিত নয়। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আবেদন বেশি হলে লটারির মাধ্যমে উপভোক্তা নির্বাচন করা হতে পারে। সংরক্ষণাগার নির্মাণের পর সরকারি যাচাই এবং কৃষি বিভাগের Krishi Mapper অ্যাপে জিও-ট্যাগিং বাধ্যতামূলক। সমস্ত শর্ত পূরণের পরেই মিলবে ভর্তুকির টাকা।ফসল তোলার মরশুমে বাজারে পেঁয়াজ-রসুনের জোগান বেড়ে গেলে অনেক সময় দাম কমে যায়। সংরক্ষণের অভাবে কৃষকদের কম দামেই ফসল বিক্রি করতে হয়। এই প্রকল্পে ছোট সংরক্ষণাগার তৈরি হলে কৃষকরা কিছুটা সময় ফসল মজুত রেখে বাজারের পরিস্থিতি বুঝে বিক্রির সুযোগ পাবেন। ফলে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি ন্যায্য দাম পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে। আবেদনের সময়সীমা ও জেলার বরাদ্দ জানতে সরকারি পোর্টাল অথবা সংশ্লিষ্ট উদ্যানপালন দফতরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা: সুস্থ থাকতে খাদ্যাভ্যাসে বড়সড় পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের খাবারে কয়েকটি ছোট পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুম সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম ভিত্তি।সাধারণ আটার রুটির পাশাপাশি সম্পূর্ণ শস্যের রুটি খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। এতে থাকা ফাইবার হজমে সাহায্য করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে পারে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আপেল, পেয়ারা, পেঁপে, কমলালেবু ও অন্যান্য মরশুমি ফল রাখাও জরুরি। ফলের রসের বদলে গোটা ফল খেলে ফাইবারের উপকার বেশি পাওয়া যায়।রান্নায় হলুদ, আদা, রসুন, জিরে, দারুচিনি ও গোলমরিচের মতো পরিচিত মশলা পরিমিত ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলিতে থাকা বিভিন্ন উপাদান নিয়ে স্বাস্থ্যগুণ সংক্রান্ত গবেষণা হয়েছে। তবে মশলা কোনও ওষুধের বিকল্প নয়।পাশাপাশি ডাল, শাকসবজি, বাদাম ও সম্পূর্ণ শস্যের মতো ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার বাড়ানো দরকার। কমাতে হবে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার। পর্যাপ্ত জল পান এবং প্রতিদিন হাঁটা বা হালকা ব্যায়ামও শরীরকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।তবে ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা বা অন্য দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা থাকলে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই ধীরে ধীরে সুস্থ জীবনযাপনের পথ তৈরি করতে পারে।

নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল: কালীপুজোর আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হলেও প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছেন আসানসোলের মৃৎশিল্পীরা। একদিকে প্রয়োজনীয় মাটির অভাব, অন্যদিকে লাগাতার বৃষ্টিতে ব্যাহত হচ্ছে প্রতিমা শুকানোর কাজ। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিমা তৈরি করে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে শিল্পীদের।মৃৎশিল্পী ডালিম চন্দ্র জানান, এবছর মাটির জোগান বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার উপর পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় বড় বড় প্রতিমা শুকোতে সময় লাগছে। ফলে রং ও সাজসজ্জার কাজও পিছিয়ে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই প্রতিমা ডেলিভারি শুরু হবে। তাই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাত দুটো থেকে তিনটে পর্যন্ত জেগে কাজ করছেন শিল্পীরা। তাঁদের আশা, বৃষ্টির দাপট কমলে দ্রুত বাকি কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। উৎসবের আনন্দে প্রতিমা তৈরির এই নেপথ্য কারিগরদের পরিশ্রম যাতে বিফলে না যায়, এখন সেই প্রার্থনাই করছেন তাঁরা।


নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’কে ঘিরে সতর্কতা জারি হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২ নভেম্বর মাঝরাত থেকে ৩ নভেম্বর ভোরের মধ্যে নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।তবে ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা কম। আপাতত রাজ্যে ভারী বৃষ্টির কোনও বড় আশঙ্কা নেই। যদিও কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের কিছু এলাকাতেও হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের কিছু জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও ৪ নভেম্বর থেকে অধিকাংশ জেলায় আবহাওয়া শুষ্ক হতে পারে। অর্থাৎ মুরাসুর প্রভাব বাংলায় সীমিত থাকলেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: আদিবাসী মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং জল-জঙ্গল-জমি রক্ষার দাবিতে পুরুলিয়ার মানবাজারে অনুষ্ঠিত হল বিশাল মহাসমাবেশ। মানবাজারের পাথরকাটা ফুটবল ময়দানে ‘প্রকৃতির আদিবাসী মঞ্চ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে খনি ও শিল্প প্রকল্পের নামে পাহাড়, বনাঞ্চল ও জলসম্পদ ধ্বংসের অভিযোগ তুলে সরব হন আন্দোলনকারীরা।কাশিপুর, ১২ মাইল, মানবাজার, পাঁচপাহাড়ি ও বেলপাহাড়ি-সহ বিভিন্ন এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার দাবি ওঠে সমাবেশে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, খনিজ উত্তোলন ও শিল্পায়নের নামে আদিবাসী ও বনবাসী মানুষকে তাঁদের বসতি ও জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে। প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানি ও অন্যায়ভাবে আটকের অভিযোগও তোলেন তাঁরাএনসিআরবি-র ২০২৩ সালের তথ্যের উল্লেখ করে আন্দোলনকারীদের দাবি, আদিবাসীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ৯৩ শতাংশ মামলার নিষ্পত্তি হয় না। তাই মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়।সমাবেশ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়, স্থানীয় গ্রামবাসীদের মতামত ও সম্মতি ছাড়া কোনও খনি বা শিল্প প্রকল্প চাপিয়ে দেওয়া চলবে না। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, জল, জঙ্গল ও জমি শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, আদিবাসী সমাজের জীবন, জীবিকা ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস ও মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া বন্ধ করতে হবে।
