ArchiveIssue Home100%

5

2026-10-20 · Issue No. 5
জেলার বার্তা
বারুইপুরে রাতভর পুজো মণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, নিরাপত্তা ও ট্রাফিকে কড়া নজর
বারুইপুর: দুর্গাপুজোয় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও যান চলাচল ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে রাতভর বিভিন্ন পুজো মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন বারুইপুর পুলিশ জেলার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। পুলিশ সুপার অরবিন্দ কুমার আনন্দ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস এবং বারুইপুর থানার আইসি শান্তনু মিত্র-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা মণ্ডপে প্রবেশ ও বেরোনোর পথ, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি পুজো উদ্যোক্তা ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার খোঁজ নেন। পরিদর্শনে কয়েকটি মণ্ডপে ত্রুটি নজরে আসায় দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার। পুজোর দিনগুলিতে যানজট এড়িয়ে দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে তৎপর বারুইপুর পুলিশ জেলা।
কলকাতা আরক্ষা ভবনে ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, যান চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নজর
কলকাতা: কলকাতা আরক্ষা ভবনে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়। শহরের যান চলাচল পরিস্থিতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং পুলিশের নজরদারি ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিতেই তাঁর এই পরিদর্শন বলে জানা গিয়েছে। ব্যস্ত কলকাতা শহরে যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা প্রশাসনের কাছে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম থেকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার যান চলাচল পর্যবেক্ষণ, ট্রাফিক পরিস্থিতির ওপর নজরদারি এবং প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উৎসব, বড় জমায়েত কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির সময় শহরের রাস্তায় যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। সেই পরিস্থিতিতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু রাখা এবং জরুরি পরিষেবার যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য পুলিশের তৎপরতা প্রয়োজন।কলকাতার মতো জনবহুল শহরে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও রাস্তায় যানবাহনের চাপ সামলাতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি কন্ট্রোল রুমের নজরদারিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করা সম্ভব হয়। কোথাও যানজট তৈরি হলে বা কোনও রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এই পরিকাঠামো সহায়ক হতে পারে।মুখ্যমন্ত্রীর এই পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও শহরের নিরাপত্তা পরিকাঠামোর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে পরিদর্শনকালে ঠিক কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বা কোনও নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
রূপনারায়ণপুরে পুজোয় ফাঁকা বাড়িতে দুঃসাহসী চুরি!
উৎসবের আনন্দ মাটি করে রূপনারায়ণপুরে ফের ঘটল এক দুঃসাহসী চুরির ঘটনা। বাড়ির মালিক দুর্গাপূজার ষষ্ঠীর দিন মেয়ের বাড়ি যাওয়ায়—এই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফাঁকা বাড়িতে হানা দেয় চোরেরা। আলমারি ভেঙে লক্ষাধিক টাকার সোনার গহনা, নগদ টাকা এবং পিতল-কাঁসার বাসনপত্র সহ পুজোর সামগ্রী নিয়ে চম্পট দিয়েছে তারা। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে রূপনারায়ণপুরের রাঙ্গামাটির ১ নম্বর সুভাষপল্লী এলাকায়।
Issue No. 5
Headline
চন্দ্রযান থিমে নজর কাড়ল বারুইপুরের রমগোপালপুর বয়েজ ক্লাবের দুর্গাপুজো
বারুইপুর: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের পুজো পরিক্রমায় রমগোপালপুর বয়েজ ক্লাব-এর ৪২তম বর্ষের এই আয়োজনটি এবারে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে। শহর ও শহরতলির গণ্ডি ছাড়িয়ে গ্রামের পুজোতেও যে থিম এবং ভাবনার মুন্সিয়ানা থাকতে পারে, এই পুজো তার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। পুজো উদ্যোক্তা শঙ্কর নস্করের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের মহাকাশ গবেষণার অগ্রগতি এবং সাফল্যকে সাধারণ মানুষের সামনে, বিশেষ করে এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে তুলে ধরার জন্যই এই অভিনব ভাবনা। এর মাধ্যমে ছোটোদের মনে বিজ্ঞান ও দেশের প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ তৈরি করার একটি সুন্দর প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।
