


দুর্গাপুর: বেআইনি অস্ত্র কারবারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জামুড়িয়া ও পাণ্ডবেশ্বর এলাকা থেকে ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১২২ রাউন্ড কার্তুজ ও দুটি খালি ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে রাজ্য পুলিশের STF। দুর্গাপুরে সাংবাদিক বৈঠকে এই তথ্য জানান STF-এর এসপি সিদ্ধার্থ ধাপোলা। তদন্তে মুঙ্গের থেকে অস্ত্র এনে রাজ্যে সরবরাহের অভিযোগ সামনে এসেছে। পাশাপাশি বীরভূমের মুরারইয়ে পৃথক অভিযানে ১১৫০টি জিলেটিন স্টিক ও ১০৬৪টি ডিটোনেটর উদ্ধার হয়েছে। দুই ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছে STF।
পূর্ব বর্ধমান: সাতসকালে গোপালপুর মোড়ে বর্ধমান-আরামবাগ ৭ নম্বর রাজ্য সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল যাত্রীবোঝাই বাস। দুর্ঘটনায় শিশু-সহ প্রায় ১৬ জন আহত হয়েছেন। বাসটি আরামবাগ থেকে বর্ধমানের দিকে যাচ্ছিল। অভিযোগ, আচমকাই বাসের পাতি ভেঙে যাওয়ায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। পুলিশ ও ট্রাফিক কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বীরভূম: মুরারই থানার বড়ুয়া গোপালপুর গ্রামে STF-এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হল। ভোররাতে দুষ্কৃতীদের গোপন ডেরায় তল্লাশি চালিয়ে ১১৫০টি জিলেটিন স্টিক, ৯৮৯টি ডিটোনেটর এবং ১২ হাজার মিটার ডিটোনেটিং কর্ড উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় মহম্মদ রেজা শেখ ও মুকেশ সিং নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিস্ফোরকগুলির সম্ভাব্য ব্যবহার ও পাচারের যোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে STF-এর ATS।
আসানসোল: প্রায় এক বছর আগে জিটি রোড সংলগ্ন এজী চার্চ স্কুলে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় অবশেষে FIR গ্রহণ করল আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ। অভিযোগ, ওই ঘটনায় মারধর, স্কুল ও চার্চের কমিটি থেকে কয়েকজনকে বহিষ্কার এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ঘটনা ঘটেছিল। তৎকালীন পুলিশ অভিযোগ নিতে চায়নি বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। সম্প্রতি সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁরা বিষয়টি জানান এবং মুখ্যমন্ত্রী ও আসানসোল উত্তরের বিধায়কের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াপাড়া: বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে ক্লাব বা রাজনৈতিক দলের নামে কাউকে টাকা দিতে হবে না। সিমেন্ট, বালি-সহ নির্মাণসামগ্রী নির্দিষ্ট কোনও জায়গা থেকে কিনতে বাধ্য করা কিংবা টাকা চেয়ে চাপ সৃষ্টি করলে সরাসরি ছবি তুলে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন শ্রমমন্ত্রী তথা নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং। বৃহস্পতিবার নোয়াপাড়ার ২ নম্বর মণ্ডলের বিজয়া সম্মিলনীতে ইছাপুরের বিকাশ বসু স্মৃতি কনভেনশন সেন্টারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে সিন্ডিকেট-রাজ ও তোলাবাজি বন্ধে কড়া অবস্থানের কথা জানান তিনি। অর্জুনের স্পষ্ট বার্তা, বাড়ি তৈরি করছেন সাধারণ মানুষ। সেখানে কেউ এসে বলবে, তাঁর কাছ থেকেই সিমেন্ট-বালি নিতে হবে অথবা টাকা দিতে হবে, এমন আচরণ বাংলায় কিংবা নোয়াপাড়ায় বরদাস্ত করা হবে না। কেউ তোলাবাজি করতে এলে ছবি তুলে তাঁর কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন মন্ত্রী। সাম্প্রতিক সময়ে তোলাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী ও অর্জুন সিংয়ের মধ্যে চাপানউতোর চলছে। সেই আবহে অর্জুনের এই বার্তা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। যদিও বক্তব্যে সরাসরি কারও নাম করেননি তিনি। এদিন বারাকপুর পুরসভার বিজয়া সম্মিলনীতেও নারী নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা দেন অর্জুন। কোনও মা-বোনের গায়ে হাত তুললে তার জবাব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পরিষেবা সহজ করতে দু’মাসের মধ্যে একটি হেল্পলাইন চালুর পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন। মন্ত্রীর বক্তব্য, বিভিন্ন শংসাপত্রের জন্য ফোনে আবেদন জানালে নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় নথি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তবে আবেদনকারীদের ফার্স্ট ক্লাস জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের হলফনামা জমা দিতে হবে। কোনও আবেদনকারীকে কাজ না করে ফেরানো যাবে না বলেও দলের কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জয়ের অঙ্ক কষতে শুরু করেছে বিজেপি। তবে ভোটের প্রস্তুতির মাঝেই এনডিএ-র শরিক দলগুলির চাপ বাড়ছে গেরুয়া শিবিরের উপর। লোক জনশক্তি পার্টির (এলজেপি) নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আসন সমঝোতায় তাঁর দলকে পর্যাপ্ত আসন না দেওয়া হলে উত্তরপ্রদেশের ৪০৩টি বিধানসভা কেন্দ্রেই প্রার্থী দিতে পারে এলজেপি। চিরাগের বক্তব্য, রাজনৈতিক দল হিসেবে তাঁরা ইতিমধ্যেই রাজ্যের সব আসনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। বিজেপির সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে সেই আলোচনা ব্যর্থ হলে একাই ৪০৩টি আসনে লড়বে তাঁর দল। এর আগে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) নিয়েও বিজেপির অবস্থানের বিরোধিতা করেছিলেন চিরাগ। বিহারে ইউসিসি কার্যকর করার প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছিল তাঁর দল।