নিজস্ব সংবাদদাতা: দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হারের পর অস্ট্রেলিয়া দলকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। ব্যাটিং ব্যর্থতা, সিনিয়র ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ এবং দল নির্বাচনের কৌশল নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এই পরিস্থিতিতে প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, এখনই পুরো দল ভেঙে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চান না তাঁরা। বরং অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ও নতুন প্রতিভার মধ্যে ভারসাম্য রেখেই ভবিষ্যতের দল গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।সিরিজের প্রথম টেস্টে ২১৪ রানে জিতলেও পরের দুই ম্যাচে হেরে যায় অস্ট্রেলিয়া। শেষ টেস্টে ২৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১১১ রানে অলআউট হয় প্যাট কামিন্সের দল। এই ব্যর্থতায় দলের ব্যাটিং কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে মার্নাস লাবুশেনের পারফরম্যান্স হতাশ করেছে। তিন টেস্টে মাত্র ১৩১ রান করা এই ব্যাটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে কোচ এখনই তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি।ঘাড়ের সমস্যায় তৃতীয় টেস্টে খেলতে পারেননি স্টিভ স্মিথ। তবে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে তাঁকে পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী কোচ। অন্যদিকে, ক্যামেরন গ্রিনের প্রত্যাবর্তন ও জশ ইংলিসের শতরানকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন তিনি। নাথান লায়নের ভবিষ্যৎ নিয়েও এখনই সিদ্ধান্ত নিতে চান না ম্যাকডোনাল্ড।আগামী দিনে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে চারটি এবং ভারতের বিরুদ্ধে পাঁচটি টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার দৌড়ে এই সিরিজগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের ধাক্কা সামলে অস্ট্রেলিয়া কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: শহরের রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ক্যানাল ইস্ট ও ওয়েস্ট রোড সংলগ্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন আইএএস আধিকারিক স্মিতা পাণ্ডে, পুলিশ আধিকারিক এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্তারা।
পরিদর্শনে রাস্তার উপর যত্রতত্র বাইক ও গাড়ি পার্কিং এবং রাস্তা মেরামতির কাজে ব্যবহৃত জেসিবি-সহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রাখার কারণে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি নজরে আসে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পথচারীদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে অবৈধ পার্কিং বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন পুরমন্ত্রী। পাশাপাশি এলাকায় নির্দিষ্ট ও বৈধ পার্কিংয়ের জায়গা চিহ্নিত করার বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে বলেন তিনি।অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানান, ফুটপাত সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য। সেখানে কোনওভাবেই গাড়ি বা বাইক পার্ক করে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। রাস্তা মেরামতির কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও যানবাহনও এমনভাবে রাখতে হবে, যাতে সাধারণের যাতায়াত ব্যাহত না হয়।
শহরের যানজট কমানো, পথচারীদের নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক যাতায়াত নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারির উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা: শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধনে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হল ‘শারদ অনন্য সম্মান ২০২৬ – Season-3 Awards Show’। শারদ উৎসবের আবহে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিভাবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। বর্ণাঢ্য সাজসজ্জা, আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সন্ধ্যাটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিল্প-সংস্কৃতি, বিনোদন, সামাজিক উদ্যোগ এবং সৃজনশীলতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা মানুষদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া। পাশাপাশি নতুন প্রতিভাদের উৎসাহিত করে তাঁদের কাজকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণী পর্বের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অতিথি ও দর্শকদের বাড়তি আনন্দ দেয়। আয়োজকদের মতে, প্রতিষ্ঠিত প্রতিভাদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ করে দেওয়াই এই মঞ্চের অন্যতম লক্ষ্য। সব মিলিয়ে সম্মাননা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধনে ‘শারদ অনন্য সম্মান’-এর তৃতীয় সংস্করণ হয়ে উঠল এক বর্ণময় উদযাপন।