চন্দ্রযান থিমের পাশাপাশি এই পুজোয় দর্শনার্থীরা দেখতে পেয়েছেন ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে গড়া পঞ্চ দুর্গা প্রতিমা।মণ্ডপ ও তার চত্বরজুড়ে থাকা নজরকাড়া আলোকসজ্জা পুরো পরিবেশটিকে এক অন্য রূপ দিয়েছে, যা সন্ধ্যার সময় দর্শনার্থীদের আলাদাভাবে আকৃষ্ট করেছে।
মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় জামুড়িয়ায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, চিমনি ধসে মৃত ৩
জামুড়িয়া: মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় বড় দুর্ঘটনা জামুড়িয়ার ইকড়া শিল্প তালুকে। শ্যাম সেল কারখানার ৩ নম্বর গেটের কাছে সার্থকপুর শ্মশান সংলগ্ন এলাকায় নির্মীয়মান চিমনি ভেঙে পড়ে।
নির্মাণ কাজ চলাকালীন এই ধস নামে। শেষ খবর অনুযায়ী, ৪ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ১ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ১ জন আটকে থাকতে পারে বলে অনুমান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন জামুড়িয়ার বিধায়ক বিজন মুখার্জি, পুলিশ কমিশনার সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। উদ্ধারকাজে নেমেছে দমকল ও পুলিশ। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে কমব্যাট ফোর্স।
দৈনিক সংবাদপত্র
Vol: 4
Tuesday, 20 October 2026
WB-18-0064025
zillarbarta@gmail.com
www.zillarbarta.com
মহাষ্টমীতে পুষ্পাঞ্জলি দিতে মন্দির ও মণ্ডপে ভক্তদের ঢল
আসানসোল: রাজ্যজুড়ে মহা সমারোহে পালিত হচ্ছে দুর্গাপুজোর মহাষ্টমী। সেই উপলক্ষে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন মন্দির ও পুজো মণ্ডপে ভোর থেকেই পুষ্পাঞ্জলি দিতে ভক্তদের ঢল নামে। সকাল হতেই শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও ঢাকের বোলে মুখরিত হয়ে ওঠে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পাড়া। অষ্টমীর বিশেষ তিথিতে নতুন পোশাকে সেজে পরিবারের

সদস্যদের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে হাজির হন অসংখ্য ভক্ত। নিয়ম-নিষ্ঠার সঙ্গে মা দুর্গার চরণে ফুল দিয়ে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন তাঁরা। পাশাপাশি দেবীর কাছে পরিবারের সুখ-শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সকলের মঙ্গল কামনা করেন। মহাষ্টমীকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে উৎসবের আবহ চোখে পড়ে। কোথাও ভক্তদের দীর্ঘ লাইন, কোথাও আবার পুষ্পাঞ্জলি শেষে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানোর ছবি দেখা যায়। পুজো উদ্যোক্তাদের তরফেও ভক্তদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে, মণ্ডপে ভিড় সামলানো, দর্শনার্থীদের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সকাল থেকেই তৎপর ছিল পুলিশ প্রশাসন।



আসানসোল শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মন্দির ও পুজো মণ্ডপগুলির আশপাশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সব মিলিয়ে ধর্মীয় আবেগ, ভক্তি ও উৎসবের আনন্দে মহাষ্টমীর সকাল কাটে আসানসোলবাসীর। ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্বিঘ্নে পুজো উপভোগ করাই ছিল প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
অন্ডাল মোড়ের কাছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! বাসের পিছনে সজোরে আরটিগার ধাক্কা, মৃ*ত্যু ২ জনের, আশঙ্কা ৫
দুর্গাপুর থেকে আসানসোল যাওয়ার রাস্তায় অন্ডাল মোড়ের কাছে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। একটি বাসের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে একটি আরটিগা চারচাকা গাড়ি। এই দুর্ঘটনায় দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও পাঁচজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
খুঁজে বেড়াই মানুষ
মুল্যঃ ৫ টাকা
পুজোর মুখে বস্ত্র বিতরণ, ভুরিভোজ ও রাজনৈতিক প্রচার, প্রকৃত দরিদ্রের পাশে কে?