দীর্ঘ ১৮ বছর পর ফের শিল্পায়নের আশায় বুক বাঁধছে সিঙ্গুর। হুগলির এই এলাকায় বাণিজ্যিক গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা অশোক লেল্যান্ডের কারখানা তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নিউটাউনে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই সম্ভাবনার কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করেছেন, শুধুমাত্র প্রচারের স্বার্থে কোনও সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করতে চায় না সরকার। বাস্তবে শিল্প স্থাপন এবং কর্মসংস্থান তৈরিই তাদের লক্ষ্য।উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে টাটা মোটরসের ন্যানো কারখানা তৈরির জন্য সিঙ্গুরে প্রায় ৯৯৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০০৮ সালে টাটা গোষ্ঠী সিঙ্গুর থেকে প্রকল্প সরিয়ে গুজরাটের সানন্দে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অধিগৃহীত জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই জমির বড় অংশ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।বর্তমানে সিঙ্গুরে নতুন করে শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনায় আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের একাংশ। তাঁদের আশা, কারখানা তৈরি হলে এলাকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হবে। মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছেন, শিল্পের জন্য জমি নেওয়ার ক্ষেত্রে জোরজবরদস্তি করা হবে না। তবে প্রাথমিক আলোচনা কতটা বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সিঙ্গুরবাসী। শিল্পের প্রতিশ্রুতি বাস্তব কারখানা ও কর্মসংস্থানে পরিণত হলেই দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটবে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত তুমুল উত্তেজনা ছড়াল। অভিষেকের অনুগামীদের সঙ্গে এলাকার বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কালীঘাট রোড। দফায় দফায় স্লোগান, পাল্টা স্লোগানের পাশাপাশি একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে সূত্রের খবর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করে দু’পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত দেড়টা নাগাদ অভিষেকের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর অনুগামীরা বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিলেন। সেই সময় কয়েকজন বিজেপি কর্মী-সমর্থক ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন বলে তৃণমূলের অভিযোগ। পাল্টা স্লোগান ঘিরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুরু হয় ইট-পাথর ছোড়াছুড়ি ও হাতাহাতি। ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই নিজের বাড়ির সামনে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেন অভিষেক। পরে তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযোগ করেন, তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাঁর অনুগামীরা পাশে না থাকলে বড় বিপদ ঘটতে পারত বলেও দাবি করেন তিনি। বিজেপির মদতে দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ অভিষেকের। তাঁর দাবি, তাঁর ছবি-সহ কাটআউট ও পোস্টার ছেঁড়া হয়েছে, ভাঙচুর করা হয়েছে অফিসেও।

সমাজকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালাল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। এই অভিযানে মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শহর ও শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার এবং মাদক সেবনের বিরুদ্ধে পুলিশের এই তৎপরতা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।বর্তমান সময়ে মাদকাসক্তি সমাজের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যুবসমাজের একটা অংশ মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে। মাদকের নেশা শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই বিপন্ন করে না, এর প্রভাব পড়ে গোটা পরিবার এবং সামাজিক পরিবেশের উপর। অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি, পারিবারিক অশান্তি এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়ার পিছনেও মাদকের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে।এই পরিস্থিতিতে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিশেষ অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অভিযানের মাধ্যমে মাদক সংক্রান্ত বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এই উদ্যোগের ফলে মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত চক্রগুলির উপর চাপ বাড়বে বলেই মনে করছেন অনেকে।