


নিজস্ব সংবাদদাতা, ডায়মন্ড হারবার, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার হল ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডায়মন্ড হারবারের সরিষা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জমি দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে নেমে বুধবার সকালে ওই পার্টি অফিসে তল্লাশি চালায় ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। দীর্ঘ তল্লাশির পর বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মামলায় সম্প্রতি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ। বুধবার তাঁকে সঙ্গে নিয়েই সরিষার তৃণমূল পার্টি অফিসে পৌঁছন তদন্তকারী আধিকারিকরা। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে বান্ডিল বান্ডিল নগদ টাকা উদ্ধার হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা।একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় থেকে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের পর স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কোথা থেকে এল এই টাকা? কারা এই অর্থ পার্টি অফিসে রেখেছিলেন? এর সঙ্গে জমি সংক্রান্ত মামলার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
বিশেষ করে সুমিত রায়কে সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি এবং তার আগে জমি দুর্নীতি মামলায় তাঁর গ্রেপ্তারির ঘটনায় তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অর্থের প্রকৃত মালিকানা ও উৎস জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এই টাকা কোনও বেআইনি লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।ডায়মন্ড হারবারের মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে কোটি টাকার বেশি নগদ উদ্ধারের ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এখন পুলিশের তদন্তে টাকার উৎস এবং এই ঘটনার সঙ্গে আর কারও যোগসূত্র সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কাঁকসা: পানাগড় বাইপাসে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক পুলিশকর্মীর দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য ছড়াল। মৃতের নাম সঞ্জয় জানা। তিনি কাঁকসা ট্রাফিক গার্ডে কর্মরত ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে সহকর্মীদের সঙ্গে লরি সরানোর ডিউটিতে ছিলেন তিনি। একটি লরির আড়ালে তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন সহকর্মীরা। উদ্ধার করে দুর্গাপুরের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে সার্ভিস রিভলবার থেকে গুলি চলেছে বলে অনুমান পুলিশের। বুধবার ঘটনাস্থলে পৌঁছন পদস্থ আধিকারিকরা। ডাকা হয়েছে ফরেনসিক দল। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও ঘটনা, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।
রানিগঞ্জের নিমচায় পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১ কেজি ৬০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করল পুলিশ। ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে যোগিন্দর ভগত (৪৮)। পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন খবরের ভিত্তিতে নিমচা ফাঁড়ির আইসি নাসরিন সুলতানার নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। প্লাস্টিকের বালতি থেকে গাঁজা উদ্ধার হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে আগেও মাদক পাচারের অভিযোগ ছিল। বুধবার তাকে আসানসোল আদালতে পেশ করা হয়।
দুর্গাপুরে রাস্তার গর্তের জল বাইক আরোহীর গায়ে ছিটকে পড়াকে কেন্দ্র করে বচসা। অভিযোগ, বিবাদের জেরে পাওয়ার গ্রিডের কর্মী পূর্ণব্রত বেহেরার মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করেন এক মহিলা। তিনি দুর্গাপুর টাইমস ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। আহতকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় দু'জনকে আটক করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ছটপুজোর আগে দক্ষিণ কলকাতায় পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে প্রায় ৫০টি ঘাট তৈরির উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যোধপুর পার্কের একটি সম্ভাব্য ঘাটের স্থান পরিদর্শন করলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই ৩৯টি ঘাট চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে আরও ১০টি সম্ভাব্য স্থান খুঁজে দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০টি ঘাটের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিদর্শন করা স্থানটি রবীন্দ্র সরোবর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে। ছটপুজোর সময় পুণ্যার্থীদের ভিড় সামলানো এবং নিরাপদে ধর্মীয় আচার পালনের সুযোগ করে দেওয়াই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। ঘাটগুলিতে যাতায়াতের সুবিধার জন্য র্যাম্প তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু এবং শারীরিকভাবে অসুবিধায় থাকা মানুষদের কথা মাথায় রেখে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে র্যাম্পের নকশা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঘাটের নিরাপত্তা, পরিকাঠামোর সক্ষমতা এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। রবীন্দ্র সরোবর পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা হওয়ায় সেখানে প্রয়োজনীয় অনুমতি না মিললে বিকল্প হিসেবে যোধপুর পার্ক-সহ চিহ্নিত অন্যান্য স্থানে ঘাট তৈরির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। প্রশাসনের লক্ষ্য, উৎসবের সময় অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে পুণ্যার্থীদের নিরাপদে সূর্যদেবকে অর্ঘ্য নিবেদনের সুযোগ করে দেওয়া।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ফলতা: পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনার টাকা বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা ব্লকের হরিণডাঙা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে। ২৬ জন উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় ফলতার BDO-র তরফে ফলতা থানায় সরকারি অভিযোগ জানানো হয়েছে। ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে পাঠানো চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রকৃত উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে তালিকায় অন্য ব্যক্তিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত কর্মীদের স্বাক্ষরিত তালিকাতেই এই গরমিল ধরা পড়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টিকে সাধারণ ভুল না কি পরিকল্পিত অনিয়ম, তা খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন BDO। সম্ভাব্য আর্থিক তছরুপ, সরকারি প্রকল্পের নির্দেশিকা লঙ্ঘন এবং অর্থ পাচারের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তদন্তে তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত উপভোক্তারা তাঁদের প্রাপ্য সরকারি অনুদান থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রশাসনের। কোন ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে টাকা জমা পড়েছে কি না এবং এই ঘটনার পিছনে কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে জানার আবেদন করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে উপভোক্তাদের মূল তালিকা, ব্যাঙ্কের বিবরণ এবং টাকা বণ্টন সংক্রান্ত নথি চেয়েছে ব্লক প্রশাসন। চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলাশাসক, ডায়মন্ড হারবারের মহকুমাশাসক এবং সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত প্রধানের কাছেও।
নিজস্ব সংবাদদাতা,উত্তর ২৪ পরগনা: গ্রামীণ এলাকার গবাদি পশু ও অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণীদের চিকিৎসা পরিষেবা আরও সহজলভ্য করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ভ্রাম্যমাণ প্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্র। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাদুড়িয়া ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে এই ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্র। গ্রামের মানুষের কাছে পশু চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।গ্রামবাংলার বহু পরিবারের জীবিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গবাদি পশুর উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে গরু, ছাগল, ভেড়া-সহ বিভিন্ন গৃহপালিত প্রাণী পালন করে বহু পরিবার সংসার চালায়। কিন্তু অনেক সময় পশু অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য দূরের পশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া গ্রামীণ মানুষের কাছে বেশ সমস্যার হয়ে দাঁড়ায়। যাতায়াতের খরচ, সময় এবং শারীরিক অসুবিধার কারণে অনেকেই সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেন না। সেই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই গ্রামে গ্রামে পৌঁছে যাচ্ছে ভ্রাম্যমাণ প্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্র।বাদুড়িয়া ব্লকের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় এই চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ফলে পশুপালকদের মধ্যে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্রের মাধ্যমে গ্রামের কাছাকাছি এলাকাতেই পশু চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ফলে অসুস্থ গবাদি পশুকে চিকিৎসার জন্য দূরে নিয়ে যাওয়ার ঝক্কি অনেকটাই কমতে পারে।বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামের সেই সমস্ত পশুপালক, যাঁদের পক্ষে সহজে পশু হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব নয়, তাঁদের কাছে এই পরিষেবা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা পরিষেবা মানুষের বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি পশুদের অসুস্থতা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতেও এই উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে।গ্রামীণ অর্থনীতিতে পশুপালনের গুরুত্ব অপরিসীম। অনেক পরিবার গরুর দুধ বিক্রি করে সংসারের আয় বাড়ায়। আবার অনেকে ছাগল ও ভেড়া পালনকে জীবিকার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এই সমস্ত প্রাণীর স্বাস্থ্য ভালো রাখা অত্যন্ত জরুরি।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কখনও রাজনৈতিক দলের পার্টি অফিস, কখনও নেতাদের বাড়ি, আবার কখনও বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দফতর থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের খবর সামনে আসছে। আর তাতেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়ম নিয়ে। এত বিপুল অর্থের উৎস কী? এই টাকার সঙ্গে সরকারি প্রকল্পের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনকালে রাজ্যে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়েছে। বিরোধীরা বারবার শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তবে টাকা উদ্ধার হওয়া মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে অর্থের উৎস, মালিকানা এবং লেনদেনের পথ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনা প্রয়োজন। বিশেষ করে আবাসন, রাস্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ উন্নয়নের মতো সরকারি প্রকল্পের অর্থের সঙ্গে কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। কারণ এই অর্থ সাধারণ মানুষের করের টাকা, কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। দরিদ্র পরিবার পাকা বাড়ির আশায় অপেক্ষা করে, কৃষক সরকারি সহায়তার দিকে তাকিয়ে থাকেন, শ্রমজীবী মানুষ কাজের সুযোগ চান। সেই প্রাপ্য অর্থ যদি দুর্নীতির কারণে আটকে যায়, তার মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকেই। তাই শুধু টাকা উদ্ধার নয়, দোষ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং আত্মসাৎ হওয়া সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধার করতে হবে। রাজনৈতিক তরজার ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত হোক। কারণ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অধিকার কি সুরক্ষিত?