দুর্গাপুজোর মুখে কোথাও বস্ত্র বিতরণ, কোথাও ভুরিভোজ, আবার কোথাও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে জনসংযোগ কর্মসূচি চলছে। উদ্যোগগুলি মানবিক হলেও প্রশ্ন উঠছে, প্রকৃত অসহায় মানুষের কাছে কি সাহায্য পৌঁছচ্ছে, নাকি উৎসবকে ঘিরে জনসমর্থন আদায়ই হয়ে উঠছে প্রধান লক্ষ্য? পুজো মানেই নতুন পোশাক, আনন্দ ও উৎসব। কিন্তু বহু দিনমজুর, বিধবা, অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রতিবন্ধী এবং আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত পরিবারের কাছে দুবেলা খাবার জোগাড় করাই কঠিন। তাঁদের হাতে পোশাক তুলে দেওয়া বা ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে ক্যামেরার বাইরে থাকা, সামাজিক সংকোচে সাহায্য চাইতে না-পারা মানুষগুলির খোঁজও কি নেওয়া হচ্ছে? শুধু উৎসবের কয়েক দিনের সাহায্য দারিদ্র্যের স্থায়ী সমাধান নয়। প্রয়োজন কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি, সামাজিক সুরক্ষা এবং সরকারি প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়ন। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা নাগরিকের মৌলিক চাহিদা। সরকারি সুবিধা থেকে যোগ্য মানুষ বঞ্চিত হলে জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি। ‘জেলার বার্তা’র প্রশ্ন, বস্ত্র বিতরণে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলিকে কি স্বচ্ছভাবে চিহ্নিত করে সাহায্য করা হচ্ছে? জনসেবা কোনও রাজনৈতিক অনুগ্রহ নয়, সরকারি পরিষেবা নাগরিকের অধিকার। তাই রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলির কাছে আবেদন—উৎসবের কয়েক দিনের মধ্যে সাহায্য সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর মানুষের পাশে দাঁড়ান। পুজো শেষ হলে আলো নিভবে, মণ্ডপ ভাঙবে, কিন্তু অভাবের লড়াই চলবে। ছবি তোলার বাইরেও কি অসহায় মানুষের খোঁজ নেওয়া হবে, নাকি উৎসব শেষ হলেই তাঁদের দুর্দশা ভুলে যাওয়া হবে? এই প্রশ্নের উত্তর বক্তব্যে নয়, কাজেই খুঁজবে সাধারণ মানুষ।
সম্পাদকীয়
বাংলায় ‘বুলডোজার রাজ’ বন্ধ হোক! বামপন্থীদের বুকস্টল ভাঙা নিয়ে সরব অধীর রঞ্জন চৌধুরী
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: বাংলায় বামপন্থীদের বইয়ের স্টল ভাঙাকে কেন্দ্র করে গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বুলডোজার দিয়ে বুকস্টল ভাঙার প্রতিবাদে ‘বুলডোজার রাজ’ বন্ধের দাবি উঠেছে। প্রতিবাদীদের প্রশ্ন, বই পড়া, সাহিত্যচর্চা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের বই বিক্রি করা কি অপরাধ? বুকস্টল সরাতে যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তা যদি পুজোমণ্ডপের নিরাপত্তা ও রাস্তাঘাটের উন্নয়নে কাজে লাগানো হতো, তাহলে সাধারণ মানুষের উপকার হতো। ১৭ অক্টোবর ২০২৬-এ


প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলকাতার যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে সিপিআইএমের একটি বুকস্টল সরাতে পুরসভার কর্মীরা আর্থমুভার নিয়ে পৌঁছন। এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর আগে ঢাকুরিয়া এলাকাতেও বামপন্থীদের বইয়ের স্টল ভাঙা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। প্রতিবাদীদের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও বই পড়া ও সাহিত্যচর্চার অধিকার খর্ব করা উচিত নয়। বই মানুষের চিন্তাভাবনা, যুক্তিবোধ ও সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বাংলায় দুর্গাপুজোকে ঘিরে বইয়ের স্টল বসানোর দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। রাজনৈতিক দল, প্রকাশনা সংস্থা ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলি পুজোর সময় বই বিক্রি এবং সাহিত্যচর্চার প্রসার ঘটায়। বামপন্থীদের বুকস্টলও দীর্ঘদিন ধরে এই সাংস্কৃতিক পরিসরের অংশ। সেখানে রাজনৈতিক তত্ত্ব, ইতিহাস, প্রগতিশীল সাহিত্য ও সমাজচিন্তার বই পাওয়া যায়। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় বামপন্থীদের বুকস্টলে ‘শারদোৎসব’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, বামপন্থীরা নিজেদের বুকস্টল বসানোর অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে বিতর্কটি শুধু দোকান সরানোর বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক মতাদর্শ, ধর্মীয় উৎসব, প্রশাসনিক নিয়ম ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার প্রশ্ন। এই বিতর্কে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। ওই দুর্ঘটনার পর ভিড় নিয়ন্ত্রণ, জরুরি নির্গমনপথ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