তবে শুধু গ্রেফতার করলেই মাদক সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়। মাদকের উৎস বন্ধ করা, পাচারচক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করা এবং যুবসমাজকে নেশার অন্ধকার থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য ধারাবাহিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।বিশেষ করে অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল হতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। একইসঙ্গে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের শুধু অপরাধী হিসেবে না দেখে তাঁদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: বিজেপির ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দুর্গাপুরের রাজনৈতিক মঞ্চ। বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএমকে একযোগে আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও গিরিরাজ সিং। শুক্রবার বিরিঙ্গি মোড় থেকে প্রান্তিক পাঁচমাথা মোড় পর্যন্ত মিছিলের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছাড়াও জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, সৌমিত্র খাঁ, লক্ষ্মণ ঘড়ুই, দুধকুমার মণ্ডল-সহ একাধিক বিজেপি নেতা ও জনপ্রতিনিধি। বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা যতটা বিনম্র ও সভ্য, প্রয়োজনে অস্ত্র তুলতেও জানি।” পাশাপাশি তৃণমূল ও সিপিএমের রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতেই বিরোধীরা একজোট হওয়ার চেষ্টা করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর এবং সিপিএম নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রসঙ্গ তুলেও আক্রমণ শানান তিনি। অন্যদিকে, গিরিরাজ সিং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের রেল, সড়ক ও বিমান পরিষেবার উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। ভোট চুরির অভিযোগ প্রসঙ্গে বিরোধীদের সমালোচনা করে তাঁর দাবি, রাজনৈতিকভাবে মানুষের সমর্থন হারিয়েই বিরোধীরা এমন অভিযোগ তুলছে। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশকারীদের মদত দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। যদিও এগুলি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য। সব মিলিয়ে দুর্গাপুরের এই কর্মসূচি থেকে তৃণমূল ও সিপিএমের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রচার করেন বিজেপি নেতৃত্ব।
ভুয়ো চিকিৎসক ও জাল ডিগ্রির অভিযোগ ঘিরে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে বড় পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে নথিভুক্ত প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার চিকিৎসকের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় শংসাপত্র নতুন করে যাচাই করা হবে। শুক্রবার স্বাস্থ্যভবনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। ১৯৯৬ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত নথিভুক্ত চিকিৎসকদের এই যাচাই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে। 'নো ইওর ডক্টর' বা কেওয়াইডি কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া ডিগ্রি ও শংসাপত্রের সত্যতা খতিয়ে দেখা হবে। চিকিৎসকেরা সরাসরি উপস্থিত হয়ে নথি জমা দিতে পারবেন। বয়স, অসুস্থতা কিংবা দূরত্বের কারণে যাঁদের পক্ষে আসা সম্ভব নয়, তাঁদের জন্য থাকবে ভিডিও কনফারেন্সের ব্যবস্থা। এই কাজে বেসরকারি সংস্থার সাহায্য নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। মৃত চিকিৎসক, বিদেশে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়া ব্যক্তি এবং যাঁরা আর চিকিৎসা পেশায় যুক্ত নন, তাঁদের নামও যাচাইয়ের পর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, নতুন নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমানে নথিভুক্ত সমস্ত চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বৈধ থাকবে। এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চিকিৎসা শুধু একটি পেশা নয়, মানুষের জীবন ও বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত। একজন চিকিৎসকের যোগ্যতা নিয়ে কোনও সংশয় থাকা উচিত নয়। তবে যাচাইয়ের নামে প্রকৃত ও যোগ্য চিকিৎসকেরা যাতে কোনওভাবেই হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। জাল ডিগ্রিধারীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ যাচাই প্রক্রিয়াই রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও মজবুত করতে পারে।