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে সরব হলেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করা গেলে ভোটার তালিকা থেকে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ নাম বাদ পড়তে পারত। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সরকারি দপ্তরে হামলা এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত সরকারি কর্মীদের উপর আক্রমণের অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন তিনি।শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে বিভিন্ন বাধা তৈরি করা হয়েছিল। বিশেষ করে সরকারি কর্মীদের উপর হামলা এবং সরকারি অফিসে ভাঙচুরের মতো ঘটনা SIR প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে বলে তিনি দাবি করেছেন।শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল, সঠিকভাবে SIR প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ নাম বাদ পড়তে পারত। তাঁর এই দাবি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কোন ধরনের নাম বাদ যাওয়ার কথা তিনি বলছেন এবং সেই সংখ্যার ভিত্তি কী।তবে এই ৩০ লক্ষের পরিসংখ্যানকে আপাতত শমীক ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের যাচাই করা তথ্য বা চূড়ান্ত পরিসংখ্যান ছাড়া এই সংখ্যাকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।তাঁর আরও দাবি, SIR চলাকালীন সরকারি আধিকারিকদের উপর হামলা, BDO অফিসে ভাঙচুর এবং নথিপত্র নষ্ট করার মতো ঘটনা সংশোধন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এই অভিযোগগুলির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রশাসনিক আধিকারিকরা যদি ভয়মুক্ত পরিবেশে কাজ করতে পারতেন, তাহলে আরও বেশি সংখ্যক অযোগ্য নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া সম্ভব হত। SIR প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। শমীক ভট্টাচার্য BDO থেকে শুরু করে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং অন্যান্য সরকারি কর্মীদের উপর চাপ ও হেনস্থার অভিযোগ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত কর্মীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ থাকা জরুরি।তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন জায়গায় সরকারি অফিসে হামলা, কর্মীদের কাজে বাধা এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের নথি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। তাঁর মতে, এই ধরনের পরিস্থিতির কারণে SIR-এর কাজ সম্পূর্ণভাবে করা সম্ভব হয়নি। এই ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসকেও সরাসরি নিশানা করেছেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতা ধরে রাখার রাজনৈতিক স্বার্থে অযোগ্য ভোটারদের নাম তালিকায় রেখে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিশেষ করে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকায় থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি রাজ্যের পূর্ববর্তী শাসকদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
দুর্গাপুরের মুচিপাড়ায় একাধিক হোটেলে যৌথ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হল বাসি ও পচা খাবার। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর, নগর নিগম ও পুলিশের অভিযানে ফাঙ্গাস ধরা চিকেন, পনির, বাসি ভাত-তরকারি এবং পুরনো মসলা উদ্ধার হয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, মানুষের খাবার রাখার ফ্রিজেই ছিল কুকুরের খাবার। হোটেল কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার সংরক্ষণের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন আধিকারিকরা।
রানিগঞ্জের এগরা পঞ্চায়েতের বাউলহিড় গ্রামে একই বাড়িতে পরপর তিনবার চুরির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে ঠাকুরের গয়না, নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় চুরির ছবি ধরা পড়েছে। খবর পেয়ে বল্লভপুর ফাঁড়ির পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, খড়গপুর: খড়গপুর-বালেশ্বর ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে আচমকাই দেখা গেল অদ্ভুত প্রাকৃতিক দৃশ্য। রাস্তার উপর থেকে ধুলো পাক খেতে খেতে মুহূর্তের মধ্যে উঠে গেল অনেকটা উঁচুতে। তৈরি হল ধুলোর বিশাল স্তম্ভ। এমন দৃশ্য দেখে চমকে যান জাতীয় সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী গাড়ির চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ইতিমধ্যেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবে এই ঘটনায় কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর নেই। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে রাস্তার উপর ধুলো উড়তে শুরু করে। এরপর সেই ধুলো ঘূর্ণির আকার নিয়ে ক্রমশ উপরের দিকে উঠতে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই তৈরি হয় ধুলোর স্তম্ভ। অনেকেই মোবাইল ফোনে এই বিরল দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন। আবহাওয়াবিদদের ভাষায়, এই ধরনের ঘটনাকে ‘ডাস্ট ডেভিল’ বা ধুলোর ঘূর্ণি বলা হয়। সাধারণত গরমে ভূমির কাছাকাছি বাতাস দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উপরের দিকে উঠতে শুরু করলে এবং আশপাশের বাতাস ঘূর্ণায়মান অবস্থায় প্রবেশ করলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। খোলা ও শুকনো জমিতে এই ঘটনা বেশি দেখা যায়। যদিও খড়গপুরের ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে ঠিক কী কারণে এমন ঘূর্ণি তৈরি হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ব্যস্ত জাতীয় সড়কে হঠাৎ ধুলোর এমন ঘূর্ণি তৈরি হওয়ায় চালকদের মধ্যে কৌতূহলের পাশাপাশি সাময়িক উদ্বেগও তৈরি হয়। কারণ, ধুলোর কারণে গাড়ি চালানোর সময় দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে মোটরবাইক চালকদের সতর্ক থাকা জরুরি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘূর্ণিটি মিলিয়ে যায়। বড় কোনও দুর্ঘটনা না ঘটায় স্বস্তি মিলেছে। তবে জাতীয় সড়কের উপর এমন অস্বাভাবিক দৃশ্য এখন নেটমাধ্যমে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা: মহাকাশ গবেষণায় আরও এক সাফল্য ভারতের। দেশের নিজস্ব দিকনির্ণয়কারী ব্যবস্থা ‘নাভিক’ (NavIC)-কে আরও শক্তিশালী করতে সফল হল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। অত্যাধুনিক কৃত্রিম উপগ্রহ NVS-03-কে নির্দিষ্ট ভূ-সমলয় কক্ষপথে পৌঁছে দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গত ৩০ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে GSLV-F18 রকেটের সাহায্যে উপগ্রহটি উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রায় ২২৫০ কেজি ওজনের এই উপগ্রহটি পরবর্তী প্রজন্মের নাভিক স্যাটেলাইট সিরিজের তৃতীয় সদস্য। ইসরো জানিয়েছে, একাধিক কক্ষপথ পরিবর্তনের ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করে উপগ্রহটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছেছে। এতে রয়েছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি রুবিডিয়াম পারমাণবিক ঘড়ি। পাশাপাশি L1, L5 এবং S ব্যান্ডে সংকেত পাঠানোর সুবিধা রয়েছে। ফলে স্মার্টফোন, গাড়ি, জাহাজ ও অন্যান্য নেভিগেশন ব্যবস্থায় আরও নির্ভুল অবস্থান এবং সময়ের তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। বর্তমানে আমেরিকার GPS-এর উপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তিতে দিকনির্ণয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য ভারতের। দেশের ভূখণ্ডের পাশাপাশি সীমান্তের প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় পরিষেবা দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে নাভিকের। এই সাফল্য ভারতের মহাকাশ প্রযুক্তি ও আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর দিতে কলকাতার পঞ্চায়েত ভবনে পর্যালোচনা বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ-সহ পদস্থ আধিকারিকরা। বৈঠকে মূল গুরুত্ব পায় ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্প ‘বিকশিত ভারত–গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা VB-G RAM G। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-সহ বিভিন্ন গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবর্ষে ২২ কোটি শ্রমদিবস তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৬৫.৬২ লক্ষ শ্রমদিবস তৈরি হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদেরও নিজের রাজ্যে ফিরে এসে এই প্রকল্পের মাধ্যমে কাজের সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। জবকার্ডধারীদের বছরে ৩৪,৫০০ টাকা আয়ের নিশ্চয়তার কথাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি পঞ্চায়েত দপ্তরের ৭,১৯০টি শূন্যপদে নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য। তাৎক্ষণিক কর্মী সংকট মেটাতে প্রায় এক হাজার অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে পঞ্চায়েত দপ্তরকে মডেল দপ্তর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। গ্রামীণ পরিকাঠামোর উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ডায়মন্ড হারবার: পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেই মিলল বিপুল নগদ টাকার হদিশ। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরিষায় একটি তৃণমূল পার্টি অফিসে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হল ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডায়মন্ড হারবারের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উদ্ধার হওয়া দলীয় কার্যালয়টি মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামিম আহমেদের বলে পরিচিত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির একটি মামলায় সুমিত রায়কে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। সেই জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই বুধবার তদন্তকারীরা সরিষার ওই পার্টি অফিসে অভিযান চালান। দীর্ঘ তল্লাশির পর সেখান থেকে উদ্ধার হয় ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা নগদ। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানান ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) অভিষেক মজুমদার। এই বিপুল অর্থ কোথা থেকে এল, কার নির্দেশে পার্টি অফিসে রাখা হয়েছিল এবং জমি সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে এর কোনও আর্থিক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় থেকে এক কোটিরও বেশি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদের পর এই অর্থের হদিশ মেলায় তদন্তের গুরুত্ব বেড়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া টাকার প্রকৃত মালিক কে, বিধায়ক শামিম আহমেদের সঙ্গে এর কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, কিংবা অর্থটি কোনও বেআইনি লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। টাকার উৎস ও মালিকানা জানতে আর্থিক নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই অর্থের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত মামলার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না এবং ঘটনার পিছনে অন্য কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, এখন সেটাই তদন্তের মূল বিষয়।
নিজস্ব সংবাদদাতা,কুলতলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সরকারি দফতরে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবার চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলিতে। কুলতলির ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকের (BLLRO) দফতরে হানা দিল রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখা বা অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চ (ACB)। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ওই দফতরের এক গ্রুপ-ডি আধিকারিককে হাতেনাতে ধরার খবর সামনে আসতেই প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।সরকারি দফতরে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন কাজের জন্য প্রতিদিন বহু মানুষকে আসতে হয়। জমির নথি, জমির রেকর্ড, মিউটেশন, জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন আবেদন এবং অন্যান্য প্রশাসনিক পরিষেবার জন্য ভূমি দফতরের উপর নির্ভর করেন সাধারণ মানুষ। সেই দফতরেই ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সরকারি পরিষেবার স্বচ্ছতা ও সাধারণ মানুষের হয়রানি নিয়ে।প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের সূত্র ধরেই কুলতলির BLLRO দফতরে পৌঁছয় দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অভিযুক্ত কর্মীকে হাতেনাতে ধরার উদ্দেশ্যে এই অভিযান চালানো হয় বলে জানা যাচ্ছে।অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি কাজের বিনিময়ে অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার ঘটনা সামনে আসে। এরপরই ACB-র আধিকারিকরা অভিযানে নেমে সংশ্লিষ্ট গ্রুপ-ডি কর্মীকে আটক করেন বলে খবর।এই ঘটনায় যে কর্মীর নাম উঠে এসেছে, তিনি কুলতলির BLLRO দফতরের গ্রুপ-ডি পদে কর্মরত বলে জানা যাচ্ছে। তবে ঠিক কোন কাজের জন্য কত টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল, অভিযোগকারী কে এবং এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনও কর্মীর যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।তদন্তকারীরা অভিযুক্তের ভূমিকা, আর্থিক লেনদেন এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পারেন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার বর্তমানে বহু মানুষের পরিচিত স্বাস্থ্যসমস্যা। অনিয়মিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এই সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, শুধু নিয়মিত ওষুধ খেলেই হবে না, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিনের খাবারের তালিকাতেও পরিবর্তন আনা জরুরি। বিশেষ করে অতিরিক্ত লবণ, ফাস্ট ফুড, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, বাড়তি চিনি এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। লবণে থাকা সোডিয়াম শরীরে জল ধরে রাখে, ফলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। তাই চিপস, চানাচুর, নোনতা বিস্কুট, আচার ও প্যাকেটজাত স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস কমাতে হবে। বার্গার, পিৎজা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ইনস্ট্যান্ট নুডলস এবং প্রক্রিয়াজাত মাংসেও সোডিয়াম