প্রতিবাদীদের দাবি, বুকস্টল সরানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি মানুষের জীবনরক্ষা ও জনসুরক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তবে বুকস্টল ভাঙা ও চোরবাগানের দুর্ঘটনা পৃথক ঘটনা; সরাসরি কার্যকারণ সম্পর্কের প্রমাণ ছাড়া দুটিকে এক করে দেখা যায় না। গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই রাস্তা ব্যবহার, অস্থায়ী দোকান স্থাপন ও অনুমতি সংক্রান্ত নিয়ম মানাও জরুরি। তাই বুকস্টল সরানোর সিদ্ধান্ত আইনসম্মত কি না, একই নিয়ম সকলের ক্ষেত্রে প্রয়োগ হচ্ছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের সমাধান রাজনৈতিক স্লোগান বা শক্তি প্রদর্শনে নয়, বরং স্বচ্ছ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আইনি প্রক্রিয়া এবং সকলের অধিকারকে সম্মান করার মধ্য দিয়েই হওয়া উচিত।
উজবেকিস্তান বিশ্বকাপে সোনা জিতল দুর্গাপুরের খুদে কিকবক্সার আরাধ্যা
দুর্গাপুর: উজবেকিস্তানের মাটিতে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করল দুর্গাপুরের আরাধ্যা ধীবর। কিকবক্সিং বিশ্বকাপে ৬টি ইভেন্টে অংশ নিয়ে ৪টি পদক জিতেছে ১০ বছরের এই খুদে।ইয়াঙ্গার ক্যাটাগরিতে ১টি সোনা, ১টি রুপো ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে আরাধ্যা। তাসখন্দে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে বিশ্বের ৫০টি দেশের ৩০৪৩ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। রাশিয়া, ইতালি, জার্মানি, চীন সহ বহু দেশের মধ্যে ভারতের হয়ে ১৯ জন খেলোয়াড় অংশ নেন, যার মধ্যে বাংলার থেকে সুযোগ পায় ২ জন।তবে এই সাফল্যের পথ সহজ ছিল না। বিমান ভাড়া, রেজিস্ট্রেশন সহ লক্ষাধিক টাকার বাজেটে বাধা হয়ে দাঁড়ায় অর্থাভাব। শেষ পর্যন্ত তার স্কুল, কিছু সংস্থা ও সমাজসেবীরা পাশে দাঁড়ান।আরাধ্যার কোচ ঈশ্বর মাঝি জানান, কম সময়ে কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমেই বিশ্বস্তরে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে সে। মেয়ে দেশের জন্য সোনা এনেছে, গর্বিত বাবা চিরঞ্জিত ধীবর ও মা কাকলি ধীবর। আগামীতে ওয়ার্ল্ড গেমস ও এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে আরাধ্যা।
কলকাতা কাণ্ডের পর সতর্ক আসানসোল প্রশাসন, পুজো প্যান্ডেল পরিদর্শনে বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি
আসানসোল: কলকাতায় দুর্গা পুজো প্যান্ডেলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর আসানসোলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তৎপর প্রশাসন।আজ সকালে আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে শহরের বিভিন্ন দুর্গা পুজো প্যান্ডেল পরিদর্শন করেন। প্যান্ডেলে ভিড়ের চাপ, দর্শনার্থীদের যাতায়াতের পথ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন তিনি।কলকাতার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পুজোর সময় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত থাকে, তার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
মুখ ও মুখোশ
২
Tuesday, 20 October 2026
১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, লরির ধাক্কায় গুরুতর আহত ৪ যুবক