পাঞ্জাবের অমৃতসর থেকে পশ্চিমবঙ্গের নিউ জলপাইগুড়িগামী কর্মভূমি এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়াল যাত্রীদের মধ্যে। শুক্রবার দুপুরে পাঞ্জাবের পাতিয়ালা জেলার সরাই বানজারা রেলস্টেশনের কাছে ১২৫০৮ নম্বর ট্রেনটির চারটি কামরায় আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে সংলগ্ন কামরাগুলিতে। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। বিপদ বুঝতে পেরে ট্রেন থামানো হলে প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে কামরা থেকে নেমে পড়েন যাত্রীরা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী, রেল পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল। আগুন যাতে অন্য কামরায় ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত কামরাগুলিকে ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনটি কামরা আগুনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি কামরারও ক্ষতি হয়েছে। ট্রেনটিতে প্রায় দেড় হাজার যাত্রী ছিলেন। তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। আটকে পড়া যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে বিকল্প ট্রেনের ব্যবস্থাও করা হয়। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার আশঙ্কা করা হলেও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। রেলের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। চলন্ত ট্রেনে এমন অগ্নিকাণ্ড রেলের যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
কালীপুজোয় দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বিশেষ মেট্রো পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা মেট্রো কর্তৃপক্ষ। আগামী ৮ নভেম্বর, রবিবার ব্লু, গ্রিন ও ইয়েলো লাইনে বিশেষ সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলবে। ব্লু লাইনে মোট ১৫২টি মেট্রো চালানো হবে। নোয়াপাড়া থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল ৭টা ৫৪ মিনিটে। দক্ষিণেশ্বর থেকে শেষ মেট্রো ছাড়বে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে। অন্যদিকে, গ্রিন লাইনে স্বাভাবিক ১১১টির পরিবর্তে চলবে ১২৩টি পরিষেবা। হাওড়া ময়দান ও সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে শেষ মেট্রো পাওয়া যাবে রাত ১১টায়। ইয়েলো লাইনে চলবে ৭৮টি মেট্রো। তবে এই লাইনে সময়সূচির পরিবর্তন হচ্ছে না। অন্য রবিবারের মতো পার্পল ও অরেঞ্জ লাইনে পরিষেবা বন্ধ থাকবে।
নিজস্ব সংবাদদাতা: সুস্থ থাকতে শরীরচর্চার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে অন্ত্র খাবার হজম, পুষ্টি শোষণ এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা কিছু খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। প্রথমেই রয়েছে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার। ইনস্ট্যান্ট নুডলস, চিপস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস ও ফাস্ট ফুডে অতিরিক্ত লবণ, চিনি এবং বিভিন্ন সংযোজক উপাদান থাকে। পাশাপাশি ফাইবারের পরিমাণ কম হওয়ায় এগুলি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার। নিয়মিত ভাজাভুজি, ফাস্ট ফুড এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার খেলে হজমের সমস্যা, পেট ভার ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তৃতীয়ত, রেড মিট ও প্রসেসড মিট। মাটন, বিফের পাশাপাশি সসেজ, বেকন ও সালামির মতো খাবার অতিরিক্ত খাওয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। পরিবর্তে মাছ, ডাল, ছোলা ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ প্রোটিন খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। চতুর্থত, কৃত্রিম মিষ্টি। ডায়েট ড্রিংকস ও সুগার-ফ্রি খাবারে ব্যবহৃত কিছু কৃত্রিম মিষ্টি অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। পঞ্চমত, অ্যালকোহল। অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ অন্ত্রের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল করার পাশাপাশি হজমের সমস্যা ও প্রদাহের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্ত্র সুস্থ রাখতে শাকসবজি, মরশুমি ফল, ডাল, ওটস ও গোটা শস্যের মতো ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল পান, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, সব খাবার সবার শরীরে একই প্রভাব ফেলে না। দীর্ঘদিন হজমের সমস্যা বা পেটব্যথা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নিজস্ব সংবাদদাতা: শীতের মরশুম আসতে না আসতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি। ভালো ফলন এবং লাভের আশায় মাঠে নেমে পড়েছেন কৃষকরা। কোথাও তৈরি হচ্ছে বীজতলা, কোথাও আবার চলছে জমি প্রস্তুতির কাজ। শীতকালীন সবজির মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, লঙ্কা, মুলো, পালং শাক, ধনেপাতা-সহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের পরিকল্পনা করছেন চাষিরা। আর সেই চাষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল উন্নত মানের সবজির চারা তৈরি।
শীতকালীন সবজি চাষে ভালো ফলন পেতে হলে প্রথম থেকেই বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বীজ নির্বাচন, বীজতলা তৈরি, সঠিক সময়ে বীজ বপন এবং চারার পরিচর্যার উপর নির্ভর করে পরবর্তী সময়ে ফসলের উৎপাদন। তাই কৃষকরা এখন থেকেই চারা তৈরির কাজে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