ও অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট বেশি থাকতে পারে। পাশাপাশি ঘি, মাখন ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস পরিমিত খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত চিনি ওজন বৃদ্ধি এবং বিপাকীয় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই মিষ্টি, কেক, পেস্ট্রি, আইসক্রিম, কোমল পানীয় এবং চিনিযুক্ত ফলের রস এড়িয়ে চলাই ভালো। অতিরিক্ত অ্যালকোহল পানও রক্তচাপ বাড়াতে পারে। অন্যদিকে খাদ্যতালিকায় তাজা ফল, শাকসবজি, ডাল, বাদাম ও সম্পূর্ণ শস্য রাখা উপকারী। কলা, পেয়ারা, পেঁপে ও সবুজ শাকসবজিতে থাকা পটাশিয়াম সোডিয়ামের প্রভাব সামলাতে সাহায্য করে। তবে কিডনির সমস্যা থাকলে পটাশিয়ামযুক্ত খাবার বাড়ানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, DASH খাদ্যাভ্যাস উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, পর্যাপ্ত ঘুম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক চাপ কমানো প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় কোনও উপসর্গ ছাড়াই হৃদ্রোগ, স্ট্রোক ও কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়াও অত্যন্ত জরুরি।

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: একসঙ্গে কাজের ব্যস্ততা, নানা অভিজ্ঞতা আর পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাঝেই তৈরি হয় একটি টিমের বিশেষ বন্ধন। আর সেই বন্ধনেরই এক সুন্দর মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হল ‘শ্বেতকালী ২’ টিমের সদস্যদের। এক ফ্রেমে ধরা পড়ল গোটা টিমের সদস্যরা। মুহূর্তটি ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ স্মৃতি। কোনও ধারাবাহিক বা বিনোদনমূলক কাজের পিছনে শুধু পর্দায় দেখা অভিনেতা-অভিনেত্রীরাই নন, যুক্ত থাকেন বহু মানুষ। অভিনয় থেকে পরিচালনা, চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা এবং নেপথ্যের বিভিন্ন দায়িত্ব সামলানো প্রত্যেক সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এগিয়ে চলে একটি প্রযোজনা। তাই টিমের প্রত্যেক সদস্যের কাছে এমন একটি দলগত ছবি হয়ে উঠতে পারে বিশেষ প্রাপ্তি। কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও একসঙ্গে কাটানো সময়, হাসি-আড্ডা এবং নানা অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে স্মৃতির পাতায় জায়গা করে নেয়। ‘শ্বেতকালী ২’ টিমের এই ফ্রেমবন্দি মুহূর্তও তেমনই এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকতে পারে। সময়ের সঙ্গে কাজের ধরন বদলায়, সদস্যদের ব্যস্ততাও বাড়ে। কিন্তু ক্যামেরায় ধরে রাখা এমন মুহূর্ত বহুদিন পরেও ফিরিয়ে দিতে পারে একসঙ্গে কাজ করার দিনগুলির স্মৃতি।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারুইপুর: কালীপুজো ও দীপাবলির আগে নিষিদ্ধ শব্দবাজির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল বারুইপুর পুলিশ জেলা। মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটির ঐতিহ্যবাহী হারাল বাজি বাজারে যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ শব্দবাজি বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ। উদ্ধার হওয়া বাজির মধ্যে রয়েছে নিষিদ্ধ চকলেট বোম-সহ বিভিন্ন ধরনের শব্দবাজি। পাশাপাশি বেআইনিভাবে বাজি বিক্রির অভিযোগে পাঁচটি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দোকান মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বারুইপুরের এসডিপিও, থানার আইসি-সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। বাজারের একাধিক দোকানে তল্লাশি চালিয়ে বাজি বিক্রির বৈধতা ও সরকারি বিধি মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। পুলিশের বক্তব্য, উৎসবের আনন্দের আড়ালে নিষিদ্ধ শব্দবাজির দাপট কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, বারবার সতর্ক করা এবং সচেতনতামূলক প্রচার চালানো সত্ত্বেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি মুনাফার আশায় গোপনে নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি করছেন। এই ধরনের বাজি থেকে শব্দদূষণের পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ব্যবসায়ীদের সরকারি নিয়ম মেনে অনুমোদিত পরিবেশবান্ধব বাজি বিক্রির আবেদন জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে বাজি ব্যবসায়ী সমিতিকেও বাজারে নজরদারি চালানো, নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি বন্ধ করা এবং বেআইনি কারবারের খবর পুলিশকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের হুঁশিয়ারি, এরপরও নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি চললে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আসন্ন কালীপুজো ও ছটপুজো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সালানপুর থানায় শান্তি কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। উপস্থিত ছিলেন এসিপি কুলটি সোমনাথ সাহা, থানার আধিকারিক ও বিভিন্ন পুজো কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা হয়। নিষিদ্ধ বাজি, উচ্চ শব্দে ডিজে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মণ্ডপে সিসিটিভি, পর্যাপ্ত আলো ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় ফের পরিবর্তনের ইঙ্গিত। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমান আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই বেশ কিছু অঞ্চলে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা থেকে বেশ কিছু সময় ধরে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পরিস্থিতি থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যাঁরা প্রতিদিন কাজের জন্য বাড়ির বাইরে বের হন, তাঁদের আবহাওয়ার দিকে নজর রেখে চলাচলের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।প্রাপ্ত আবহাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের মোট ৯টি জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তালিকায় রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদীয়া, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বর্ধমান।এই জেলাগুলির বিভিন্ন এলাকায় কোথাও হালকা, আবার কোথাও মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে প্রতিটি এলাকায় একই সময়ে বৃষ্টি হবে, এমনটা নয়। আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী একেকটি অঞ্চলে বৃষ্টির সময় ও পরিমাণের তারতম্য দেখা যেতে পারে।কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও আকাশ মেঘলা থাকতে পারে, আবার কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, সালানপুর: কয়লা খনিতে ভারী ব্লাস্টিংয়ের জেরে জনবসতির বাড়িঘর কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠল বনজেমারি ওসিপিতে। মঙ্গলবার দুপুরে বিস্ফোরণের অভিঘাতে ছিটকে আসা বড় পাথর নিউ কলোনির বাসিন্দা ত্যাগী পাসওয়ানের বাড়ির অ্যাসবেস্টসের ছাদ ভেঙে ঘরের ভিতরে পড়ে। সেই সময় বাড়িতে থাকা তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা দেবীর মাথায় পাথরটি আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে আসানসোলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ভারী ব্লাস্টিংয়ের কারণে আশপাশের বাড়ির দেওয়ালে ফাটল ধরছে এবং ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। বারবার জানিয়েও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। এর প্রতিবাদে দুপুর তিনটে নাগাদ বনজেমারি ওসিপিতে বিক্ষোভ দেখিয়ে কয়লা উৎপাদন ও পরিবহণ বন্ধ করে দেন গ্রামবাসীরা। প্রায় তিন ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ছ'টায় কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে বিক্ষোভ ওঠে। আহত মহিলার চিকিৎসার দায়িত্ব, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং জনবসতি সংলগ্ন এলাকায় ভারী ব্লাস্টিং স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানান তাঁরা। প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের দাবিও উঠেছে। আপাতত সাধারণ ব্লাস্টিং বন্ধ রাখার আশ্বাস মিললেও স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত উদ্বেগ কাটছে না বাসিন্দাদের।
নিজস্ব সংবাদদাতা: ব্যাট হাতে ফের ইতিহাস গড়লেন বিরাট কোহলি। এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রান তাড়া করতে নেমে সর্বাধিক রানের মালিক হয়ে সচিন তেন্ডুলকরকে পিছনে ফেললেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। বুধবার অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম এক দিনের ম্যাচে এই নজির গড়েন তিনি। ১৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৫১ বলে ৭৪ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন কোহলি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৩টি চার ও একটি ছক্কা। কোহলির ব্যাটে ভর করেই পাঁচ উইকেটে ম্যাচ জেতে ভারত। এই ইনিংসের পর এক দিনের ক্রিকেটে রান তাড়া করতে নেমে কোহলির মোট সংগ্রহ দাঁড়াল ৮,৭৪১ রান। এত দিন এই রেকর্ড ছিল সচিনের দখলে। তিনি ২৩২টি ইনিংসে করেছিলেন ৮,৭২০ রান। মাত্র ১৬৯টি ইনিংসেই সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন কোহলি। পাশাপাশি আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। এক দিনের ক্রিকেটে তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১৩ হাজার রান করা বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার হলেন কোহলি। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং, যাঁর সংগ্রহ ১২,৬৬২ রান। একই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের ক্রিকেটে সর্বাধিক রানের নিরিখে রিকি পন্টিংয়ের ১,৯৭১ রানের নজিরেও ভাগ বসিয়েছেন কোহলি। সব মিলিয়ে অকল্যান্ডের ম্যাচটি তাঁর কেরিয়ারে আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকল।