কাঁকসা: ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। লরির ধাক্কায় গুরুতর আহত হলেন চার বাইক আরোহী। আহতদের সকলের বাড়ি কাঁকসার মোল্লাপাড়া এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুরের দিক থেকে কলকাতাগামী একটি লরি কাঁকসার মাস্টারপাড়া সংলগ্ন আন্ডারপাসের কাছে রেড সিগন্যাল অমান্য করে বেপরোয়া গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় ডাকবাংলোর দিক থেকে মোল্লাপাড়ার দিকে যাওয়া একটি বাইকে চার যুবক আন্ডারপাস পার হচ্ছিলেন। লরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাইকটিকে সজোরে ধাক্কা মারে এবং প্রায় ২০ মিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কাঁকসা থানার পুলিশ ও ট্রাফিক গার্ড। স্থানীয়দের সহযোগিতায় চারজনকে উদ্ধার করে প্রথমে পানাগড় ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাস্থলে এসিপি, আইসি ও ট্রাফিক এসিপি পৌঁছালে তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, ওই আন্ডারপাসে ট্রাফিক আইন ঠিকমতো মানা হয় না এবং পুলিশি নজরদারির অভাব রয়েছে।
কালীমন্দিরের পিছন থেকে উদ্ধার সদ্যজাত কন্যা সন্তান
সালানপুর: সপ্তমীর ভোরে মানবিকতার নজির সালানপুরে। দেন্দুয়ার পাশে রামডি কালীমন্দিরের পিছন থেকে এক সদ্যজাত কন্যা সন্তানকে উদ্ধার করল পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ থানায় একটি ফোন আসে, মন্দিরের পিছন থেকে শিশুর কান্নার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। খবর পেয়েই সালানপুর থানার আইসি বিশ্বজিৎ মণ্ডলের নির্দেশে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দেখা যায়, সদ্যজাতের শরীরে তখনও নাড়ি জড়ানো রয়েছে। অনুমান, ঘণ্টা দুয়েক আগেই তাকে সেখানে ফেলে যাওয়া হয়েছে।এরপর স্থানীয় মহিলাদের সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধার করে পিঠাকিয়ারি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. তন্ময় মণ্ডলের তৎপরতায় চিকিৎসক ও নার্সরা তার চিকিৎসা শুরু করেন। পরে তাকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিষয়টি সিডব্লুসিকে জানানো হয়েছে।বর্তমানে শিশুটি বিপদমুক্ত। পুলিশ, চিকিৎসক ও স্থানীয়দের এই যৌথ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
৩
Tuesday, 20 October 2026
পূর্ব বর্ধমানে স্বাস্থ্য দফতরে ২৭টি পদে নিয়োগ, মাসিক বেতন সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা!
পশ্চিমবঙ্গের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর। পূর্ব বর্ধমানের জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সমিতি (DH&FWS) ২০২৬ সালে ব্লক ডেটা ম্যানেজার এবং স্টাফ নার্স পদে মোট ২৭ জন কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তি নম্বর 320/DH&FWS/II-3 অনুযায়ী, যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২৬। এই নিয়োগে ব্লক ডেটা ম্যানেজার পদে ৬ জন এবং স্টাফ নার্স পদে ২১ জন নেওয়া হবে। ব্লক ডেটা ম্যানেজার পদে মাসিক বেতন ২২,০০০ টাকা এবং স্টাফ নার্স পদে ২৫,০০০ টাকা। তবে দুটি পদই চুক্তিভিত্তিক এবং প্রাথমিকভাবে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত নিয়োগের মেয়াদ নির্ধারিত হয়েছে।


শিক্ষাগত যোগ্যতা: ব্লক ডেটা ম্যানেজার পদে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং সরকারি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান থেকে কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে অন্তত এক বছরের ডিপ্লোমা থাকতে হবে। পাশাপাশি সরকারি ক্ষেত্রে ৩ বছর অথবা বেসরকারি ক্ষেত্রে ৫ বছরের ডেটা রেকর্ডিং ও বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। স্টাফ নার্স পদে GNM অথবা B.Sc Nursing পাশ এবং পশ্চিমবঙ্গ নার্সিং কাউন্সিলে নিবন্ধন থাকা বাধ্যতামূলক।

প্রার্থীদের পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং বাংলা ভাষায় পড়া, লেখা ও কথা বলার দক্ষতা থাকতে হবে। ১ জানুয়ারি ২০২৬ অনুযায়ী বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৪০ বছর; ব্লক ডেটা ম্যানেজারের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বয়স ২১ বছর। সংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থীরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বয়সে ছাড় পাবেন।