প্রথমে চারা তৈরির জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন করতে হবে। এমন জায়গা বেছে নেওয়া ভালো যেখানে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পৌঁছায় এবং জল জমে থাকার আশঙ্কা কম থাকে। এরপর মাটি ভালোভাবে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। মাটির সঙ্গে পচা গোবর সার বা ভালোভাবে তৈরি জৈব সার মিশিয়ে বীজতলা তৈরি করা যেতে পারে। এতে চারার প্রাথমিক বৃদ্ধিতে সুবিধা হয়।
ফুলকপি ও বাঁধাকপিরকৃষকের উন্নয়ন ও আর্থিক সুরক্ষায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধির ৬০০০ টাকার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তরফে অতিরিক্ত ৩০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা করা হবে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিলে ৪ লক্ষ কৃষককে প্রতি ইউনিটে ২ টাকা ভর্তুকি, জমির পরিমাণ অনুযায়ী যোগ্য কৃষকদের বছরে ৪০০০ থেকে ১২০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়াও, ধান চাষিরা ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের পাশাপাশি কুইন্ট্যাল প্রতি অতিরিক্ত ২০০ টাকা পাবেন।
কৃষকের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য, কৃষির প্রসার এবং কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মতো সবজির ক্ষেত্রে বীজতলায় প্রথমে বীজ বপন করে চারা তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে চারাগুলি কিছুটা বড় হলে মূল জমিতে রোপণ করা হয়। একইভাবে টমেটো, বেগুন ও লঙ্কার চারাও বীজতলায় তৈরি করা যায়। তবে প্রতিটি সবজির জন্য উপযুক্ত জাত এবং বীজ বপনের সময় আলাদা হতে পারে।
শুধু বীজ বপন করলেই হবে না, চারাগুলির নিয়মিত পরিচর্যাও অত্যন্ত জরুরি। বীজ বপনের পর মাটিতে হালকা আর্দ্রতা বজায় রাখতে হবে। অতিরিক্ত জল দিলে বীজ পচে যেতে পারে এবং চারার গোড়ায় রোগ দেখা দিতে পারে। আবার মাটি অতিরিক্ত শুকিয়ে গেলেও বীজের অঙ্কুরোদ্গম ব্যাহত হয়।
চারা গজানোর পর প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা জল দিতে হবে। পাশাপাশি আগাছা পরিষ্কার রাখা এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে চারাকে রক্ষা করাও জরুরি। বীজতলায় অতিরিক্ত ঘন করে চারা তৈরি না করাই ভালো। এতে চারাগুলি পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায় এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা, আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিকাজের খরচ কমাতে একাধিক সুবিধার কথা তুলে ধরা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে। প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা, কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিলে ভর্তুকি এবং ধান বিক্রিতে বাড়তি অর্থ দেওয়ার মতো উদ্যোগ কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের আওতায় যোগ্য কৃষকরা বছরে ৬০০০ টাকা পান। এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তরফে অতিরিক্ত ৩০০০ টাকা দেওয়ার উদ্যোগ কার্যকর হলে বছরে মোট ৯০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এই অর্থ বীজ, সার, কীটনাশক কেনা এবং জমি তৈরির মতো প্রাথমিক কৃষিকাজে ব্যবহার করতে পারবেন কৃষকরা।এছাড়াও কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের খরচ কমাতে প্রায় ৪ লক্ষ কৃষককে প্রতি ইউনিটে ২ টাকা ভর্তুকি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক পাম্পের মাধ্যমে জমিতে সেচ দেন যাঁরা, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা উৎপাদন খরচ কমাতে সহায়ক হতে পারে।জমির পরিমাণ অনুযায়ী যোগ্য কৃষকদের বছরে ৪০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১২০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের পাশাপাশি অন্যান্য যোগ্য কৃষকরাও চাষের প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনার ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে পারেন।
অন্যদিকে, ধান চাষিদের জন্যও রয়েছে বিশেষ সুবিধার কথা। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা MSP-র পাশাপাশি প্রতি কুইন্ট্যাল ধান বিক্রিতে অতিরিক্ত ২০০ টাকা দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে।
পরীক্ষা, নথি যাচাই ও ইন্টারভিউয়ের ধাপ পেরিয়ে হাতে এসেছিল নিয়োগপত্র। শুধু কাজে যোগ দেওয়ার তারিখ জানার অপেক্ষা ছিল। কিন্তু আচমকাই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের একটি প্রকল্পে কর্মী নিয়োগের সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিলের সিদ্ধান্তে চরম অনিশ্চয়তায় পড়লেন নির্বাচিত চাকরিপ্রার্থীরা। গত ৫ নভেম্বর কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ICMR-DHR-এর অধীনে ভাইরাল রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি (VRDL) প্রকল্পে সায়েন্টিস্ট-বি, ল্যাব টেকনিশিয়ান, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং মাল্টি টাস্কিং স্টাফ পদে নিয়োগের জন্য এই প্রক্রিয়া চলছিল। চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, সমস্ত নিয়ম মেনেই পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ হয়েছিল। চূড়ান্ত প্যানেল প্রকাশের পর নিয়োগপত্রও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ কেন গোটা প্যানেল বাতিল করা হল, তার স্পষ্ট উত্তর মিলছে না।অন্যদিকে, কলেজের অধ্যক্ষ সব্যসাচী দাস জানিয়েছেন, কলেজ কাউন্সিলের বৈঠকে কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি ধরা পড়ায় প্যানেল বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্রুত নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের অভিযোগ, এর পিছনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকতে পারে।