নিজস্ব সংবাদদাতা: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খেল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। একাধিক আসনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের পরেও পরাজয়ের দায় নিজের কাঁধে নিতে নারাজ ট্রাম্প। সমাজমাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, ব্যালটে তাঁর নাম থাকলে বিপুল ভোটে জিতত রিপাবলিকানরা। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে সমর্থকদের নিজের নাম সামনে রেখে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। অথচ ফল খারাপ হতেই তিনি বলছেন, নিজে প্রার্থী না হওয়াই দলের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। বুধবার অবশ্য নির্বাচনের ফল মেনে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর হাতে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। আইনসভায় ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে গুরুত্বপূর্ণ বিল আটকে দিতে পারেন তিনি। অন্যদিকে, কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের শক্তি বাড়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত, নথি তলব এবং ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ফলে প্রেসিডেন্টের বাকি দুই বছরের শাসনকাল যে রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।

নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা: গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় নিহত কিশোরীর পরিবারের হাতে ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য তুলে দিল রাজ্য সরকার। বুধবার কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর নিহত ছাত্রীর বাবার হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন। উপস্থিত ছিলেন বনগাঁর মহকুমাশাসক প্রগতি নটিয়াল-সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। শান্তনু ঠাকুর জানান, কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়াতেই মুখ্যমন্ত্রীর তরফে এই আর্থিক সাহায্য পাঠানো হয়েছে। তবে টাকা হাতে পেলেও মেয়েকে হারানোর শোক ভুলতে পারছেন না বাবা-মা। নিহত ছাত্রীর বাবা জানান, আর্থিক সাহায্য কিছুটা স্বস্তি দিলেও মেয়েকে তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে, পরিবারের তরফে মন্ত্রীর কাছে নিহত ছাত্রীর ভাইয়ের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন শান্তনু ঠাকুর। উল্লেখ্য, গত ২৪ অক্টোবর রাতে গাইঘাটায় জলসা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল ১৭ বছরের ওই কিশোরী। পরদিন সকালে এক আত্মীয়ের বাড়ির পিছন থেকে তার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে পরিবারের এক আত্মীয় প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া: আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে সোনার দোকানে ঢুকে মালিককে মারধর করে বিপুল পরিমাণ গয়না লুটের অভিযোগ উঠল তিন দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। বুধবার রাত ৯টা নাগাদ হাওড়ার সাঁকরাইলের ঝোরহাটে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতে দোকান থেকে ক্রেতারা বেরিয়ে যাওয়ার পর একটি বাইকে চেপে তিন দুষ্কৃতী সেখানে আসে। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় হেলমেট ছিল, বাকি দু’জনের মুখ মাস্কে ঢাকা ছিল। দোকানে ঢুকেই আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে দোকানমালিকের গলা চেপে ধরে তারা। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। এরপর প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে দোকানে লুটপাট চালিয়ে সমস্ত সোনার গয়না নিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। গোটা ঘটনার ছবি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হাওড়া সিটি পুলিশের আধিকারিকরা। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত তিন দুষ্কৃতীর সন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। কত টাকার গয়না লুট হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রকাশ্য দোকানে ঢুকে এভাবে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
পাণ্ডবেশ্বরের নামুপাড়ায় প্রাক্তন তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি যমুনা ধীবরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সোমবার রাতে ২০-২৫ জন লাঠি ও শাবল নিয়ে বাড়িতে চড়াও হয়ে লুটপাট চালায়। সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। যদিও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে দায়ী করেননি। ঘটনার খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মণ্ডল সভাপতি সবিতা বাগদি।