সাধারণ প্রার্থীদের আবেদন ফি ১০০ টাকা এবং সংরক্ষিত শ্রেণির জন্য ৫০ টাকা। ব্লক ডেটা ম্যানেজার পদে শিক্ষাগত যোগ্যতার নম্বর ও ৭০ নম্বরের কম্পিউটার টেস্টের ভিত্তিতে নির্বাচন হবে। স্টাফ নার্স পদে যোগ্যতা পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।

আগ্রহী প্রার্থীরা wbhealth.gov.in অথবা purbabardhaman.nic.in ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করুন। আবেদন করার আগে সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি পড়ে যোগ্যতা, নথিপত্র ও ফি জমার নিয়ম যাচাই করে নিন।
কর্মক্ষেত্র
মন্দিরবাজার বাসস্ট্যান্ডে প্রথমবার সার্বজনীন দুর্গাপুজো, সাবেকি আয়োজনেই মাতোয়ারা এলাকাবাসী
নিজস্ব সংবাদদাতা, মন্দিরবাজার: চোখধাঁধানো থিম কিংবা জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন নয়, সাবেকি রীতিনীতি, ভক্তি ও সেবার মানসিকতাকে সঙ্গী করেই দুর্গাপুজোর আনন্দে মেতেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকা। ‘বাবা কেশবেশ্বর সেবা প্রতিষ্ঠান’-এর উদ্যোগে এবছর প্রথমবারের জন্য শুরু হয়েছে সার্বজনীন দুর্গাপুজো। অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে এই পুজো শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে বাড়তি উৎসাহ।

উদ্যোক্তাদের দাবি, মন্দিরবাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এর আগে সার্বজনীন দুর্গাপুজোর প্রচলন ছিল না। সেই অভাব পূরণ করতেই প্রতিষ্ঠানের সদস্য ও সেবাইতরা এবার পুজোর আয়োজন করেছেন। প্রথম বছরেই স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা ও সমর্থন পেয়ে খুশি উদ্যোক্তারা।

এবারের পুজোয় নেই বড় কোনও থিম। এক কাঠামোর প্রতিমা এবং তৈরি সেটের আটচালায় সাবেকি রীতিতে চলছে দেবী দুর্গার আরাধনা। উদ্যোক্তাদের মতে, বাহ্যিক জাঁকজমকের চেয়ে মানুষের মধ্যে ভক্তি, সম্প্রীতি ও সেবার মনোভাব গড়ে তোলাই এই পুজোর মূল উদ্দেশ্য। পুজোর প্রস্তুতি থেকে শুরু করে সমস্ত কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের সদস্য ও সেবাইতরা। অল্প সময়ের মধ্যে পুজোর আয়োজন করতে তাঁদের সম্মিলিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।



বাবা কেশবেশ্বর সেবা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি প্রদীপ হালদার জানান, মন্দিরবাজার বাসস্ট্যান্ডে আগে কোনও সার্বজনীন দুর্গাপুজো ছিল না। এবারই প্রথম এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুজোর জন্য সরকারি অনুদান মিলেছে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাও উদ্যোক্তাদের উৎসাহ জুগিয়েছে। প্রথম বছর হওয়ায় নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও সকলের সহযোগিতায় পুজো পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারও বিভিন্ন কাজ তদারকি করছেন।
পুজোর দিনগুলিতে ভক্তদের জন্য থাকছে বিশেষ আয়োজন। রীতি মেনে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে মায়ের ভোগ বিতরণ করা হবে। পুজোকে ঘিরে শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষের মধ্যেই উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। থিমের চাকচিক্য না থাকলেও দেবীর আরাধনা ও উৎসবের আনন্দে শামিল হচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা।
এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য, এখানে কোনও বলিপ্রথা চালু করা হয়নি। সভাপতি প্রদীপ হালদারের কথায়, জীবের সেবাই প্রকৃত সেবা। সেই ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়েই পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি জীবের প্রতি সহমর্মিতা ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। তাঁদের মতে, দুর্গাপুজো শুধু উৎসব নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনেরও একটি সুযোগ।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দশমীতে মন্দিরবাজার থানার কাছে অবস্থিত পুকুরে প্রতিমা বিসর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে, প্রথম বছরেই বাবা কেশবেশ্বর সেবা প্রতিষ্ঠানের এই উদ্যোগ মন্দিরবাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মিলনমেলার রূপ নিয়েছে। সাবেকি পুজো, ভোগ বিতরণ, সম্প্রীতি ও জীবসেবার বার্তায় আগামী দিনে এই পুজো আরও বড় পরিসরে এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদী উদ্যোক্তারা।
ঘুরে আসি
৪
Tuesday, 20 October 2026
জেলার বার্তা, ডায়মন্ড হারবার, দক্ষিন ২৪ পরগনা,পিন ৭৪৩৩৩১, জেলার বার্তা নেটওয়ার্ক প্রিন্ট হাউস, Ph: 7478809472, Email: zillarbarta@gmail.com
বনগাঁয় সিপিএমের বইয়ের স্টল নিয়ে জট, একক বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ রাজ্যের
নিজস্ব সংবাদদাতা: দুর্গাপুজোর সময় উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় সিপিএমের বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্টের একক বেঞ্চ। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার।
একক বেঞ্চের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার ও থানার আইসিকে সিপিএমের বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছিল। দল যেখানে চাইবে, তার ১০০ মিটারের মধ্যে স্টল তৈরির সুযোগ দেওয়ার কথাও নির্দেশে উল্লেখ ছিল। পাশাপাশি, আদালতের নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কি না, তা জানাতে পুলিশ সুপারের রিপোর্টও তলব করা হয়।
রাজ্যের দাবি, মামলাটি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে শোনার এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রস্টার অনুযায়ী, তাঁর বেঞ্চে মূলত পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা বা অতিসক্রিয়তা সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। এই মামলার সঙ্গে সেই বিষয়ের সরাসরি যোগ নেই বলে যুক্তি দেয় রাজ্য। জরুরি শুনানির আবেদন মঞ্জুর করেন প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে। ষষ্ঠীর দিন, ১৬ অক্টোবর ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানির কথা ছিল। পরবর্তী শুনানির জন্য একক বেঞ্চ ২৩ নভেম্বর দিন ধার্য করেছিল।
রঞ্জি ট্রফিতে ইতিহাস চিন্ময় সুতারের, ৭৮ বছর পর ৪০০ রানের নজির
নিজস্ব সংবাদদাতা: ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়লেন মিজোরামের অলরাউন্ডার চিন্ময় সুতার। নাগাল্যান্ডের বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে অপরাজিত ৪০০ রান করে নজির গড়েছেন ২৯ বছরের এই ক্রিকেটার। রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে এক ইনিংসে ৪০০ বা তার বেশি রান করা দ্বিতীয় ব্যাটার হলেন তিনি। এর আগে ১৯৪৮-৪৯ মরশুমে মহারাষ্ট্রের হয়ে কাঠিয়াওয়ারের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৪৪৩ রান করেছিলেন বিবি নিম্বলকর। দীর্ঘ ৭৮ বছর পর ফের সেই কৃতিত্বের পুনরাবৃত্তি হল।
নাগাল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৫১৭ বলের ধৈর্যশীল ইনিংসে ৪৬টি চার ও ৭টি ছক্কা হাঁকান চিন্ময়। তাঁর দুরন্ত ব্যাটিংয়ের সুবাদে মিজোরাম প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ৫৮১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক চিন্ময়ের পাশাপাশি জেহু অ্যান্ডারসন করেন ৬৯ রান।
এই ঐতিহাসিক ইনিংসের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শেষ উইকেটে লালরেমপুইয়া চাকচুয়াকের সঙ্গে তাঁর ১৮৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। সেই সময় চিন্ময়ের রান ছিল ২৩১। শেষ ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে নেমে ৭৬ বল খেলে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন লালরেমপুইয়া। তাঁর ধৈর্যশীল সঙ্গেই চারশোর মাইলফলক স্পর্শ করেন চিন্ময়।
মুম্বইয়ের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা চিন্ময় চলতি মরশুমে মিজোরামের প্রতিনিধিত্ব করছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই এমন ঐতিহাসিক ইনিংস খেলে ক্রিকেটবিশ্বের নজর কেড়েছেন তিনি। ব্রায়ান লারা, ডন ব্র্যাডম্যানদের মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে একই তালিকায় জায়গা করে নেওয়া চিন্ময়ের এই কীর্তি ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ছেলের উপর গুলিচালনার ঘটনার পর প্রথম প্রকাশ্যে জ্যাকি শ্রফ
ছেলে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার পর প্রথমবার প্রকাশ্যে দেখা গেল বলিউড অভিনেতা জ্যাকি শ্রফকে। মুম্বইয়ে প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী বাপ্পি লাহিড়ির স্মরণে রাস্তার নামকরণ ও ফলক উন্মোচনের অনুষ্ঠানে হাজির হন তিনি। সাদা পোশাকে হাতে একটি চারাগাছ নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন অভিনেতা। তাঁর এই উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। অনুষ্ঠানে জ্যাকি শ্রফ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সুনীল শেট্টি, পুনম ঢিলোঁ, শরদ কেলকর ও গুলশন গ্রোভার। মুম্বইয়ের যে এলাকায় বাপ্পি লাহিড়ি দীর্ঘ ৪৫ বছর কাটিয়েছিলেন, সেই এলাকার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং ভারতীয় সঙ্গীতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিতে বরাবরই দেখা যায় জ্যাকি শ্রফকে। এবারও হাতে চারাগাছ নিয়ে সেই বার্তাই তুলে ধরলেন তিনি।উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। একটি ফুটবল ক্লাব থেকে ফেরার পথে ঘটনাটি ঘটে। টাইগার নিরাপদ থাকলেও তাঁর গাড়িচালক ও এক পথচারী আহত হন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মুম্বই পুলিশ। ছেলের উপর হামলার পর জ্যাকি শ্রফের এই প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি ঘিরে কৌতূহল তৈরি হলেও, গোটা ঘটনা নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।
কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ অঞ্চলে আবহাওয়া মোটের উপর শুষ্ক ও পরিষ্কার
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: মহা অষ্টমীর পুণ্যলগ্নে সকল পশ্চিমবঙ্গবাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। দুর্গাপুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিনে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ অঞ্চলে আবহাওয়া মোটের উপর শুষ্ক ও পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। ফলে পুজোর আনন্দ, মণ্ডপে মণ্ডপে ঠাকুর দেখা এবং মহা অষ্টমীর অঞ্জলি দেওয়ার ক্ষেত্রে আবহাওয়া অনেকটাই অনুকূল থাকতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে আকাশ প্রধানত পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকতে পারে। বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকলেও বাতাসে আর্দ্রতার কারণে দুপুরের দিকে গরম ও ঘর্মাক্ত অনুভূতি হতে পারে। অস্বস্তি সূচক প্রায় ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি অনুভূত হতে পারে।সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে উষ্ণ থাকতে পারে। বিশেষ করে দুপুরের দিকে রোদ ও আর্দ্রতার কারণে বাইরে বেরিয়ে পুজো দেখতে যাওয়া মানুষের কিছুটা অস্বস্তি হতে পারে। তাই যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরবেন, তাঁদের পর্যাপ্ত জল পান করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।তবে সন্ধ্যার পর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে। ফলে রাতের দিকে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোররাতের দিকে হালকা শীতের আমেজও অনুভূত হতে পারে।দুপুরের গরম ও আর্দ্রতার কথা মাথায় রেখে শিশু, প্রবীণ এবং শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। ভিড়ের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ থাকলে শরীরে জলের ঘাটতি যাতে না হয়, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ অঞ্চলে শুষ্ক আবহাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আজ পুজোর আনন্দে বিশেষ বাধার আশঙ্কা কম। তবুও বাইরে বেরোনোর আগে সর্বশেষ স্থানীয় আবহাওয়ার আপডেট দেখে নেওয়া ভালো।