আলিপুরদুয়ার: সরকারি জমিতে বসবাস বেআইনি হলেও কাউকে ইচ্ছামতো উচ্ছেদ করা যায় না। উচ্ছেদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে। জয়গাঁয় স্থলবন্দর নির্মাণকে কেন্দ্র করে চা শ্রমিকদের উচ্ছেদ বিতর্কে এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল কলকাতা হাই কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, জনস্বার্থে সরকারি প্রকল্প হলেও আইন অমান্য করে কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না।উত্তরবঙ্গের জয়গাঁয় স্থলবন্দর তৈরির জন্য চা বাগানের জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে রাজ্য। এই প্রকল্পের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী চা শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে হাই কোর্টে মামলা করে পশ্চিমবঙ্গ চা মজদুর সমিতি। আদালতে রাজ্যের দাবি, স্থায়ী বাসিন্দাদের উচ্ছেদের পরিকল্পনা নেই। তবে কোনও বাড়ি ভাঙা বা কাউকে উচ্ছেদ করতে হলে আইন মেনেই পদক্ষেপ করতে হবে।
নিজস্ব সংবাদদাতা: শ্যামাপুজোকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে উৎসবের প্রস্তুতি। আলোর সাজ, প্যান্ডেল নির্মাণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনায় ব্যস্ত পুজো উদ্যোক্তারা। এরই মধ্যে পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মেগাস্টার দেবের উপস্থিতির খবর ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। প্রিয় অভিনেতাকে সামনে থেকে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁর অনুরাগীরা।বাংলা চলচ্চিত্র জগতে দেবের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর উপস্থিতি দেখা যায়। ফলে তাঁকে ঘিরে যে কোনও অনুষ্ঠানে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি হয়। উদ্যোক্তাদের আশা, দেবের উপস্থিতিতে এবারের শ্যামাপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, সোনাখালী, বাসন্তী: সমাজের বিশিষ্ট ও শিক্ষিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং তাঁদের মতামতকে সাংগঠনিক আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে ১২৮ নম্বর বাসন্তী বিধানসভায় বিজেপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বুদ্ধিজীবী সম্মেলন। সোনাখালীর গীতাঞ্জলি ভবনে আয়োজিত এই সম্মেলনের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও সমন্বয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর প্রদীপ সরদার।জয়নগর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উৎপল নস্করের নির্দেশক্রমে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলা কমিটির সদস্য রামকৃষ্ণ প্রামাণিক, বিধানসভা ইনচার্জ অসীম সাফুঁই, জেলা জেনারেল সেক্রেটারি সঞ্জয় সিনহা-সহ বিজেপির অন্যান্য নেতৃত্ব ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।সম্মেলনে শিক্ষা, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ, কর্মসংস্থান, সামাজিক মূল্যবোধ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গ্রামীণ উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিনিময়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সমাজের শিক্ষক, অধ্যাপক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশার অভিজ্ঞ মানুষের পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতের কর্মসূচি নির্ধারণের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: অবশেষে কি বাংলায় শীতের আগমনী বার্তা? বর্ষার বিদায়ের পর ধীরে ধীরে আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। এবার কি তবে শীতের পথে আরও এক ধাপ এগোচ্ছে বাংলা? আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী শনিবার থেকেই ভোরের দিকে তাপমাত্রার পারদ কিছুটা নামতে পারে। উত্তরের ঠান্ডা হাওয়ার প্রভাবে রাজ্যের আবহাওয়ায় ধীরে ধীরে শীতের ছোঁয়া অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।আবহাওয়ার পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে উত্তরের ঠান্ডা হাওয়ার প্রবেশ। আজ থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত রাজ্যের কোথাও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই বলেই ইঙ্গিত মিলছে। আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে রাতের দিকে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত কমতে পারে। তার জেরেই আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভোরের আবহাওয়ায় পরিবর্তন অনুভূত হতে পারে।আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে ভোরের দিকে তাপমাত্রার পারদ নেমে আসতে পারে ১৮ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। যদিও সব জেলায় একই রকম তাপমাত্রা থাকবে না, তবুও সামগ্রিকভাবে আবহাওয়ায় শীতের হালকা আমেজ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল, খোলা মাঠ এবং শহর থেকে দূরে থাকা এলাকাগুলিতে ভোরের দিকে ঠান্ডার অনুভূতি বেশি হতে পারে। কালীপুজোর সকালে ঘুম থেকে উঠে বাইরে বেরোলেই হয়তো হালকা শীতের পরশ অনুভব করবেন সাধারণ মানুষ। রাতের দিকে এবং ভোরবেলায় হালকা ঠান্ডা অনুভূত হলেও দিনের বেলায় রোদের তেজ বজায় থাকতে পারে। তবে এখনই জাঁকিয়ে শীত পড়ার সম্ভাবনা দেখছেন না আবহাওয়া পর্যবেক্ষকরা। নভেম্বরের শুরুতে তাপমাত্রার এই পরিবর্তনকে শীতের প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে উত্তরের ঠান্ডা হাওয়ার প্রভাব কতটা বাড়ে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কতটা কমে, তার উপরই নির্ভর করবে শীতের আগমন কতটা দ্রুত হবে।
এদিকে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন রাজ্যের সাধারণ মানুষ। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে চাইছেন অনেকেই। বিশেষ করে সকাল ও রাতের দিকে মনোরম আবহাওয়া ফিরে এলে হাঁটতে বেরোনো, চায়ের আড্ডা কিংবা ভোরের কাজকর্মে মিলবে বাড়তি স্বস্তি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, রূপনারায়ণপুর: কালীপুজো ও দীপাবলির আগে নিষিদ্ধ শব্দবাজির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বড়সড় সাফল্য পেল রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় সামডি রোড এলাকায় একটি দোকানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ শব্দবাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়। বেআইনিভাবে শব্দবাজি মজুত ও বিক্রির অভিযোগে এক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির ASI অলক মণ্ডলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সামডি রোডের ওই দোকানে অভিযান চালায়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় প্রচুর পরিমাণে নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকারক শব্দবাজি। এরপরই দোকানের বিক্রেতাকে গ্রেফতার করা হয়। উৎসবের মরশুমে শব্দদূষণ ও পরিবেশ দূষণ রুখতে পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের মতে, উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া জরুরি। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ শব্দবাজির মজুত, বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধ করতে আগামী দিনেও অভিযান ও নজরদারি চলবে। সুপ্রিম কোর্ট এবং জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশিকা মেনে নির্ধারিত সময়ে শুধুমাত্র অনুমোদিত গ্রিন বাজি ফাটানো যাবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, কালীপুজোর দিন রাত ৮টা থেকে ১০টা এবং ছটপুজোর দিন সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত বাজি ফাটানোর অনুমতি রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে বাজি ফাটানো এবং নিষিদ্ধ শব্দবাজি ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। কারণ অতিরিক্ত শব্দবাজির কারণে শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের পাশাপাশি পোষ্য প্রাণীদেরও সমস্যা হয়। সব মিলিয়ে উৎসবের আগে রূপনারায়ণপুর পুলিশের এই অভিযান বেআইনি বাজি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকেই স্পষ্ট করল।
নিজস্ব সংবাদদাতা: টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা করলেন ভারতের তারকা পেসার মহম্মদ শামি। শুক্রবার রাতে সোশাল মিডিয়ায় আবেগঘন বার্তা দিয়ে লাল বলের ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান ৩৬ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার। ঘটনাচক্রে ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তাঁর। ঠিক ১৩ বছর পর একই দিনে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন তিনি। ৬৪টি টেস্ট ম্যাচে ভারতের হয়ে ২২৯টি উইকেট নিয়েছেন শামি। তাঁর শেষ টেস্ট ম্যাচ ছিল ২০২৩ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো পারফরম্যান্স সত্ত্বেও জাতীয় টেস্ট দলে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে আলোচনা চলছিল। রঞ্জি ট্রফিতেও নিয়মিত উইকেট পেলেও ভারতীয় দলে প্রত্যাবর্তন হয়নি তাঁর। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাই দল নির্বাচনে বারবার উপেক্ষিত হওয়ার বিষয়টিকে তাঁর অবসরের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। নিজের বার্তায় শামি পরিবার, সতীর্থ, সমর্থক, BCCI এবং ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে ক্রিকেট থেকে সম্পূর্ণ অবসর নিচ্ছেন না তিনি। সাদা বলের ক্রিকেটে বাংলার হয়ে এবং আইপিএলে খেলতে দেখা যাবে এই তারকা পেসারকে।
নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (কিফ)। ৩২তম চলচ্চিত্র উৎসবের আগে বদলে গেল উৎসবের পরিচিত লোগো। আর এই নতুন লোগোর নেপথ্যে রয়েছেন প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের পুত্র সন্দীপ রায়। গত ১ নভেম্বর নন্দনে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন লোগোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এতদিন কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের লোগোয় নীল রঙের প্রাধান্য থাকলেও এবার সেই পরিচিত রং সরিয়ে জায়গা করে নিয়েছে কালো ও গেরুয়া। ইংরেজি অক্ষরের নকশাতেও এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া।
নতুন লোগো তৈরির অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে সন্দীপ রায় বলেন, কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পুরনো নাম ছিল ক্যালকাটা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। পরবর্তীতে ক্যালকাটা থেকে কলকাতা হওয়ার পর লোগোর ইংরেজি 'C' বদলে 'K' করা হয়েছিল। সেই পুরনো নকশায় পরিবর্তন আনতে গিয়ে বেশ কিছু সমস্যা হচ্ছিল। তাই নতুন করে একটি লোগো তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তিনি। রাজ্য সরকারের তরফে নতুন লোগো তৈরির অনুরোধ পাওয়ার পরই কাজে হাত দেন পরিচালক। তাঁর কথায়, খুব বেশি নকশা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়নি। একটি নকশা তৈরি করেই সেটি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়েছে।আগামী ১৬ থেকে ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ৩২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। এবারের ফোকাস কান্ট্রি আয়ারল্যান্ড। নতুন লোগোর পাশাপাশি উৎসবের আয়োজনেও একাধিক পরিবর্তন আসছে। সব মিলিয়ে নতুন পরিচয় ও নতুন ভাবনায় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার প্রস্তুতি চলছে।
দীপাবলির আবহে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ভারতের টি-২০ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। শুক্রবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যান তিনি। এই বিশেষ সাক্ষাতে সূর্যকুমারের সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্য। সাক্ষাতের সময় ২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের সোনার পদক পরে ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটার। সেই পদক হাতে নিয়ে সূর্যকুমারের সঙ্গে ছবিও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। পরে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সাক্ষাতের ছবি ও মুহূর্তগুলি ভাগ করে নেন নরেন্দ্র মোদি। দীপাবলির আধ্যাত্মিক তাৎপর্যের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, রাম ও সরযূর আগমনে উৎসবের পরিবেশ আরও পবিত্র ও ঐশ্বরিক হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, সূর্যকুমারও এই সাক্ষাৎকে বিশেষ ও স্মরণীয় মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের টি-২০ বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন সূর্যকুমার। পরবর্তীতে তাঁর নেতৃত্বেই ২০২৬ সালে টি-২০ বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখে ভারত। এছাড়াও ২০২৫ সালে তাঁর নেতৃত্বে এশিয়া কাপ জেতে ভারতীয় দল। ক্রিকেটের সাফল্যের পাশাপাশি দীপাবলির আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই পারিবারিক সাক্ষাৎও বিশেষ আলোচনায় উঠে এসেছে।
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই আরও বড় দায়িত্ব পেলেন ভারতীয় ক্রিকেটের তরুণ প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশী। আসন্ন সৈয়দ মুস্তাক আলি টি-টোয়েন্টি ট্রফির প্রথম দুটি ম্যাচের জন্য বিহার দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। শুক্রবার বিহার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ১৭ সদস্যের দল ঘোষণা করে। সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন সূরজ কাশ্যপ। আগামী ১৪ নভেম্বর ইন্দোরে সৌরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে বিহার। ১৬ নভেম্বর দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ রেলওয়েজ। এই প্রথম বিহারের সিনিয়র দলের নেতৃত্ব দেবেন বৈভব। এর আগে দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। বিহার ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি হর্ষ বর্ধনের মতে, অল্প বয়সেই বৈভব নিজের প্রতিভা, আত্মবিশ্বাস ও পরিণত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। এই দায়িত্ব তাঁকে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেবে। উল্লেখ্য, আইপিএল ২০২৬-এ রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে ১৬ ইনিংসে ৭৭৬ রান করেছিলেন বৈভব। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও ভারতের হয়ে অভিষেক হয়েছে তাঁর। এবার ঘরোয়া ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে তাঁর পারফরম্যান্সের দিকে নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের
